- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- সুভা (গদ্য)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
নয়ন বেশ মেধাবী ও নম্র-ভদ্র এক কিশোর। কিন্তু তার একটি পা খোঁড়া। ক্যাচে ভর দিয়ে স্কুলে যায়। নয়নের বাবা রোজ স্কুলের গেটে তাকে দিয়ে আসেন আবার ছুটির সময় এসে নিয়ে যান। বাবা নয়নকে খুব ভালোবাসেন; তার সব বায়না মিটিয়ে দেন। স্কুলের শিক্ষকগণ ও ছাত্ররা তাকে সহযোগিতা করে। আবার কেউ কেউ খোঁড়া বলে বিরক্ত করে। তখন তার মন খারাপ হয়ে যায়। বাবা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে 'তুমি অনেক বড় হয়ে সবাইকে বুঝিয়ে দেবে জীবনে সফল হবার ক্ষেত্রে পঙ্গু হওয়াটা কোনো বাধা নয়।
উদ্দীপকের মাহফুজের বাবা কী গল্পের সুভার বাবার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে? তোমার সপক্ষে যুক্তি দাও।
পিতৃসুলভ মমত্ববোধের প্রকাশে উদ্দীপকের নয়নের বাবা ও 'সুভা' গল্পের সুভার বাবার মাঝে মিল থাকলেও সন্তানকে অনুপ্রেরণা জোগানোর দিক থেকে সুভার বাবা নয়নের বাবার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না।
পৃথিবীর প্রত্যেক বাবাই তার সন্তানকে ভালোবাসেন। সন্তান যতই কুৎসিত, দুষ্টু, প্রতিবন্ধী হোক না কেন সন্তানের জন্য বাবার থাকে প্রাণভরা আশীর্বাদ ও ভালোবাসা। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রতি বাবাদের খেয়াল থাকে অন্যরকম। যা নয়নের বাবা ও সুভার বাবার মধ্যে লক্ষণীয়।
'সুভা' গল্পের সুভা সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক কিশোরী। বাবা ব্যতীত সবাই তাকে বোঝা মনে করে এবং ছোটবেলা থেকেই তাকে এ মনোভাবটির সাথে পরিচিত হতে হয়। সুভার মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক হিসেবে জ্ঞান করলেও বাবা তাকে অন্যদের থেকে বেশি ভালোবাসা দেয়।
তবে সমাজবাস্তবতার প্রতিকূলতা মোকাবিলার ক্ষেত্রে অসহায়ত্বের পরিচয় দেয় সে। উদ্দীপকের নয়নের ক্ষেত্রে তার খোঁড়া পা স্বাভাবিক জীবনযাপনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়। অনেকের ঠাট্টা-বিদ্রুপের শিকার হলেও তার মনোবল বজায় রাখতে বাবা তাকে উৎসাহ দেয় এবং সার্বিক সহায়তা করে। তাকে বড় হবার স্বপ্ন দেখায়।
সুভার ক্ষেত্রেও তার বাবার ভালোবাসার দিকটি দেখা গেছে। কিন্তু প্রেক্ষাপটগত ভিন্নতার কারণে তার মাঝে আমরা ভিন্ন ধরনের আচরণ লক্ষ করি। উদ্দীপকের নয়নের বাবা ও গল্পের সুভার বাবা দুজনেই নিজ নিজ সন্তানকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। কিন্তু উদ্দীপকের নয়নের বাবা সন্তানের মাঝে প্রতিবন্ধকতা জয়ের জন্য মানসিক শক্তি জোগান।
তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে আদর্শ মানুষে পরিণত করার স্বপ্ন দেখেন। এর বিপরীতে সুভার বাবা মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েকে বিয়ে দিতে কলকাতায় যাওয়ার উদ্যোগ নেন। ফলে নয়ন প্রতিবন্ধী হলেও যেমন সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখতে পারে তেমন সৌভাগ্য হয় না সুভার।
সুভার জন্য তার বাবা এমনভাবে অনুপ্রেরণাদাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন নি বলেই উদ্দীপকের নয়নের বাবা ও সুভার বাবা চরিত্রটি সম্পূর্ণরূপে একই ধারায় প্রবাহিত হয়নি। তাই এসব বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকের নয়নের বাবা 'সুভা' গল্পের সুভার বাবার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
প্রতাপ সুভাকে কী বলে ডাকত?
প্রতাপ সুভাকে 'সু' বলে ডাকত।
মা সুভাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করত কেন?
সুভা প্রতিবন্ধী, তাই তার মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করত। বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার কথা বলার ক্ষমতা নেই বলে সে সবার কাছে মূল্যহীন ও অপ্রয়োজনীয়। মায়েরা সন্তানদের সব সময়ই নিজের একটা অংশ মনে করে।
উদ্দীপকের ভাববস্তু 'সুভা' গল্পের কোন দিক নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
পুত্র সন্তানের চেয়ে কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে তাদের এ বোধটি আরও প্রবল হয়ে থাকে। মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ার জন্য সুভার মা নিজেকেই 'দায়ী বলে ভাবত। তাই সুভাকে সে গর্ভের কলঙ্ক মনে করত এবং তার ওপর বিরক্তিবোধ করত।
উদ্দীপকের ভাববস্তু 'সুভা' গল্পের সন্তানের প্রতি বাবার সহানুভূতি ও স্নেহের দিক নির্দেশ করে। প্রত্যেক সন্তানই তার বাবার কাছে প্রিয়। বাবা তার হৃদয় নিংড়ানো সমস্ত ভালোবাসা উজাড় করে সন্তানকে ভালোবাসেন। প্রতিবন্ধী সন্তানের ক্ষেত্রে বাবারা স্বাভাবিক সন্তানের চেয়ে বেশি যত্নশীল। সন্তানকে সাহস ও মনোবল জোগানোর জন্য বাবা অনন্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। যা উদ্দীপকের ভাববস্তু ও গল্পের ভাববস্তুতে ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নয়ন প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার বাবা তার প্রতি খুবই সহানুভূতিশীল। তার একটি পা খোঁড়া হওয়ায় তার বাবা প্রতিদিন ক্যাচে করে নয়নকে স্কুলে পৌঁছে দেয়। স্কুলের কেউ কেউ তাকে খোঁড়া বলে বিরক্ত করলে তার বাবা তাকে সান্ত্বনা দেয়। সন্তানকে সে কখনো অবহেলা করে না।
উদ্দীপকের নয়নের বাবার মতো 'সুভা' গল্পের সুভার বাবাও সুভার প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল। সুভার মা সুভাকে নানা কটুকথা বললেও তার বাবা তাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভালোবাসা পাওয়ার দাবি রাখলেও সুভা ও নয়ন তাদের প্রত্যাশিত ভালোবাসা পায়নি। সমাজের কাছে দু'জনই বোঝা ও অভিশাপ হিসেবে গণ্য হয়েছে।

