• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

'খ' একজন মুদি দোকানদার। পাশাপাশি নানা জনকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য টাকা ধার দেন। মেয়াদ শেষে কিছু বাড়তি টাকাসহ তা আবার ফেরত নেন। মা তাকে এরূপ লেনদেন হারাম বললে, 'খ' উত্তরে বলে, "প্রায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান এভাবেই চলেছে। তাই এটি হালাল"। মা বললেন, "এসব কাজের হিসাব একদিন আল্লাহর কাছে দিতে হবে। এবং তার ফলও ভোগ করতে হবে। এরকম বিশ্বাস লালন করতেন বলেই তোমার বাবা পুরো জীবনটা ন্যায় ও সত্যের পথে কাটিয়েছেন।"

আকাইদের কোন বিষয়ে বিশ্বাস 'খ'-এর বাবার জীবনযাপনে প্রভাব বিস্তার করেছে? ব্যাখ্যা করো।

আকাইদের অন্যতম বিষয় আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস 'খ'-এর বাবার জীবনযাপনে প্রভাব বিস্তার করেছে।

আখিরাত অর্থ পরকাল। মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলা হয়। আখিরাত অনন্তকালের জীবন। এ জীবনের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। এটিই মানুষের চিরস্থায়ী আবাস। আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং পুণ্য কাজ করতে উৎসাহ যোগায়, যা জনাব 'খ'-এর বাবার জীবনযাপনে পরিলক্ষিত হয়।"

উদ্দীপকে জনাব 'খ'-এর মা তাকে তার বাবা সম্পর্কে বলেন, "সব কাজের হিসাব একদিন আল্লাহর কাছে দিতে হবে এবং তার ফলও ভোগ করতে হবে। এরকম বিশ্বাস লালন করতেন বলেই তোমার বাবা পুরো জীবনটা ন্যায় ও সত্যের পথে কাটিয়েছেন।" এখানে তার বাবা মূলত আখিরাতে বিশ্বাসের কারণে এমন কাজ করেছেন। কারণ আখিরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি জানে যে, পরকালে তাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, দুনিয়ার সব কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে। ফলে আখিরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি দুনিয়াতে সৎকাজে উৎসাহিত হয় এবং অসৎকাজ থেকে বিরত থাকে। এভাবে মানুষ অসৎ চরিত্র-বর্জন করে সচ্চরিত্রবান হয়ে ওঠে। অপরদিকে যে ব্যক্তি আখিরাতে বিশ্বাস করে না, সে সুযোগ পেলেই পাপাচার ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। কারণ সে পরকালে জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী নয়। আখিরাতে বিশ্বাসী মানুষ কখনো পাপ কাজে লিপ্ত হতে পারে না। তাই বলা যায়, আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস থাকায় 'খ'-এর বাবা সৎভাবে জীবনযাপন করেছেন।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

রিসালাত কাকে বলে?

মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী মানুষের নিকট পৌছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালত বলে।

#

আখিরাতে বিশ্বাস করা জরুরি কেন? বুঝিয়ে লেখো।

ইমানের মৌলিক বিষয় হওয়ায় আখিরাতে বিশ্বাস অপরিহার্য।

মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। আখিরাতে মানুষকে তার দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাই আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে পাপকাজ থেকে বিরত রাখে এবং পুণ্যকাজে উৎসাহ যোগায়। এছাড়া আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া কেউ প্রকৃত ইমানদার হতে পারে না। এসব কারণে একজন মুসলিমের জন্য আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য।

#

তুমি কি মনে কর 'খ'-এর বক্তব্যটি আকাইদের একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক? যুক্তিসহ মতামত দাও।

হ্যা, 'খ'-এর বক্তব্যটি আকাইদের উল্লেখযোগ্য বিষয় ইমানের সাথে সাংঘর্ষিক, যা কুফরের সমতুল্য।

ইমান অর্থ বিশ্বাস করা। শরিয়তের যাবতীয় বিধি-বিধান অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং সে অনুযায়ী আমল করাকে ইমান বলে। আর এর বিপরীত হলো কুফর। অর্থাৎ ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহ বিশ্বাস করাই হলো ইমান। আর এসব বিষয়ে অবিশ্বাস করা হলো কুফর, যা 'খ'-এর আচরণে লক্ষণীয়।

উদ্দীপকের 'খ' মুদি দোকান চালানোর পাশাপাশি নানা জনকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য টাকা ধার দেন। মেয়াদ শেষে কিছু বাড়তি টাকাসহ তা ফেরত নেন। তার মা তাকে বলেন, এরূপ লেনদেন হারাম। উত্তরে 'খ' বলে, প্রায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান এভাবেই চলছে। তাই এটি হালাল। তার এমন বক্তব্য ইমানের সাথে সাংঘর্ষিক। কারণ সুদ হলো হারাম। আর হারামকে হালাল মনে করার অর্থ হলো আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করার সমান। যে এরূপ করে সে কুফরি করে, সে কাফির। আর যে কাফির তার ইমান থাকে না।

পরিশেষে বলা যায়, 'খ'-তার বক্তব্য দ্বারা হারামকে হালাল প্রমাণিত করার চেষ্টা করেছে, যা সরাসরি কুফরির সাথে সম্পর্কিত। তাই তার বক্তব্য ইমানের সাথে সাংঘর্ষিক।