- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
প্রেক্ষাপট-১: আদিল ও আবির দু'সহপাঠী। তারা স্কুলের একটি অনুষ্ঠানের জন্য ছাত্রদের কাছ থেকে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা করে মোট ৫,০০০ টাকা চাঁদা সংগ্রহ করে আদিলের নিকট জমা রাখে। অনুষ্ঠানে মোট ৪,০০০ টাকা খরচ হলেও আদিল বলে, সব টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে।
প্রেক্ষাপট-২: ইসলামপূর্ব যুগে 'ওয়াকিয়া' নামক জনৈক ব্যক্তি স্রষ্টার সান্নিধ্যলাভের আশায় কাবাঘর তাওয়াফ করার পাশাপাশি মূর্তিগুলোর সামনে মাথানত করে সাহায্য প্রার্থনা করত।
জনাব আদিলের কাজে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
জনাব আদিলের কাজে নিফাক প্রকাশ পেয়েছে।
নিফাক শব্দের অর্থ ধোঁকাবাজি, ভণ্ডামি, আমানতের খিয়ানত, প্রতারণা, কপটতা, দ্বিমুখী ভাব পোষণ করা প্রভৃতি। যারা মানুষকে ধোঁকা দেয় তারা মুনাফিক। খিয়ানত করা মুনাফিকদের অন্যতম নিদর্শন। জনাব আদিলের কাজে এ বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকে স্কুলের একটি অনুষ্ঠানের জন্য সবাই ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা সংগ্রহ করে মোট ৫০০০ টাকা আদিলের নিকট জমা রাখে। কিন্তু অনুষ্ঠানের জন্য ৪০০০ টাকা খরচ হলেও আদিল বলে সব টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। এতে করে সে আমানতের খিয়ানত করেছে। প্রকৃতপক্ষে যারা নিফাকি করে তারা অন্তরে কুফর লুকিয়ে রেখে মানুষকে ধোঁকা দেয়। মহানবি (স.) এরূপ ব্যক্তিদের মুনাফিক বলেছেন। তিনি মুনাফিকদের চিহ্ন বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, 'মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি। যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে, আর যখন কোনো কিছু তার নিকট আমানত রাখা হয় তা খিয়ানত করে।' (সহিহ বুখারি) সুতরাং মুনাফিকের একটি চিহ্ন আমানতের খিয়ানত করা। সুতরাং বলা যায় জনাব আদিলের কাজে নিফাক প্রকাশিত হয়েছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
ইমান কী?
ইসলামি শরিয়তের যাবতীয় বিধি-বিধান অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সে অনুযায়ী আমল করাই ইমান।
"মুনাফিকরা কাফিরের চেয়েও ক্ষতিকর"- ব্যাখ্যা করো।
প্রকাশ্য শত্রু কাফিরদের চেয়ে অপ্রকাশ্য শত্রু মুনাফিকরা ইসলামের জন্য বেশি ক্ষতিকর।
যারা অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন রেখে মুখে ইসলামকে স্বীকার করে তারাই মুনাফিক। ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য মুনাফিকরা কাফিরের চেয়েও ক্ষতিকর। কারণ তারা মুসলমানদের সাথে মিশে ইসলামের শত্রু কাফিরদের সাহায্য করে। মুসলমানদের গোপন তথ্য ও দুর্বলতা কাফিরদের জানিয়ে দেয়। সবসময় মুসলমানদের ক্ষতি সাধনে লিপ্ত থাকে। কিন্তু মুসলমানরা তা বুঝতে পারে না। তাই প্রকাশ্য শত্রু কাফিরদের চেয়ে অপ্রকাশ্য শত্রু মুনাফিকরা ইসলামের জন্য বেশি ক্ষতিকর।
ইসলামপূর্ব যুগে 'ওয়াকিয়া' নামক ব্যক্তির কাজ চিহ্নিতপূর্বক এর কুফল বিশ্লেষণ করো।
ইসলামপূর্ব যুগে 'ওয়াকিয়া' নামক ব্যক্তির কাজে শিরক প্রকাশিত হয়েছে, যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা। আল্লাহর সাথে কোনো ব্যস্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাই শিরক। এটি একটি জঘন্য অপরাধ। ওয়াকিয়া নামক ব্যক্তির কাজে এ জঘন্য অপরাধের চিত্রই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে প্রেক্ষাপট-২ এ ইসলামপূর্ব যুগে 'ওয়াকিয়া' নামক জনৈক ব্যক্তি স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের আশায় কাবাঘর তাওয়াফ করার পাশাপাশি মূর্তিগুলোর সামনে মাথানত করে সাহায্য প্রার্থনা করত, যা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আর এ ধরনের কাজ যারা করে তারা মুশরিক। তাদেরকে আল্লাহ কখনোই ক্ষমা করেন না। আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করবেন না। এছাড়া যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা-ক্ষমা করে দেন।' (সূরা নিসা: ৪৮) শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম। পরকালেও তাদের জন্য শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য অবশ্যই জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম।' (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত, ৭২)
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, ইসলামপূর্ব যুগে ওয়াকিয়া নামক ব্যক্তির কাজে শিরক প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের উচিত শিরক থেকে বেঁচে থেকে আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।

