- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব আশরাফ সাহেবের একমাত্র সন্তান লাবিদ। সে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তার পিতা স্থানীয় একটি মাজারে গরু মানত। করে ছেলের সুস্থতার জন্য বাবার কাছে প্রার্থনা করলেন। অপরপক্ষে। তার বড় ভাই বারাকাত সাহেব কঠোর পরিশ্রম করে ব্যবসা পরিচালনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জীবনের উন্নতি ও অবনতি শুধু কর্মের ওপর নির্ভরশীল।
জনাব বারাকাত সাহেবের বিশ্বাসে ইমানের কোন মৌলিক বিষয়কে অস্বীকার করা হয়েছে? এরূপ বিশ্বাসের পরিণতি বিশ্লেষণ করো।
জনাব বারাকাত সাহেবের বিশ্বাসে ইমানের অন্যতম মৌলিক বিষয় তকদিরে বিশ্বাসকে অস্বীকার করা হয়েছে।
তকদির অর্থ হলো নির্ধারিত পরিমাণ, ভাগ্য বা নিয়তি। আল্লাহ তায়ালা মানুষের তকদিরের নিয়ন্ত্রক। তিনিই মানুষের জীবনের ভালোমন্দের নির্ধারণকারী। সবক্ষেত্রে এমন বিশ্বাস স্থাপন করাই হলো তকদিরে বিশ্বাস। বারাকাত সাহেবের বিশ্বাসে এ বিষয়টিকেই অস্বীকার করা হয়েছে। ইমানের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটি অস্বীকার করা হলেও তা কুফর হিসেবে গণ্য হবে। আর জন্যক বারাকাতের আচরণে এরূপ অস্বীকৃতিই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের জনাব বারাকাত সাহেব ব্যবসায়ের সফলতাকে শুধু কর্মের ওপর নির্ভরশীল মনে করেন। তার এ ধারণায় তকদিরে অবিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে। আর তকদিরে অবিশ্বাসী ব্যক্তি কাফির হিসেবে গণ্য। মানবজীবনে কুফরের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কুফরের ফলে শুধু দুনিয়াতেই নয়, বরং আখিরাতেও মানুষকে শোচনীয় পরিণতি বরণ করতে হবে। কাফির ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও তকদিরে অবিশ্বাস করে। ফলে সে যেকোনো বিপদে-আপদে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ে। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে ধৈর্যধারণ করতে পারে না। অন্যদিকে তকদিরে বিশ্বাস না থাকায় যেকোনো ব্যর্থতায় সে চরম হতাশ হয়ে পড়ে। এছাড়া কুফর মানুষের মধ্যে অবাধ্যতা ও অকৃতজ্ঞতার জন্ম দেয়। মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে মানুষকে তার কৃতকর্মের জন্য মহান আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে এরূপ ধারণাও কাফির ব্যক্তি অস্বীকার করে। ফলে সে পাপাচারে লিপ্ত হতে দ্বিধাবোধ করে না। কাফিরদের পরিণতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, 'আর যারা কুফরি করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরদিন থাকবে।' (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৩৯)
আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, ইমানের সকল মৌলিক বিষয় পরিপূর্ণ বিশ্বাস করা একান্ত জরুরি। এর ব্যত্যয় ঘটলে মানুষ কাফির হয়ে যাবে, যার পরিণতি জাহান্নাম।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
আকাইদ কী?
ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসই আকাইদ।
নবি-রাসুল প্রেরণের কারণ ব্যাখ্যা করো।
নবি-রাসুল প্রেরণের কারণ হলো তাঁদের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহ তায়ালার পরিচয় জানানো এবং মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা।
আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাঁর জাত-সিফাত, ক্ষমতা, নিয়ামত ইত্যাদি বিষয়ের কথা মানুষের কাছে প্রকাশ করেছেন। এছাড়া মানুষকে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত ও ধর্মীয় নানা বিধি-বিধান শিক্ষা দেওয়া এবং মানুষকে সত্য, সুন্দর জীবনের দিকে আহ্বান করাও নবি-রাসুল প্রেরণের কারণ ছিল।
জনাব আশরাফ সাহেবের কর্মকান্ডে কী ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
জনাব আশরাফ সাহেবের কর্মকান্ডে শিরক ফুটে উঠেছে।
শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। আশরাফের কাজে এ বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকে জনাব আশরাফ সাহেবের একমাত্র সন্তান লাবিদ। সে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর পিতা আশরাফ সাহেব স্থানীয় একটি মাজারে গরু মানত করে ছেলের সুস্থতার জন্য মাজারের বাবার কাছে প্রার্থনা করলেন। তার এ কাজটি জঘন্য পাপকাজ শিরককে ধারণ করে। কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে শরিক করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আর শিরক হলো পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে সবচেয়ে বড়। মানুষ শিরকের পর্যায়ভুক্ত যেসব কাজ করে তা সম্পূর্ণ অর্থহীন। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন, 'কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।' (সূরা আশ-শুরা, আয়াত ১১) অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যদি সেথায় (আসমান ও জমিনে) আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ থাকতো, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।' (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ২২) মহান আল্লাহ যেসব ক্ষমতার অধিকারী, তাঁর পরিবর্তে সেসব কাজ করার এখতিয়ার কারও নেই। এ হিসেবে সরকারি মেডিকেলে চান্স পাইয়ে দেওয়া একমাত্র আল্লাহর পক্ষেই সম্ভব, কোনো মৃত অলির পক্ষে নয়।
সুতরাং প্রমাণিত হয় যে, জনাব আশরাফের কাজটি শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আর ইসলামি শরিয়তে এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

