- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব 'ক' পরীক্ষার আগে একটি মাজারে গিয়ে পিরের নামে একটি ছাগল কুরবানি করে এবং তার পরীক্ষার ভালো ফলাফল কামনা। করে। তার বন্ধু 'খ' ইউরোপে পড়াশুনা করতে গিয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। দেশে ফেরার পর কোনো এক রাতে মদ পান করতে দেখলে তার মা তাকে বললেন, তোমার কাজটি সঠিক নয়। উত্তরে 'খ' বলল, আমার। মনে হয় এতে দোষের কিছু নেই।
জনাব 'ক'-এর কর্মকান্ডে কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা। করো।
জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ডে শিরক ফুটে উঠেছে।
শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা। ইসলামি পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। শিরক তাওহিদের বিপরীত। আল্লাহর সাথে শিরক চার ধরনের হতে পারে। এর অন্যতম একটি হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা। যেমন- আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদাহ করা, কারো নামে পশু জবাই করা ইত্যাদি। জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ডে এমনটিই লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের জনাব 'ক' পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের আশায় মাজারের পিরের নামে একটি ছাগল জবাই করে। তার এ কাজটি আল্লাহর ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরক করার শামিল। তাই শিরককারী হিসেবে জনাব 'ক'-কে কঠিন আযাব ভোগ করতে হবে। বস্তুত শিরক অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে সবচেয়ে বড় জুলুম হলো শিরক। আল্লাহ তায়ালা বলেন - - إِنَّ الشَّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ অর্থ: 'নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম।' (সূরা লুকমান, আয়াত ১৩) আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি অপার ক্ষমাশীল ও অসীম দয়াময় হওয়া সত্ত্বেও শিরকের অপরাধ ক্ষমা করেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এছাড়া যেকোনো পাপ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।' (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৮) সুতরাং বলা যায়, জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ড ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ শিরকের অন্তর্ভুক্ত।

