- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
'ক' এবং 'খ' দু'জন ব্যবসায়ী। 'ক' মদ, জুয়া, সুদ, ঘুষ এগুলোকেই মানুষের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ও বৈধ মনে করে এবং এগুলোর ব্যবসা করে। অপরপক্ষে 'খ' তার সন্তানাদির সফলতা ও নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য জনৈক পিরের পায়ে সিজদাহ করে।
'খ'-এর কাজটি চিহ্নিত করে এর পরিণতি বিশ্লেষণ করো।
'খ'-এর কাজটি শিরকের অন্তর্ভুক্ত। শিরকের কুফল অন্য যেকোনো ধরনের পাপের কুফলের চেয়ে ভয়াবহ।
শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। শিরক হলো তাওহিদের বিপরীত। পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে সবচেয়ে বড় জুলুম হলো শিরক। 'খ'-এর কাজটি এ বিসয়টিকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে 'খ'-তার সন্তানাদির সফলতা ও নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য জনৈক পিরের পায়ে সিজদাহ করে। তার এ কাজ দ্বারা শিরক প্রকাশিত হয়েছে। মূলত আল্লাহ তায়ালা হলেন এক ও অদ্বিতীয়। অথচ তাঁর সভা ও গুণাবলির সাথে কোনো কিছুকে সমান মনে করা হলো শিরক। যেকোনো কাজে সফলতার জন্য একমাত্র আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে হয়। তিনি ছাড়া অন্য কাউকে সাফল্যের কারিগর মনে করা অথবা অন্য কারও কাছে সন্তানাদি প্রার্থনা করা শিরক। শিরক অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। বস্তুত আল্লাহ তায়ালাই আমাদের দ্রষ্টা ও প্রতিপালক। তাঁর প্রদত্ত নিয়ামতই আমরা ভোগ করি। এরপরও কেউ যদি আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করে তবে তা অপেক্ষা বড় জুলুম আর কী হতে পাবে! আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি অপার ক্ষমাশীল ও অসীম দয়াময় হওয়া সত্ত্বেও শিরকের অপরাধ ক্ষমা করেন না। পরকালে মুশরিকদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল-কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে- 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার জন্য অবশ্যই জান্নাত হারাম করে দেবেন। এবং তার আবাস জাহান্নাম।' (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৭২)
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, 'খ' শিরকের গুনাহে লিপ্ত। এ পাপের কারণে মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
জান্নাত কী?
পরকালীন জীবনে পুণ্যবানদের জন্য পুরস্কারস্বরূপ যে আরামদায়ক স্থান তৈরি করে রাখা হয়েছে তাকে বলা হয় জান্নাত।
শাফাআত বলতে কী বোঝায়?
শাফাআত, বলতে কল্যাণ ও ক্ষমা লাভের জন্য কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ তায়ালার কাছে নবি-রাসুল ও নেক বান্দাদের সুপারিশ করাকে বোঝায়।
কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ মানুষের পাপ-পুণ্যের হিসাব নেবেন। তারপর আমল অনুযায়ী প্রত্যেকের জান্নাত-জাহান্নাম নির্ধারণ করবেন এবং পাপীদের জাহান্নাম ও পুণ্যবানদের জান্নাতে যাওয়ার নির্দেশ দেবেন। এ সময় নবি-রাসুল ও নেক বান্দারা অনেক গুনাহগার বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। একেই শাফাআত বলা হয়।
'ক'-এর কাজে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
'ক'-এর কাজে কুফরের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।
কুফর শব্দের আভিধানিক অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, ঢেকে রাখা, গোপন করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অবাধ্য হওয়া ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটিরও প্রতি অবিশ্বাস করাকে কুফর বলে। হারামকে হালাল মনে করাও কুফরির অন্তর্ভুক্ত, যা উদ্দীপকের 'ক'-এর কাজে লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের 'ক' মদ, জুয়া, সুদ, ঘুষ এগুলোকেই মানুষের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ও বৈধ মনে করে এবং এগুলোর ব্যবসা করে। তার এরূপ কাজ কুফরের অন্তর্ভুক্ত। কারণ সে হারাম জিনিসকে হালাল মনে করেছে। অর্থাৎ সে আল্লাহর বিধানকে লঙ্ঘন করেছে। এ কারণে ইসলামে সে কাফির হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ যে ব্যক্তি কুফরে লিপ্ত হয় তাকে বলা হয় কাফির। ইমানের মৌলিক সাতটি বিষয়ে অবিশ্বাস করার মাধ্যমে কুফরি প্রকাশ পায়। এছাড়া কেউ যদি হালাল খাদ্যকে হারাম মনে করে না খায় তাহলেও কুফরি করা হবে। তাছাড়াও যারামকে হালাল মনে করা যেমন-মদ, জুয়া, সুদ, ঘুষ ইত্যাদিকে হালাল বা জায়েয মনে করলেও সে কাফিরে পরিণত হবে। সুতরাং, উদ্দীপকের 'ক'-এর কাজে কুফর প্রকাশ পেয়েছে।

