- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় 'ক' দৌড়ে ২য় স্থান। অর্জন করেছে। কিন্তু বন্ধুদেরকে সে প্রথম হয়েছে বলে জানায়। অপরদিকে তার বড় ভাই একটি কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে ভালো বেতন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। তাই তিনি প্রায়ই বলেন, 'মূলত আমার কোম্পানিই আমার উত্তম রিযিক দিয়ে থাকে।'
'ক'-এর বড় ভাইয়ের বক্তব্যটি আকাইদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের। আলোকে মূল্যায়ন করো।
'ক'-এর বড় ভাইয়ের বক্তব্যটি শিরকের অন্তর্ভুক্ত, যা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ।
শিরক অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা। ইসলামি পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করাই শিরক। শিরক অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে শিরক সবচেয়ে বড় জুলুম। যেটি 'ক'-এর বড় ভাইয়ের বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের 'ক'-এর বড় ভাই একটি কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে ভালো বেতন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। তাই তিনি প্রায়ই বলেন, মূলত আমার কোম্পানিই আমার উত্তম রিযিক দিয়ে থাকে। যা শিরকের শামিল। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তায়ালা আমাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালক। তাঁর প্রদত্ত নিয়ামতই আমরা ভোগ করি। এরপরও কেউ যদি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করে, তবে তা অপেক্ষা বড় জুলুম আর হতে পারে না। এ জন্য আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয়ই শিরক বড় জুলুম।' (সূরা লুকমান, আয়াত ১৩) আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি অপার ক্ষমাশীল ও অসীম দয়াময় হওয়া সত্ত্বেও শিরকের অপরাধ ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না।' (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৮) আল্লাহ তায়ালার দয়া, ক্ষমা ও রহমত ছাড়া দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পরকালে মুশরিকদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল্লাহ বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য অবশ্যই জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম।' (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৭২) সুতরাং শিরক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।
পরিশেষে বলা যায়, 'ক'-এর বড় ভাইয়ের বক্তব্যটি শিরকের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। আর আমাদের প্রত্যেকের এমন জঘন্য অপরাধ থেকে দূরে থাকতে হবে।

