- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনি মনে করে, শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালা ও শেষ নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে বিশ্বাস করলেই চলবে। আর অন্যান্য নবি-রাসুলকে। বিশ্বাস করার প্রয়োজন নেই। অপরদিকে রনি মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বিশ্বাস করে। কিন্তু সে মনে করে, নিজে নেক আমল করলেই নাজাত পাওয়া যাবে। হাশরের ময়দানে কারও কোনো সুপারিশ লাগবে না।
আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে সৎকাজে উদ্বুদ্ধ করে- বুঝিয়ে লেখো।
আখিরাতে চিরস্থায়ী জীবনে শান্তি লাভের বাসনা মানুষকে সৎকাজে উদ্বুদ্ধ করে।
আখিরাত হলো পরকাল। মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। এটি মানুষের অনন্ত ও চিরস্থায়ী জীবন। মূলত দুর্নিয়ার জীবন হলো আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণের ক্ষেত্র। একজন মুমিন বিশ্বাস করে আখিরাতে সুখ লাভ বা চিরস্থায়ী জান্নাত লাভের জন্য দুনিয়ায় সৎকাজ করতে হবে। অন্যথায় আখিরাতে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ বিশ্বাসই মানুষকে সৎকাজে উদ্বুদ্ধ করে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
শিরক কী?
মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাই শিরক।
জনির ধারণায় কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
নবি-রাসুলদের প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশিত হওয়ায় 'জনির ধারণায় কুফর ফুটে উঠেছে।
কুফর ইমানের ঠিক বিপরীত। ইসলামের মৌলিক সাতটি বিষয়ের যেকোনো একটির প্রতি অবিশ্বাস বা সন্দেহ পোষণ করাই কুফর। এ সাতটি বিষয় হলো এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস, নবি-রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাস, আসমানি কিতাবের প্রতি বিশ্বাস, তকদিরের (ভাগ্যের ভালো-মন্দ) ওপর বিশ্বাস, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের (পুনরায় জীবিত হওয়া) ওপর বিশ্বাস এবং আখিরাত বা পরকালের প্রতি বিশ্বাস, যার প্রতি জনি অবিশ্বাস পোষণ করেছে।
জনি শুধু আল্লাহ তায়ালা ও রাসুল (স.)-কে বিশ্বাস করেছে, যা ইসলামের মৌলিক বিষয়কে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে। মানবজাতির হিদায়াতের জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে বহু নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। নবি-রাসুলগণ ছিলেন আল্লাহ তায়ালার মনোনীত বান্দা। সকল সৃষ্টির মধ্যে তাঁরাই সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তাঁরা ছিলেন নিষ্পাপ। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে তাঁরা মানবজাতিকে মহান আল্লাহর পথে ডেকেছেন, সত্য ও ন্যায়ের পথ দেখিয়েছেন, ইহকালীন ও পরকালীন শান্তি ও মুক্তির দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন। নবি-রাসুলগণের প্রতি এরূপ বিশ্বাস রাখা ইমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর যারা এ বিষয়টিতে অবিশ্বাস পোষণ করবে তারা কাফির। সুতরাং বলা যায়, জনির ধারণায় কুফর ফুটে উঠেছে।
রনির বক্তব্যে হাশরের মাঠের কোন বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে? তা চিহ্নিতপূর্বক এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
রনির বক্তব্যে হাশরের মাঠের শাফাআতের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। আখিরাতের স্তর হিসেবে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
শাফাআত শব্দের অর্থ সুপারিশ করা, অনুরোধ করা ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় কল্যাণ ও ক্ষমার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট নবি-রাসুল ও নেক বান্দাগণের সুপারিশ করাকে শাফাআত বলে, যা রনি অস্বীকার করেছে।
উদ্দীপকে রনি মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে বিশ্বাস করলেও সে মনে করে, হাশরের ময়দানে কারও সুপারিশ লাগবে না। এর মাধ্যমে মূলত সে আখিরাতের অন্যতম স্তর শাফাআতকে অস্বীকার করে। তার এরূপ মনোভাব কুফরির শামিল।
কিয়ামতের দিন জান্নাত লাভের জন্য শাফাআতের গুরুত্ব অপরিসীম। কিয়ামতের দিন পাপীদের ক্ষমা ও পুণ্যবানদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য শাফাআত করা হবে। নবি-রাসুল, ফেরেশতা, শহিদ, আলেম, হাফিয এ শাফাআতের সুযোগ পাবেন। আল-কুরআন ও সিয়াম (রোযা) কিয়ামতের দিন শাফাআত করবে বলেও হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা মানুষের সকল কাজকর্মের হিসাব নেবেন। তারপর আমল অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারণ করবেন। তখন মহান আল্লাহ পুণ্যবানগণকে জান্নাতে ও পাপীদের জাহান্নামে যাওয়ার নির্দেশ দেবেন। নবি-রাসুল ও পুণ্যবান বান্দাগণ এ সময় আল্লাহর দরবারে শাফাআত করবেন। ফলে অনেক পাপীকে মাফ করা হবে। এরপর তাদেরকে জাহান্নাম থেকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। আবার অনেক পুণ্যবানও এদিন শাফাআত করবে।
ফলে তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। শাফাআত একটি বিরাট নিয়ামত। মহানবি (স.)-এর শাফাআত ব্যতীত কিয়ামতের দিন সফলতা, কল্যাণ ও জান্নাত লাভ করা সম্ভব হবে না।
পরিশেষে বলা যায়, রনির বক্তব্যে হাশরের মাঠের শাফাআতের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। আমরা শাফাআতে বিশ্বাস স্থাপন করব। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.)-কে ভালোবাসব। তাহলেই আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.)-এর শাফাআত লাভে ধন্য হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব।

