- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আতিক ও নাদিম দুই বন্ধু। আতিক তাওহিদে বিশ্বাসী। সে বিশ্বাস করে, পরকালে শান্তির আবাস লাভ করতে হলে অবশ্যই আল্লাহর আদেশ-নিষেধ ও মহানবি (স.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ করতে হবে।
পক্ষান্তরে নাদিম দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়। সে আল্লাহর বিধি-বিধান মেনে চলতে চায় না। সে সর্বত্রই ইসলামের বিরোধিতা ও সীমালঙ্ঘন করে। তার অবস্থা দেখে তার পিতা তাকে বলেন, তোমার কর্মকাণ্ডের ফলে তুমি পরকালে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করবে।
সিরাত কীসের উপর স্থাপিত হবে?
সিরাত জাহান্নামের উপর স্থাপিত হবে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
আখিরাতে বিশ্বাসের গুরুত্ব বুঝিয়ে লেখো।
ইমানের মৌলিক বিষয় হওয়ায় আখিরাতে বিশ্বাস অপরিহার্য।
মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। আখিরাতে মানুষকে তার দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাই আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে পাপকাজ থেকে বিরত রাখে এবং পুণ্যকাজে উৎসাহ যোগায়। এছাড়া আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া কেউ প্রকৃত ইমানদার হতে পারে না। এসব কারণে একজন মুসলিমের জন্য আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য।
আতিকের বিশ্বাস অনুযায়ী শান্তির আবাসস্থলের বর্ণনা দাও।
আতিকের বিশ্বাস অনুযায়ী শাড়ির আবাসস্থল হলো জান্নাত।
জান্নাত অর্থ উদ্যান, বাগান, সুশোভিত কানন। ইসলামি পরিভাষায় পরকালীন জীবনে পুণ্যবানদের জন্য পুরস্কারস্বরূপ যে আরামদায়ক স্থান তৈরি করে রাখা হয়েছে তাকে বলা হয় জান্নাত।'জান্নাতে সবধরনের নিয়ামত বিদ্যমান।
মুমিনগণ সেখানে চিরকাল অবস্থান করবেন। তারা সেখানে যা চাইবেন সাথে সাথে তাই পেয়ে যাবেন। আতিকের বিশ্বাসে এই আবাসস্থলেরই বর্ণনা প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের আতিক বিশ্বাস করে, পরকালে শান্তির আবাস লাভ করতে হলে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ ও মহানবি (স.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ করতে হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে তার উল্লিখিত শান্তির আবাস হলো জান্নাত। প্রকৃতপক্ষে জান্নাত চরম সুখের আবাস। দুনিয়াতে যারা ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করে চলবে তারা পরকালে জান্নাত লাভ করবে। সকল কাজকর্মে আল্লাহ তায়ালার আদেশ ও রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করলে জান্নাত লাভ করা সম্ভব হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আর যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিপালকের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং বুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে জান্নাতই হবে তার আবাস।' (সূরা আন-নাযিআত, আয়াত ৪০-৪১) সুতরাং বলা যায়, আতিকের নির্দেশিত আবাস তথা জান্নাত হলো চির সুখ-শান্তি ও অফুরন্ত নিয়ামতের স্থান।
নাদিমের পিতার দৃষ্টিতে নাদিম কোন আবাসস্থল লাভ করবে বলে তুমি মনে কর? ব্যাখ্যা করো।
নাদিমের পিতার দৃষ্টিতে নাদিম জাহান্নাম লাভ করবে।
জাহান্নাম হলো শাস্তির স্থান। পরকালে মুমিনগণের জন্য যেমন জান্নাতের ব্যবস্থা রয়েছে তেমনি পাপীদের জন্য রয়েছে শাস্তির স্থান। আর জাহান্নামই
হলো সে শান্তির জায়গা। জাহান্নামকে (৩৩) (নার) বা আগুনও বলা হয়। যারা আল্লাহর বিধান মানে না এবং ইসলামের বিরোধিতা করে তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী। নাদিম এই আবাসস্থলেরই অধিবাসী হবে।
উদ্দীপকের নাদিম দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়। সে আল্লাহ এবং ইসলামের বিরোধিতা করে। তার এ অবস্থা দেখে তার পিতা তাকে বলেন, তোমার কর্মকান্ডের ফলে তুমি পরকালে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করবে। জাহান্নামকে উদ্দেশ্য করে নাদিমের পিতা যথার্থই বলেছেন। যারা দুনিয়াকে প্রাধান্য দেয় তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'অনন্তর যে সীমালজান করে এবং দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়, জাহান্নামই হবে তার আবাস।' (সূরা আন-নাযিআত, আয়াত ৩৭-৩৯) আর জাহান্নাম হলো ভীষণ শাস্তির স্থান। এটি বিষাক্ত সাপ ও বিচ্ছুর আবাসস্থল। সেখানকার আগুন অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং খাদ্য বড় বড় কাঁটাযুক্ত বৃক্ষ। আর পানীয় হবে উত্তপ্ত রক্ত ও পুঁজ।
পরিশেষে বলা যায়, জাহান্নাম অতি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্থান। এটি থেকে বেঁচে থাকতে হলে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের বিকল্প নেই।

