• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

আরমান সাহেব মসজিদের ইমাম সাহেবের সংস্পর্শে এসে শরিয়তের বিধানাবলি অন্তর থেকে বিশ্বাস করেন এবং সে অনুযায়ী আমল করারও চেষ্টা করেন। অন্যদিকে আরমান সাহেবের বড় ভাই ইমরান সাহেব ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো বিশ্বাস করেন না। এমনকি এ বিষয়গুলোর ব্যাপারে তার সন্দেহও রয়েছে। তাই আরমান সাহেব তার ভাইকে বলেন- যারা ইসলামের মৌসিক বিষয়গুলো বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য রয়েছে শান্তি এবং তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।

ইমরান সাহেবের মনোভাব চিহ্নিত করে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার পরিণতি বিশ্লেষণ করো।

ইমরান সাহেবের মনোভাব কুফরের অন্তর্ভুক্ত, যার ইহকালীন ও পরকালীন পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

কুফর শব্দের অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, গোপন করা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটিরও প্রতি অবিশ্বাস করাকে কুফর বলে। কুফর হলো ইমানের বিপরীত, যা ইমরান সাহেবের মনোভাবেও পরিলক্ষিত হয়।

উদ্দীপকের ইমরান সাহেব ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহে বিশ্বাস করে না। এমনকি এ বিষয়গুলোর ব্যাপারে সে সন্দেহও প্রকাশ করে। তার এ মনোভাবটি কুফরের নামান্তর। কুফরের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কুফর ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবনে অনৈতিকতার ব্যাপক প্রসার ঘটায়। আখিরাতে বিশ্বাস না থাকায় কুফরে লিপ্ত ব্যক্তির নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটে এবং দুনিয়ার স্বার্থে সে নানা ধরনের পাপ ও অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। ফলে সে সবকিছুতে ধৈর্যহারা ও হতাশাগ্রস্ত হয়। তাছাড়া পরকালেও কুফরের পরিণতি হবে জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যারা কুফরি করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী'। (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৩৯)

পরিশেষে বলা যায়, কুফরের পরিণতি ধ্বংস ছাড়া কিছুই না। এটি থেকে সবাইকে বেঁচে থাকতে হবে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

আখিরাত কী?

আখিরাত হলো মানুষের মৃত্যু পরবর্তী জীবন।

#

শাফাআত বলতে কী বোঝায়?

শাফাআত বলতে কল্যাণ ও ক্ষমা লাভের জন্য কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ তায়ালার কাছে নবি-রাসুল ও নেক বান্দাদের সুপারিশ করাকে বোঝায়।

কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ মানুষের পাপ-পুণ্যের হিসাব নেবেন। তারপর আমল অনুযায়ী প্রত্যেকের জান্নাত-জাহান্নাম নির্ধারণ করবেন এবং পাপীদের জাহান্নাম ও পুণ্যবানদের জান্নাতে যাওয়ার নির্দেশ দেবেন। এ সময় নবি-রাসুল ও নেক বান্দারা অনেক গুনাহগার বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। একেই শাফাআত বলা হয়।

#

আরমান সাহেবের কর্মকাণ্ডে আকাইদের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

আরমান সাহেবের কর্মকাণ্ডে ইমান ফুটে উঠেছে।

ইমান শব্দের অর্থ বিশ্বাস করা, মেনে নেওয়া ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, শরিয়তের যাবতীয় বিধি-বিধান, অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং তদানুযায়ী আমল করাকে ইমান বলে, যা আরমান সাহেবের কর্মকাণ্ডেও প্রকাশ পায়।

উদ্দীপকের আরমান সাহেব মসজিদের ইমাম সাহেবের সংস্পর্শে এসে শরিয়তের বিধানাবলি অন্তর থেকে বিশ্বাস করেন এবং সে অনুযায়ী আমল করারও চেষ্টা করেন। তার এ আচরণে ইমানের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। ইমানের পরিচয় সম্পর্কে রাসুল (স.) বলেন, 'ইমান হচ্ছে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ, রাসুলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা'। (মুসলিম) আর এগুলো হলো শরিয়তের বিধি-বিধান। আরমান সাহেব শরিয়তের এসব বিধানের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করায় তার এ আচরণটি ইমানের পর্যায়ভুক্ত।