• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনাব নুমান একজন ধনী মানুষ। তিনি প্রতিদিন তার গ্রামের ১০ জন অসহায় দরিদ্রকে তিনবেলা খাবার সরবরাহ করেন। তাই ঐ সকল দরিদ্র পরিবার জনাব নুমান সাহেবকে রিজিকদাতা মনে করেন।' এমনকি তারা নুমান সাহেবকে সিজদা করতেও পিছপা হয় না। পক্ষান্তরে নুমান সাহেবের বন্ধু ফারহান সাহেব নাইট ক্লাব চালু করে মদ ও জুয়ার আসর বসিয়ে টাকা উপার্জনকে অবৈধ মনে করেন না।

ফারহান সাহেবের কর্মে যে বিশ্বাস ফুটে উঠেছে তা চিহ্নিতপূর্বক এর কুফল ও পরিণতি বিশ্লেষণ করো।

ফারহান সাহেবের কর্মে কুফর ফুটে উঠেছে, মানবজীবনে যার কুফল ও পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

কুফর শব্দের অর্থ হলো অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, ঢেকে রাখা, গোপন করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অবাধ্য হওয়া ইত্যাদি। কুফর হলো ইমানের বিপরীত দিক। আর ফারহান সাহেবের মধ্যে এ দিকটি বিদ্যমান।

উদ্দীপকের ফারহান সাহেব নাইট ক্লাব চালু করে মদ ও জুয়ার আসর বসিয়ে টাকা উপার্জনকে অবৈধ মনে করে না। তার এ মানসিকতা কুফরের নামান্তর। কারণ আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটিরও প্রতি অবিশ্বাস করাকে কুফর বলা হয়। যেমন- হারামকে হালাল মনে করা। আমরা জানি নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ এবং এর ব্যবসা সম্পূর্ণ হারাম। কিন্তু ফারহান সাহেব একে হালাল হিসেবে গ্রহণ করে কুফরি করেছে। এ ধরনের কাজ মানুষের মধ্যে অবাধ্যতা ও অকৃতজ্ঞতার জন্ম দেয়। কাফির ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করার কারণে নির্দ্বিধায় তাঁর বিধি-নিষেধও অমান্য করতে পারে। পরকালে অবিশ্বাস করার কারণে কাফির ব্যক্তি সব ধরনের পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়ে। ফলে সমাজে পাপকাজ বৃদ্ধি পায়। সমাজ অনৈতিকতায় ভরে যায়। এতে মহান আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যারা কুফরি করবে এবং আমার নিদর্শনগুলো অস্বীকার করবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।' (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৩৯)

উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, ফারহান সাহেবের কাজটি কুফরির পর্যায়ভুক্ত। আর এর পরকালীন শান্তি চিরস্থায়ী জাহান্নাম। ইহকালীন জীবনেও রয়েছে এর নানা কুপ্রভাব।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

আকাইদ কাকে বলে?

ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসকেই আকাইদ বলা হয়।

সহায়ক তথ্য

ইসলামের বিশ্বাসগত দিকের নামই হলো আফাইদ। আল্লাছ তায়ালা, নবি-রাসুল, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, পরকাল, জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদি আকাইদের অন্তর্ভুক্ত। এ বিস্যাগুলো কুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত।

#

ইমান ও ইসলাম পরস্পর সম্পর্কযুক্ত- বুঝিয়ে লেখো।

ইমান ও ইসলামের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।

ইমান মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, অনুরাগ ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের বাসনা সৃষ্টি করে। আর তাতে ইসলাম ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে সজীব ও সতেজ হয়ে পরিপূর্ণ সৌন্দর্যে বিকশিত হয়। ইসলাম হলো ইমানের বহিঃপ্রকাশ। অন্তরের ইমানি চেতনা ইসলামের মাধ্যমে প্রকাশ লাভকরে মানুষকে বল্যাণের পথে পরিচালিত করে। তাই বলা যায়, ইমান ও ইসলাম একটি অপরটির পরিপূরক।

#

উদ্দীপকে দরিদ্র লোকদের বিশ্বাস ও কর্মে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে দরিদ্র লোকদের বিশ্বাস ও কর্মে শিরক প্রকাশ পেয়েছে, যা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ।

শিরক অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা। ইসলামি পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করাই শিরক। শিরক অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে, শিরক সবচেয়ে বড় জুলুম, যা উদ্দীপকের দরিদ্র লোকদের বিশ্বাস ও কর্মে প্রকাশ পেয়েছে।

উদ্দীপকের জনাব নুমান একজন ধনী মানুষ। তিনি প্রতিদিন তার গ্রামের ১০ জন অসহায় দরিদ্রকে তিনবেলা খাবার সরবরাহ করেন। তাই ঐ সকল দরিদ্র পরিবার জনাব নুমান সাহেবকে রিজিকদাতা মনে করেন। এমনকি তারা নুমান সাহেবকে সিজদা করতেও পিছপা হয় না, যা শিরকের শামিল। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তায়ালা হলেন আমাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালক। তাঁর প্রদত্ত নিয়ামতই আমরা ভোগ করি। এরপরও কেউ যদি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করে ভবে তা অপেক্ষা বড় জুলুম আর হতে পারে না। এ জন্য আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয়ই শিরক বড় জুলুম।' (সূরা লুকমান, আয়াত ১৩) তাছাড়া ব্যতিত অন্য কাউকে সিজদাহ করে তাহলে সে মুশরিক হয়ে যাবে। আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ সিজদাহ পাওয়ার যোগ্য না। যদি কেউ আল্লাহ আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি অপার ক্ষমাশীল ও অসীম দয়াময় হওয়া সত্ত্বেও শিরকের অপরাধ ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না।' (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৮) আল্লাহ তায়ালার দয়া, ক্ষমা ও রহমত ছাড়া দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পরকালে মুশরিকদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তাই বলা যায়, দরিদ্র লোকদের বিশ্বাস ও কর্মে শিরক প্রকাশ পেয়েছে।'