• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

সাদী ও সামী একদিন ফসলের মাঠের মধ্যে হাঁটছিল। সাদী তখন সামীকে এই দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ ও তার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী দেখিয়ে বলে, দেখো প্রকৃতি' আমাদের কত কিছু দিয়েছে। প্রকৃতির নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই। এই বিশ্বজগতের সবকিছু এক মহান সত্তার সৃষ্টি। সাদীর আত্মীয় বুমী সাদীকে বলে, হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর পর গোলাম আহম্মদ নামে আরও একজন নবি এসেছিলেন। এ কথা শুনে সাদীর, বাবা বলেন, প্রকৃত ইমানদার হতে হলে ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের ওপর অবশ্যই ইমান রাখতে হবে।

রুমীর বক্তব্যে আকাইদের যে বিষয়টি লঙ্ঘিত হয়েছে তা চিহ্নিতপূর্বক সাদীর বাবার বক্তব্যের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

রুমীর বক্তব্যে আকাইদের অন্যতম বিষয় খতমে নবুয়তের বিষয়টিকে অস্বীকার করা হয়েছে এবং এ সম্পর্কে সাদীর বাবার বক্তব্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন সর্বশেষ নবি। তাঁর মাধ্যমে দীনের পূর্ণতা ঘোষিত এবং নবুয়তের ধারা সমাপ্ত হয়েছে। তিনি নবি-রাসুলগণের আগমনের ক্রমধারায় সর্বশেষ আগমন করেছেন। এ বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করাই হলো খতমে নবুয়তের প্রতি বিশ্বাস। রুমীর বক্তব্যে এ বিশ্বাস অনুপস্থিত।

রুমীর মতে, হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর পর গোলাম আহম্মদ নামে আরও একজন নবি এসেছিলেন। অথচ কুরআনে আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, 'মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং শেষ নবি।' (সূরা আল-আহযাব, আয়াত-৪০)। আমাদের প্রিয় নবি (স.) হলেন, খাতামুন নাবিয়্যিন।

খাতামুন শব্দের অর্থ সিলমোহর। কোনো কিছুতে সিলমোহর তখন অঙ্কন করা হয়, যখন তা পূর্ণ হয়ে যায়। সিলমোহর লাগানোর পরে তাতে আর কোনো কিছু প্রবেশ করানো যায় না। তাই নবি (স.)-এর পরে আর কোনো নবি আসবেন না এটা সুস্পষ্ট। মহানবি (স.) বলেছেন, 'আমিই শেষ নবি। আমার পরে আর কোনো নবি নেই।' (সহিহ মুসলিম) প্রকৃত ইমানদার হতে হলে এ বিষয়টিসহ ইসলামের মৌলিক সব বিষয়ের ওপর অবশ্যই ইমান আনতে হবে। কারণ ইসলামের মূল বিষয়গুলোর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাসকেই ইমান বলা হয়। তাওহিদ, তকদির, 'রিসালাত, আখিরাত, পুনরুত্থান এসব কিছুর মধ্যে একটিরও প্রতি যদি অবিশ্বাস থাকে তবে সে কাফির হয়ে যাবে। আর যারা কুফরি করবে এবং আল্লাহর নির্দশন অস্বীকার করবে তারা জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তাদের চিরকাল থাকতে হবে।

উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, রুমীর বক্তব্য খতমে নবুয়তের পরিপন্থি। এ বিষয় সংশ্লিষ্ট সাদীর বাবার বক্তব্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

রিসালাত কাকে বলে?

মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালাত বলে।

#

আখিরাতে বিশ্বাস করা জরুরি কেন? বুঝিয়ে লেখো।

ইমানের মৌলিক বিষয় হওয়ায় আখিরাতে বিশ্বাস অপরিহার্য।

মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। আখিরাতে মানুষকে তার দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাই আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে পাপকাজ থেকে বিরত রাখে এবং পুণ্যকাজে উৎসাহ যোগায়। এছাড়া আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া কেউ প্রকৃত ইমানদার হতে পারে না। এসব কারণে একজন মুসলিমের জন্য আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য।

#

উদ্দীপকে সাদীর কথায় ইমানের কোন মৌলিক বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে সাদীর কথায় ইমানের প্রথম মৌলিক বিষয় আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি এ বিশ্বজগতের একমাত্র অধিপতি ও মালিক। তাঁর কোনো শরিক নেই। আল্লাহ অনন্য ও অতুলনীয়, যার নিদর্শন সৃষ্টিজগতের বিভিন্ন সৃষ্টি থেকে পাওয়া যায়। গ্রহ, নক্ষত্র, চন্দ্র, সূর্যসহ পৃথিবীর সৃষ্টিসমূহ লক্ষ করলে মহান আল্লাহর একত্ববাদের নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকে সাদীর কথায় এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।

সাদী দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ ও তার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী সামীকে দেখিয়ে বলল, দেখো প্রকৃতি আমাদের কত কিছু দিয়েছে। প্রকৃতির নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই। এই বিশ্বজগতের সবকিছু এক মহান সত্তার সৃষ্টি। সৃষ্টিজগৎ সম্পর্কে তার এ বিশ্বাস তাওহিদের বহিঃপ্রকাশ। আমরা যে পৃথিবীতে বাস করছি তা কত সুন্দর। এতে আছে নদী-নালা, সাগর, মহাসাগর, পাহাড়, পর্বত, সবুজ মাঠ ইত্যাদি। এসব নিজে নিজে সৃষ্টি হয়নি। যিনি সুনিপুণভাবে এসব সৃষ্টি করেছেন এবং পরিচালনা করছেন তিনি হলেন মহান আল্লাহ। এ বিশাল সৃষ্টি জগতে যদি কোনো একক সৃষ্টিকর্তা না থাকত, তাহলে সৃষ্টিজগৎ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হতো না। নানারূণ বিশৃঙ্খলা দেখা দিত কিংবা এ বিশ্বজগৎ এতদিনে ধ্বংস হয়ে যেত। এ থেকে বোঝা যায়, মহান আল্লাহ এক, অদ্বিতীয় এবং অতুলনীয়। সুতরাং বলা যায়, সাদীর কথায় আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ফুটে উঠেছে।