- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মি. 'ক' মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও ইসলামের কিছু মৌলিক বিষয় অবিশ্বাস করে। অপরদিকে 'খ' তার এক বন্ধুকে তিন মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার শর্তে পাঁচ হাজার টাকা ঋণ দেয়। কিন্তু তার কলু সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যথাসময়ে টাকা ফেরত দেয়নি। এই নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাহেব বলেন, এ ধরনের আচরণ পরিত্যাগ না করলে তাকে পরকালে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
মি. 'ক'-এর আচরণে যে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
মি. 'ক'-এর আচরণে কুফর প্রকাশ পেয়েছে।
কুফর শব্দের অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, গোপন করা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহ অয়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটির প্রতি অবিশ্বাস করাকেই কুফর বলে। কুফর হলো ইমানের বিপরীত, যা মি. 'ক'-এর মনোভাবে পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের মি. 'ক' মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও ইসলামের কিছু মৌলিক বিষয় অবিশ্বাস করে। তার এ মনোভাব কুফরের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, ইমান বা ইসলামের সাতটি বিষয়ের যেকোনো একটি অবিশ্বাস করাই কুফর। আর কুফরের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এর ফলে শুধু দুনিয়াতেই নয়; বরং আখিরাতেও মানুষকে শোচনীয় পরিণতি বরণ করতে হবে। কুফর ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবনে অনৈতিকতার প্রসার ঘটায়। আখিরাতে বিশ্বাস না থাকায় কুফরে লিপ্ত ব্যক্তির নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটে এবং দুনিয়ার স্বার্থে সে নানা ধরনের পাপ ও অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। কাফির ব্যস্তি আল্লাহ তায়ালা ও তকদিরে অবিশ্বাস করে। ফলে সে সবকিছুতে ধৈর্যহারা ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
তাছাড়া পরকালে কুফরের পরিণতি হবে জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যারা কুফরি করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী।' (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৩৯) তাই বলা যায়, কুফরের পরিণতি দুনিয়াতে ধ্বংস আর পরকালে চিরস্থায়ী শাস্তি।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
রিসালাত কী?
মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী মানুষের নিকট পৌছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালাত বলা হয়।
তকদিরে বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।
ইমানের মৌলিক সাতটি বিষয়ের একটি হওয়ায় তকদিরে বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ।
তকদির শব্দের অর্থ নির্ধারিত পরিমাণ, ভাগ্য বা নিয়তি। মানুষের ভাগ্যের একমাত্র নির্ধারক মহান আল্লাহ। ভালো-মন্দ সবকিছু তাঁর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়। মানুষ তার কর্মগুণে সাফল্য লাভ করতে পারে। তবে তা মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া সম্ভব নয়। মানুষের জীবনের সাফল্য, ব্যর্থতা বিপদ-মুসিবত সবকিছুর নিয়ন্ত্রক আল্লাহ তায়ালা। তকদিরে বিশ্বাস ছাড়া মুমিন হওয়া সম্ভব নয়। তাই তকদিরে বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য।
মি. 'খ'-এর বন্ধুর আচরণ প্রসঙ্গে ইমাম সাহেবের মন্তব্যের যথার্থতা নিরূপণ করো।
মি. 'খ'-এর বন্ধুর আচরণে নিফাক বা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইমাম সাহেবের মন্তব্যটি যথার্থ।
সাধারণভাবে যারা অন্তরে একরকম ভাব রেখে বাইরে তার বিপরীত অবস্থা প্রকাশ করে তাদের মুনাফিক বলা হয়। রাসুল (স.) মুনাফিকের তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি। যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে, আর যখন কোনো কিছু তার কাছে আমানত রাখা হয় তার খিয়ানত করে।' (সহিহ বুখারি) আর মি. 'গ'-এর বন্ধুর আচরণে ওয়াদা ভঙ্গের বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়।
উদ্দীপকের মি. 'খ' তার এক বন্ধুকে তিন মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার শর্তে পাঁচ হাজার টাকা ঋণ দেয়। কিন্তু তার বন্ধু সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যথাসময়ে তার টাকা ফেরত দেয়নি। এই নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাহেব বলেন, এ ধরনের আচরণ পরিত্যাগ না করলে তাকে পরকালে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। নিফাক সম্পর্কে ইমাম সাহেবের করা মন্তব্যটি সঠিক। কারণ, নিফাক অত্যন্ত জঘন্য পাপ। এটি মানুষের চরিত্র ও নৈতিকতা ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে মানুষ মিথ্যাচারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। মুনাফিকদের কেউ বিশ্বাস করে না। তাদেরকে সবাই সন্দেহ ও ঘৃণার চোখে দেখে। সমাজের মানুষের কাছে তারা অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়ে জীবন কাটায়। ইহকালের পাশাপাশি পরকালেও রয়েছে তাদের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে। (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৪৫)
উপরের আলোচনায় প্রমাণিত হয় যে, মি. 'খ'-এর বন্ধু ওয়াদা ভঙ্গ করে মুনাফিকের বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করেছে, যা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতের জন্য ক্ষতিকর। তাই এ সম্পর্কে ইমাম সাহেবের মন্তব্যটি যথার্থ।

