• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

প্রেক্ষাপট- ১ : জনাব 'ক' একজন আধুনিক শিক্ষিত লোক। তিনি নিয়মিত সালাত, সাওম ও যাকাত আদায় করেন। তিনি বিশ্বাস করেন প্রত্যেক যুগেই নবি-রাসুলের আগমন প্রয়োজন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ও ভবিষ্যতে অনেকেই রিসালাতের দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রেক্ষাপট- ২ : ইমাম সাহেব জুমার দিনের আলোচনায় পরকালীন একটি ন্তর নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, সেই ভয়ানক বিভীষিকাময় দিনে সকল মানুষের মাথার উপর সূর্য থাকবে এবং সকল মানুষ প্রচণ্ড তাপে ঘামতে থাকবে।

আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য কেন? ব্যাখ্যা করো।

ইমানের মৌলিক বিষয় হওয়ায় আখিরাতে বিশ্বাস অপরিহার্য।

মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। আখিরাতে মানুষকে তার দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাই আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে পাপকাজ থেকে বিরত রাখে এবং পুণ্যকাজে উৎসাহ যোগায়। এছাড়া আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া কেউ প্রকৃত ইমানদার হতে পারে না। এসব কারণে একজন মুসলিমের জন্য আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

কুফর-এর পরিচয় দাও।

আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটিরও প্রতি অবিশ্বাস করাকে কুফর বলে।

#

জনাব 'ক' পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টি অস্বীকার করেছেন? ব্যাখ্যা করো।

জনাব 'ক' পাঠ্যবইয়ের খতমে নবুয়তের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

খতমে নবুয়তের অর্থ নবুয়তের সমাপ্তি। মানবজাতির হেদায়েতের জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে বহু নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে এ ধারা শুরু হয়েছে এবং হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে পরিসমাপ্তি ঘটেছে। আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে নবুয়তের সিলমোহর টেনে আর কোনো নবি বা রাসুল আসার প্রয়োজন নেই বলে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু জনাব 'ক'-এর বক্তব্য এর বিপরীত।

জনাব 'ক' বিশ্বাস করেন প্রত্যেক যুগেই নবি-রাসুলদের আগমন প্রয়োজন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ও ভবিষ্যতে অনেকেই রিসালাতের দায়িত্ব পালন করবেন। তার এরূপ মনোভাব ঠিক নয়। কারণ হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন শেষ নবি। তিনি খাতামুন নাবিয়্যিন। তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না। রাসুল (স.) বলেছেন, 'রিসালাত ও নবুয়তের ধারা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমার পর আর কোনো নবি আসবেন না।' (তিরমিযি) সুতরাং জনাব 'ক' পাঠ্যবইয়ের খতমে নবুয়তের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

#

ইমাম সাহেব পরকালের 'কোন স্তর নিয়ে আলোচনা করেছেন? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ইমাম সাহেব পরকালের আখিরাতের স্তর হাশর নিয়ে আলোচনা করেছেন।

হাশর হলো মহাসমাবেশ। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে সর্ব মানুষ ও প্রাণীকুল মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হবে। সকলেই সেদিন একজন আহ্বানকারী ফেরেশতার ডাকে হাশরের ময়দানে সমবেত হবে। সেদিন সকল মানুষের সমস্ত কাজকর্মের হিসাব নেওয়া হবে। হাশরের ময়দান হবে ভীষণ কষ্টের স্থান। সূর্য মাথার উপর একেবারে নিকটে থাকবে। মানুষ প্রচণ্ড ঘামতে থাকবে। ইমাম সাহেবের আলোচনায় এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।

ইমাম সাহেব জুমআর দিনে আখিরাতের একটি স্তর হাশর নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, সেই ভয়ানক বিভীষিকাময় দিনে সকল মানুষের মাথার উপর সূর্য থাকবে এবং সকল মানুষ প্রচণ্ড তাপে ঘামতে থাকবে। অর্থাৎ হাশরের ময়দান হবে ভীষণ কষ্টের স্থান। সেদিন আল্লাহ তায়ালার আরশের ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না। এ সময় পুণ্যবানগণ নানাবিধ সুবিধাজনক স্থান লাভ করবে। পক্ষান্তরে পাপীরা হাশরের মাঠেই কঠোর শাস্তি ভোগ করবে।

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ইমাম সাহেব আখিরাতের স্তর হাশরের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তাই আমাদের সকলেরই উচিত হাশরের চিন্তা মাথায় রেখে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.)-এর নির্দেশিত পন্থায় জীবন পরিচালনা করা।