- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
তাযকিয়া একজন মুসলিম। সে নিয়মিত সালাত আদায় করে। কিন্তু ইসলামের কোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। বিষয়টি জানতে পেরে তার এক শিক্ষক বলেন, দুনিয়া ও আখিরাতে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
উদ্দীপকে উল্লেখিত শিক্ষকের মন্তব্যের যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
'দুনিয়া ও আখিরাতে কুফরের পরিণতি ভয়াবহ'- উদ্দীপকে উল্লেখিত শিক্ষকের এ মন্তব্যটি যথার্থ।
আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা কুফরের শামিল। মানবজীবনে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। শুধু দুনিয়াতে নয়; বরং আখিরাতেও এর ফলে মানুষকে অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। কারণ কুফর মানুষের মাঝে অবাধ্যতা ও অকৃতজ্ঞতার জন্ম দেয়। ফলে কাফির ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা, পরকাল, নবি-রাসূল ইত্যাদিতে বিশ্বাস করে না, এজন্য সে দুনিয়ার ভোগ বিলাস, আরাম-আয়েশ ও নানা রকম অন্যায়-অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। সে জান্নাত-জাহান্নাম অবিশ্বাস করে, তাই পরকালের পরোয়া করেনা। ফলে তার কাছে দুনিয়ার জীবন প্রাধান্য পায়। তাই দুনিয়ার স্বার্থে সে মিথ্যাচার, অনাচার, খুন-খারাবি, ছিনতাই প্রভৃতি অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। ফলে সমাজে অনৈতিকতার প্রসার ঘটে। আর এর জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। তাযকিয়ার আচরণে কুফরি প্রকাশ পাওয়ায় তার এক শিক্ষক এমনি মন্তব্য করেছেন।
উদ্দীপকের তাযকিয়া নিজেকে মুসলিম দাবি করে এবং নিয়মিত সালাত আদায় করে। তবে ইসলামের গুরত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করায় সে কুফরিতে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। আর কাফিরদের জন্য পরকালে কঠিন শান্তি অপেক্ষা করছে, যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কারণ আল্লাহ তায়ালা কাফিরদের সম্পর্কে বলেন, 'যারা কুফরি করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে'। (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৩৯)
পরিশেষে বলা যায়, তাযকিয়ার উচিত কুফরি হয় এমন সব ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা এবং সঠিকভাবে তওবা করে আল্লাহর পথে ফিরে আসা। নতুবা পরকালে তাকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
শিরকের বিপরীত কোনটি?
শিরকের বিপরীত হলো তাওহিদ।
ইমান ও ইসলামের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
ইমান ও ইসলামের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।
ইমান মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, অনুরাগ ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের বাসনা সৃষ্টি করে। আর তাতে ইসলাম ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে সজীব ও সতেজ হয়ে পরিপূর্ণ সৌন্দর্যে বিকশিত হয়। ইসলাম হলো ইমানের বহিঃপ্রকাশ। অন্তরের ইমানি চেতনা ইসলামের মাধ্যমে প্রকাশ লাভকরে মানুষকে বল্যাণের পথে পরিচালিত করে। তাই বলা যায়, ইমান ও ইসলাম একটি অপরটির পরিপূরক।
ইসলামের দৃষ্টিতে তাযকিয়ার আচরণ ব্যাখ্যা করো।
ইসলামের দৃষ্টিতে তাযকিয়ার আচরণ কুফরের অন্তর্ভুক্ত।
কুফর অর্থ অবিশ্বাস করা, অস্বীকার করা। আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটিরও প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করাকে কুফর বলে। আর যে ব্যক্তি কুফরে লিপ্ত হয় তাকে বলে কাফির। মানুষ নানাভাবে কুফরে লিপ্ত হতে পারে। যেমন- আল্লাহর অস্তিত্ব ও গুণাবলি অস্বীকার করা, ইসলামের মৌলিক ইবাদত অস্বীকার করা, হারামকে হালাল ও হালালকে হারাম মনে করা, মহানবি (স.) কিংবা কুরআনকে নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করা ইত্যাদি কুফরের অন্তর্ভুক্ত। এ কাজগুলোর মাধ্যমে মানুষ কাফির হয়ে যায়। তাযকিয়ার আচরণেও এরূপ পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের তাযকিয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করে। তার এ কাজটি কুফরের অন্তর্ভুক্ত। কুফর মানুষের মাঝে অবাধ্যতা ও অকৃতজ্ঞতার জন্ম দেয়। ফলে কাফির ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা, পরকাল, নবি-রাসুল ইত্যাদিতে বিশ্বাস করে না, ফলে সে দুনিয়ার ভোগ বিলাস, আরাম-আয়েশ ও নানা রকম অন্যায়-অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। উদ্দীপকের তাযকিয়া মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করে। আর এমন বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করা নিশ্চিতভাবেই কুফর বা অবিশ্বাসের প্রতিই ইঙ্গিত দেয়। তাই বলা যায়, ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করায় তাযকিয়ার আচরণ কুফরির অন্তর্ভুক্ত।

