- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মনির ও নাসির একদিন পড়ন্ত বিকেলে ধানক্ষেতের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। মনির তখন সবুজ ধানক্ষেত আর তার পাশ দিয়ে বয়ে চলা নদী দেখিয়ে নাসিরকে বলে, দেখো প্রকৃতি আমাদের কত কিছু দান করেছে। নাসির তখন বলে, প্রকৃতি বলতে কিছু নেই। জগৎ সংসারের সব কিছুই মহান এক সত্তার সৃষ্টি। তিনিই সব কিছুর পরিচালক 'ও একচ্ছত্র মালিক। মনিরের আত্মীয় সাইফুল মনিরকে একদিন বলে, হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর পর গোলাম আহমদ নামে আরও একজন নবি এসেছিলেন। তার ওপরও বিশ্বাস করা জরুরি। একথা শুনে মনিরের বাবা বলেন, প্রকৃত ইমানদার হতে হলে ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের ওপর অবশ্যই ইমান রাখতে হবে।
উদ্দীপকে নাসিরের বক্তব্যে ইমানের কোন মৌলিক বিষয়ের প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে নাসিরের বক্তব্যে ইমানের সর্বপ্রথম বিষয় আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে।
ইমানের সাতটি মৌলিক বিষয়ের মধ্যে সর্বপ্রথম বিষয় হচ্ছে আল্লাহর ওপর গভীর বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপন করা। আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি আমাদের রব, সৃষ্টিকর্তা, জন্ম ও মৃত্যুর মালিক। তিনি সব গুণের আধার এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তা। এ পৃথিবী এবং পৃথিবীতে বিদ্যমান সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে মহান আল্লাহকে মেনে নেওয়াই ইমানের প্রথম কথা, যা নাসিরের বক্তব্যেও প্রতিফলিত হয়েছে।
নাসিরের বন্ধু মনির সবুজ ধানক্ষেত আর তার পাশ দিয়ে বয়ে চলা নদী দেখিয়ে, প্রকৃতির বিরোধিতা করে তাকে বলে, দেখো প্রকৃতি বলতে কিছু নেই। জগৎ সংসারের সবকিছুই মহান এক সত্তার সৃষ্টি। তিনিই সবকিছুর পরিচালক ও একচ্ছত্র মালিক। প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতি আমাদের কিছু দেয়নি। বরং প্রকৃতিকেই মহান আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। তিনি সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। তিনি আসমান-জমিন, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত সৃষ্টি করেছেন। তিনিই মানুষের কল্যাণে সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য নিয়ামত। সবুজ ধানক্ষেত ও নদী তার নিয়ামতেরই অংশ। মানুষের কর্তব্য হলো আল্লাহকে যাবতীয় কিছুর সৃষ্টিকর্তা ও রিজিকদাতা হিসেবে মেনে নিয়ে 'তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। আর ইমানের এ মূল বিষয়টিই নাসিরের বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
রিসালাত কাকে বলে?
মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালাত বলা হয়।
আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য কেন? ব্যাখ্যা করো।
ইমানের মৌলিক বিষয় হওয়ায় আখিরাতে বিশ্বাস অপরিহার্য।
মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। আখিরাতে মানুষকে তার দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাই আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে পাপকাজ থেকে বিরত রাখে এবং পুণ্যকাজে উৎসাহ জোগায়। এছাড়া আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া কেউ প্রকৃত ইমানদার হতে পারে না। এসব কারণে একজন মুসলিমের জন্য আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য।
সাইফুলের বক্তব্যে আকাইদের যে বিষয় লঙ্ঘিত হয়েছে তা চিহ্নিতপূর্বক মনিরের বাবার বক্তব্যের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
সাইফুলের বক্তব্যে আকাইদের অন্যতম বিষয় খতমে নবুয়তে বিশ্বাস লঙ্ঘিত হয়েছে। এ বিষয়ে মনিরের বাবার বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
খাতামুন অর্থ শেষ, সমাপ্তি। আর নবুয়ত হলো নবিগণের দায়িত্ব। সুতরাং খতমে নবুয়তের অর্থ নবুয়তের সমাপ্তি। আল্লাহ তায়ালা মানব জাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। সর্বপ্রথম নবি ছিলেন হযরত আদম (আ.) এবং সর্বশেষ নবি ও রাসুল হলেন হযরত মুহাম্মদ (স.)'। তাঁর মাধ্যমেই নবুয়তের ধারার সমাপ্তি ঘটেছে। এ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। কিন্তু সাইফুলের বক্তব্য এর বিপরীত।
সাইফুলের বক্তব্য অনুযায়ী, হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর পর গোলাম আহমদ নামে আরও একজন নবি এসেছিলেন। তার ওপরও বিশ্বাস করা জরুরি। এ কথা শুনে মনিরের বাবা বলেন, প্রকৃত ইমানদার হতে হলে ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের ওপর অবশ্যই ইমান রাখতে হবে। তার বস্তুব্য সম্পূর্ণরূপে সঠিক। কারণ খতমে নবুয়তে বিশ্বাস করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে দীনের পূর্ণতা ঘোষিত হয়েছে এবং নবুয়তের ধারার পরিসমাপ্তি হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা নিজে হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে খাতামুন নাবিয়্যিন তথা সর্বশেষ নবি বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া মহানবি (স.) নিজেই বলেছেন, 'আমিই শেষ নবি। আমার পরে কোনো নবি নেই।' (সহিহ মুসলিম) রাসুল (স.)-এর পরে আজ পর্যন্ত কোনো নঝি আসেননি, কিয়ামত পর্যন্ত আসবেনও না। তাঁর মৃত্যুর পর যারা নবুয়ত দাবি করেছে তারা সবাই ভণ্ড, মিথ্যাবাদী ও প্রতারক। তাই একমাত্র মুহাম্মদ (স.)-কেই শেষ নবি হিসেবে-বিশ্বাস করতে হবে। তাঁর ওপর বিশ্বাস করা ইমানের অন্যতম অঙ্গ।
উপরের আলোচনায় প্রমাণ হয় যে, হযরত মুহাম্মদ (স.) সর্বশেষ নবি। এটি ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের অন্যতম। তাই এটির ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। কিন্তু সাইফুল মুহাম্মদ (স.)-এর পর গোলাম আহম্মদ নামের নবির আগমনের কথা বলে এ বিধানকে লঙ্ঘন করেছেন, যা সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী।

