• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • সুভা (গদ্য)
সুভা (গদ্য)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

সাবিনা ও শাকিলের সুখের সংসার। ঘরে তাদের দুই পুত্র সন্তান। স্বামী-স্ত্রীর খুব শখ একটা কন্যা সন্তানের। বছর দুয়েক পর তাদের ঘরে ফর্সা ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। সাবিনার কী যে আনন্দ! কিন্তু দশবছর বয়সেও মেয়েটি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। সাবিনার বুঝতে বাকি থাকেনা মেয়ে প্রত্যাশা প্রতিবন্ধী। মেয়ের এ অবস্থায় সাবিনার দুশ্চিন্তার সীমা থাকে না, সে ভাবে এ তার পাপের ফসল। ভবিষ্যতে মেয়েকে পাত্রস্থ করবে কীভাবে এ ভাবনায় নানা উদ্বেগের সাথে তার দিন কাটে।

সুভা নিজেকে সর্বদা গোপন রাখার চেষ্টা করত কেন?

প্রতিবন্ধী সুভা বুঝতে পারে সমাজ-সংসার তাকে বোঝা মনে করে তাই সব সময় সে নিজেকে গোপন রাখার চেষ্টা করত। সুভা বোবা ছিল বলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তায় ছিল। কথা না বলতে পারলেও তার মধ্যে যে এক ধরনের অনুভূতি শক্তি আছে এ কথাটি কেউ ভাবত না।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

'সুভা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?

'সুভা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলিত হয়েছে।

#

উদ্দীপকের প্রত্যাশা চরিত্রটি 'সুভা' গল্পের কোন চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

শিশুকাল থেকেই সুভা বুঝে গিয়েছিল যে, সংসারে সে কারো কাছেই সুদৃষ্টিপ্রাপ্ত নয়। এর ফলে তার ভেতরে এক ধরনের হীনমন্যতা তৈরি হয়েছিল। তাই সে নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করত।

অবহেলা ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্নতার দিক থেকে প্রত্যাশা ও সুভার মধ্যে সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। প্রতিবন্ধীরা সমাজে অন্যান্য মানুষের মত স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারে না। তারা সব সময় নিজেকে গুটিয়ে রাখে এবং এক হীনমন্যতায় ভোগে। পরিবারও কোনো কোনো সময় তাদের সঙ্গে রূত্ব আচরণ করে থাকে।

বিশেষত প্রতিবন্ধী সন্তানের মা তার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় ভোগেন। যা উদ্দীপকের প্রত্যাশা ও 'সুভা' গল্পের সুভার মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভা বাকশক্তিহীন এক গ্রাম্য কিশোরী। বাকশক্তিহীন হওয়ার কারণে মা তার জন্মকে গর্ভের কলঙ্ক হিসেবে ধরে নেয়।

পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সবাই তার ভবিষ্যত সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেয়ে সুভা এক সময় নিজেকে গুটিয়ে নেয়। উদ্দীপকের প্রত্যাশা মেয়েটিও শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে দুঃখী। তার মাও মেয়ের এ অবস্থার কারণে বিরক্ত।

প্রত্যাশার মা সন্তানকে পাপের ফল মনে করেন এবং তার বিয়ের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন থাকেন। এসব দিক থেকে প্রত্যাশা চরিত্রের সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সুভা চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

#

শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তানকে ঘিরে সুভার মায়ের দৃষ্টিভঙ্গি ও সাবিনার দুশ্চিন্তার বিষয়টি বর্তমান সমাজ প্রেক্ষাপটের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে সুভাকে নিয়ে তার মায়ের দৃষ্টিভঙ্গি ও সাবিনার দুশ্চিন্তার বিষয়টি বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটের আলোকে অনেকাংশে যুক্তিহীন। প্রতিবন্ধী হওয়া ব্যক্তি মানুষের কোনো দোষ নয়, এটি প্রকৃতিগত। প্রতিবন্ধিতা সামাজিক সমস্যা হলেও পূর্বের মতো এখন আর অতটা সমস্যা নয়।

পরিবার, ব্যক্তি, সমাজ ও সরকার এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন এবং কঠোরভাবে তাদের প্রতি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উদ্দীপকে বর্ণিত সাবিনার দুশ্চিন্তার কারণ তার মেয়ের ভবিষ্যৎ। সাবিনার মেয়ের প্রতিবন্ধিতায় বিরক্ত হয় এবং এ অবস্থাকে নিজের পাপের ফসল বলে মনে করে।

একই ধরনের মনোভাব লক্ষণীয় 'সুভা' গল্পে বর্ণিত সুভার মায়ের মাঝে। সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী কিশোরী হবার কারণে সে সমাজে যেমন অবহেলিত ছিল তেমনি তার মায়ের কাছেও ছিল অনাদৃত। সুভার জন্মকে তার মা নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করে। অর্থাৎ সুভার ক্ষেত্রে তার মায়ের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ।
কিন্তু বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের মনোভাব অনেকাংশে অযৌক্তিক। কারণ সরকার প্রতিবন্ধিদের পক্ষে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বর্তমান সময়েও অন্যতম সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এখন শারীরিক প্রতিবন্ধীরা যাতে অবহেলার শিকার না হয় সে ব্যাপারে নানা ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতিবন্ধিতার জন্য মানুষ নিজে দায়ী নয়। তাই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার বিচারে কাউকে মূল্যায়ন করা অযৌক্তিক। উপরন্তু শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বর্তমান সময়ে প্রতিবন্ধীরা এই প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তাই বলা যায়, আধুনিক সময়ের প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকের সাবিনার বা 'সুভা' গল্পের সুভার মায়ের দৃষ্টিভঙ্গি যথার্থ নয়।