- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মুরতাজা বিশ্বাস করেন যে, পৃথিবীর সকল মানুষ ইহকালীন কর্মের জন্য একদিন সৃষ্টিকর্তার নিকট জবাবদিহিতার সম্মুখীন হবেন। হিসাব-নিকাশ শেষে পুণ্যবানদের পুরস্কারস্বরূপ দেওয়া হবে এক আরামদায়ক স্থান ও পাপীদের দেওয়া হবে চরম শাস্তির স্থান। সে জীবনের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। অন্যদিকে কালিম মিয়ার ধারণা কিয়ামত পর্যন্ত যেহেতু পৃথিবীতে মানুষের আগমনের ধারা অব্যাহত থাকবে, সেহেতু তাদের সৎপথ দেখানোর জন্য আল্লাহ নবি-রাসুলও পাঠাবেন। তিনি মনে করেন, নবুয়তের ধারা এখনও বলবৎ রয়েছে।
শিরক কী?
মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা বা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
"মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব"- ব্যাখ্যা করো।
মানুষের চরিত্র, বৈশিষ্ট্য ও কর্মকাণ্ড অন্যান্য জীব থেকে উন্নত হওয়ায় মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব বলা হয়।
মানুষ বিবেকবান প্রাণী। বিবেক-বুদ্ধির কারণেই মানুষ অন্য প্রাণী থেকে আলাদা। মানুষের রয়েছে বিশেষ চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা, যা তাকে অনন্যসাধারণ কাজে উৎসাহিত করে। তাই মানুষের কর্মকাণ্ড আদর্শিক এবং উন্নত হয়ে থাকে। এসব কারণেই মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব বলা হয়।
কালিম মিয়ার ধারণায় ইসলামের কোন বিষয়টি অবিশ্বাস করা হয়? বিষয়টির ব্যাখ্যা দাও।
কালিম মিয়ার ধারণায় খতমে নবুয়তকে অবিশ্বাস করা হয়েছে।
খতমে নবুয়ত হলো নবুয়তের পরিসমাপ্তির ঘোষণা। হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন সর্বশেষ নবি। তাঁর মাধ্যমে দীনের পূর্ণতা ঘোষিত এবং নবুয়তের ধারা সমাপ্ত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং তাঁকে খাতামুন নাবিয়্যিন বলে অভিহিতনের করেছেন। কিন্তু কালিম মিয়ার ধারণায় এটি অস্বীকার করা হয়েছে।
কালিম মিয়ার ধারণা, কিয়ামত পর্যন্ত যেহেতু মানুষের আগমন ঘটবে, সেহেতু তাদেরকে সৎপথ প্রদর্শনের জন্য নবি-রাসুলও আসবেন। আর এ ধারণা খতমে নবুয়তের পরিপন্থি। কারণ আমাদের প্রিয় নবি (স.) হলেন খাতামুন নাবিয়্যিন। তাঁর পরে আজ পর্যন্ত কোনো নবি আসেননি এবং কিয়ামত পর্যন্ত আসবেনও না। যারা তাঁর পরবতীতে নবুয়তের দাবি করেছে তারা সবাই ভণ্ড ও মিথ্যাবাদী। মহানবি (স.) নিজেই বলেছেন, "আমিই শেষ নবি। আমার পরে আর কোনো নবি নেই।" (সহিহ মুসলিম) সুতরাং কালিম মিয়ার ধারণাটি খতমে নবুয়তের পরিপন্থিস্থ।
মুরতাজার বিশ্বাসটি চিহ্নিতপূর্বক মানবজীবনে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
মুরতাজার বিশ্বাস অর্থাৎ আখিরাতে বিশ্বাস মানবজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
আখিরাত অর্থ পরকাল। মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলা হয়। আখিরাতের জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। এ জীবনে মানুষকে আল্লাহর কাছে তার কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে হবে এবং সে অনুযায়ী ফল ভোগ করবে। আর এ ধারণাই প্রকাশ পেয়েছে মুরতাজার বিশ্বাসে।
বিশ্বাস করেন, পৃথিবীর সকল মানুষ একদিন সৃষ্টিকর্তার নিকট জবাবদিহি করবে। সেদিন পুণ্যবানদের আরামদায়ক স্থান ও পাপীদের চরম শাস্তির স্থান দেওয়া হবে। তার এ ধারণায় আখিরাতে বিশ্বাস প্রকাশ পায়। মানবজীবনে আখিরাতে বিশ্বাসের প্রভাব অপরিসীম। আখিরাতে মানুষের সকল কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে। তারপর কর্ম অনুযায়ী কেউ মহাসাফল্য অর্জন করবে, আবার কেউ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে। তাই পরকালীন জীবনে মহাসাফল্য পেতে এবং শাস্তি থেকে বাঁচতে মানুষকে সব ধরনের অন্যায় ও অনৈতিক কাজ বর্জন করতে হবে। চির সুখের স্থান জান্নাত লাভ করার জন্য সুন্দর ও নৈতিক জীবন গঠন করে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।
সুতরাং বলা যায়, আখিরাতে বিশ্বাসই মানুষকে সৎকর্মে উৎসাহিত করে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। তাই আমাদেরকে আখিরাতে শাস্তির ব্যাপারে অন্তরে ভয় রাখতে হবে এবং ইসলামি বিধান অনুসারে জীবন পরিচালনা করতে হবে।

