• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • সুভা (গদ্য)
সুভা (গদ্য)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

চঞ্চল স্বভাবের সাবিনা দেখতে যেমন সুন্দরী, তেমনি বুদ্ধিতে প্রখর। কিন্তু জন্ম থেকেই সে বাক-প্রতিবন্ধী। কথা না বললেও সব কথা বুঝতে পারে সে। সে যখন বাইরে আসে প্রতিবেশী ছেলে মেয়েরা তাকে বিরক্ত করে। বড়রাও আড়ালে আবডালে তাকে নিয়ে কুৎসা রটনা করে। এতে সাবিনা খুব কষ্ট পায় তাই মানুষের সামনে সে যেতে ভয় পায়। মায়ের কাছেও সে প্রশ্রয় পায় না মা বিরক্ত হয়। এভাবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে একটু একটু করে সবার কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করে নেয়।

উদ্দীপকে গাবিনার যে সংবেদনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায় তার প্রতিফলন ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে সাবিনার যে সংবেদনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায় সুভার মাঝে সে নিজেকে আড়াল করার মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটেছে। সংবেদনশীলতা হলো এক ধরনের অনুভূতির প্রখরতা। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনায় কষ্ট পাওয়া, আনন্দে উদ্বেগ হওয়া সংবেদনশীল মানুষের বৈশিষ্ট্য।

সাধারণত শৈশবকাল থেকেই মানুষের মাঝে আস্তে আস্তে এই বৈশিষ্ট্যটি বিস্তার লাভ করতে থাকে 'সুভা'। গল্পের সুভা ও সাবিনার মধ্যে এমনি সংবেদনশীল মনোভাব লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের সাবিনা জন্ম থেকেই বাক প্রতিবন্ধী। কিন্তু সে প্রতিবন্ধী হলেও দেখতে খুবই সুন্দরী এবং বুদ্ধিতে প্রখর। কথা বলতে না পারলেও সে সবকিছু অনুভব করতে পারে।

তার এই প্রতিবন্ধীতার কারণে প্রতিবেশী ছেলেমেয়েরা ও তার গর্ভধারিণী মা বিরক্ত এবং তারা তার নামে নানা ধরনের কুৎসা রটনা করে। এসব কারণে গাবিনা ভীষণ কষ্ট পায় এবং নিজেকে সবার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। 'সুভা' গল্পের সুভার মাঝে ও এমনি সংবেদনশীলতার পরিচয় পাওয়া পায়। প্রতিবন্ধী সুভাও বুঝতে পারে তাকে নিয়ে তার পরিবার চিন্তিত।

বাইরের লোকজন বিরক্ত, তাই সে নিজেকে সবার থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। সুভা নিজে নিজে আলাদা একটি জগৎ তৈরি করেছে এবং সেই জগতের মাঝে নিজেকে ব্যস্ত রাখে। সে আশা করে, সবাই যেন তাকে ভুলে থাকে। তাই সঙ্গত কারণেই বলা যায়, উদ্দীপকের সাবিনার মাঝে যে সংবেদনশীলতা তা সুভার মাঝেও পরিলক্ষিত হয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

কে সুভার মর্যাদা বুঝত?

প্রতাপ সুভার মর্যাদা বুঝত।

#

সুভা নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করত কেন?

প্রতিবন্ধীতার কারণে সুভাকে নিয়ে তার পরিবারের লোকজন বড়ই উদ্বেগ ছিল বলে সুভা নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করত। সুভা কথা বলতে না পারলেও বাইরের জগতের সবকিছু সে অনুভব করত। সুভার এ ধরনের অনুভূতি প্রখরতার পরিচয় না জেনে অনেকেই তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করত। ছোটবেলা থেকেই পরিবার ও বাইরের জগতের মানুষের কাছে বিরূপ আচরণের শিকার হতে হতে সে নিজেকে বিধাতার অভিশাপ ভাবতে শুরু করে।

#

সুভা ও গাবিনার মত বাক-প্রতিবন্ধীদের জন্য আমাদের কী দায়িত্ব রয়েছে? বিশ্লেষণসহ মতামত দাও।

সুভা ও সাবিনার মতো বাক-প্রতিবন্ধীদের জন্য আমাদের উপযুক্ত সমাজ তৈরি করতে হবে, যাতে তারা সুষ্ঠু বিকাশের সুযোগ পায়। প্রতিবন্ধীরা এখন আর আমাদের সমাজের বোঝা নয়। তাদেরকে উপযুক্ত সুযোগ দিলেও তারা এ দেশসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সমর্থ হবে।

এজন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উচিৎ সুবিধা বঞ্চিত এসব শিশুদের উপযুক্তভাবে গড়ে তোলা। উদ্দীপকের সাবিনা একজন প্রতিবন্ধী। সে যথেষ্ট মেধাবিনী ও অনুভূতিশীল কিশোরী। প্রতিবন্ধিতার কারণে সে পরিবার ও প্রবিবেশিদের কাছে বোঝা। তাকে নিয়ে সবাই কুৎসা রটনা করে। তাই সাবিনা নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করে রাখে।

'সুভা' গল্পের সুভার ক্ষেত্রেও এক ঘটনার অবতারণা লক্ষ করা যায়। সেও পরিবার ও সমাজ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে। কারণ সে বুঝতে পারে সবার কাছে সে অবাঞ্চিত। উদ্দীপকের সাবিনা ও 'সুভা' গল্পের সুভা উভয়ের ক্ষেত্রেই আমরা লক্ষ করি তার সমাজে বিকৃত ও অসভ্য মানুষের নিষ্ঠুর আচরণের শিকার। কিন্তু সমাজের মানুষের বোঝা উচিৎ যে, এরা আমাদেরই কারো না কারো স্বজন।

এদের বিবেক, বুদ্ধি, মেধা যথেষ্ট। শুধু উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে তারা বিকশিত হতে পারে না। উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও যত্ন নিয়ে তারাও দেশের মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে। প্রতিবন্ধীদের রয়েছে অনুভূতির এক জগৎ। সেই জগৎকে আমাদের বুঝতে হবে এবং শ্রদ্ধা করতে হবে। তাদেরকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।