- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মুরতাজা বিশ্বাস করেন যে, পৃথিবীর সকল মানুষ ইহকালীন কর্মের জন্য একদিন সৃষ্টিকর্তার নিকট জবাবদিহিতার সম্মুখীন হবেন। হিসাব-নিকাশ শেষে পুণ্যবানদের পুরস্কারস্বরূপ দেওয়া হবে এক আরামদায়ক স্থান ও পাপীদের দেওয়া হবে চরম শাস্তির স্থান। সে জীবনের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। অন্যদিকে কালিম মিয়ার ধারণা কিয়ামত পর্যন্ত যেহেতু পৃথিবীতে মানুষের আগমনের ধারা অব্যাহত থাকবে, সেহেতু তাদের সৎপথ দেখানোর জন্য আল্লাহ নবি-রাসুলও পাঠাবেন। তিনি মনে করেন, নবুয়তের ধারা এখনও বলবৎ রয়েছে।
মুরতাজার বিশ্বাসটি চিহ্নিতপূর্বক মানবজীবনে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
মুরতাজার বিশ্বাস অর্থাৎ আখিরাতে বিশ্বাস মানবজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
আখিরাত অর্থ পরকাল। মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলা হয়। আখিরাতের জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। এ জীবনে মানুষকে আল্লাহর কাছে তার কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে হবে এবং সে অনুযায়ী ফল ভোগ করবে। আর এ ধারণাই প্রকাশ পেয়েছে মুরতাজার বিশ্বাসে।
বিশ্বাস করেন, পৃথিবীর সকল মানুষ একদিন সৃষ্টিকর্তার নিকট জবাবদিহি করবে। সেদিন পুণ্যবানদের আরামদায়ক স্থান ও পাপীদের চরম শাস্তির স্থান দেওয়া হবে। তার এ ধারণায় আখিরাতে বিশ্বাস প্রকাশ পায়। মানবজীবনে আখিরাতে বিশ্বাসের প্রভাব অপরিসীম। আখিরাতে মানুষের সকল কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে। তারপর কর্ম অনুযায়ী কেউ মহাসাফল্য অর্জন করবে, আবার কেউ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে। তাই পরকালীন জীবনে মহাসাফল্য পেতে এবং শাস্তি থেকে বাঁচতে মানুষকে সব ধরনের অন্যায় ও অনৈতিক কাজ বর্জন করতে হবে। চির সুখের স্থান জান্নাত লাভ করার জন্য সুন্দর ও নৈতিক জীবন গঠন করে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।
সুতরাং বলা যায়, আখিরাতে বিশ্বাসই মানুষকে সৎকর্মে উৎসাহিত করে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। তাই আমাদেরকে আখিরাতে শাস্তির ব্যাপারে অন্তরে ভয় রাখতে হবে এবং ইসলামি বিধান অনুসারে জীবন পরিচালনা করতে হবে।

