- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মারুফদের ঘর মসজিদের পাশেই। একদিন ভোরে মসজিদ থেকে ভেসে আসা আযানের ধ্বনি শুনে সে বিরক্ত হয়। সকাল বেলা তার মায়ের কুরআন তিলাওয়াতেও বিরূপ মন্তব্য করে ঘুমের ব্যাঘাত হওয়ার অজুহাত তুলে। এবার ঈদুল আযহায় মারুফের বাবা 'হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান স্মৃতি স্মরণ করে তার পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর নামে তাদের কুরবানির গরুটা জবাই করেন।
ইমান ও ইসলামের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য- বুঝিয়ে লেখো।
ইমান ও ইসলামের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান।
ইসলাম হলো ইমানের বহিঃপ্রকাশ। ইমান মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, অনুরাগ ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের বাসনা সৃষ্টি করে। অন্তরের ইমানি চেতনা ইসলামের মাধ্যমে প্রকাশ লাভ করে মানুষকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করে। তাই বলা যায়, ইমান ও ইসলাম একটি অপরটির পরিপূরক।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
আখিরাত কাকে বলে?
মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলে।
মারুফের মনোভাবে কোন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
মারুফের মনোভাবে কুফর প্রকাশ পেয়েছে।
কুফর শব্দের অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, ঢেকে রাখা, গোপন করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অবাধ্য হওয়া ইত্যাদি। এটি ইমানের বিপরীত। মারুফের মনোভাবে এ বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।
মারুফ আযানের ধ্বনি শুনে বিরক্ত হয়। তার মা কুরআন তিলাওয়াত করলে সে বিরূপ মন্তব্য করে। এতে বোঝা যায়, সে সালাত ও কুরআনকে অস্বীকার করে। তার এরূপ মনোভাব কুফরকেই তুলে ধরে। কারণ আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটির প্রতি অবিশ্বাস করাকে কুফর বলা হয়। যে ব্যক্তি কুফরে লিপ্ত হয় তাকে কাফির বলে। মানুষ নানাভাবে কাফির হতে পারে। যেমন- ইমানের মৌলিক সাতটি বিষয় অস্বীকার করা। অর্থাৎ ফেরেশতা, নবি-রাসুল, আসমানি কিতাব, আখিরাত, তকদির ইত্যাদি অবিশ্বাস করা। আবার ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলো অস্বীকার করাও কুফরের পর্যায়ভুক্ত। যেমন- সালাত, সাওম, হজ ইত্যাদিকে ইবাদত হিসেবে না মানা, এগুলো পালন না করা। উদ্দীপকের মারুফের মনোভাব ইসলামের এসব মৌলিক ইবাদত অস্বীকার করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এ কারণে তার মধ্যে কুফরি বিদ্যমান।
মারুফের বাবার কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তাকে কি একজন মুমিন বলা যায়? যৌক্তিক মতামত দাও।
মারুফের বাবার কর্মকাণ্ড বিবেচনায় তাকে মুমিন বলা যায় না।
যে ব্যক্তি শরিয়তের যাবতীয় বিধি-বিধান অন্তরে বিশ্বাস করে, মুখে স্বীকার করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে তাকে মুমিন বলা হয়। মারুফের বাবার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম লক্ষ করা যায়।
মারুফের বাবা, ইসমাইল (আ.)-এর নামে কুরবানির গরু জবাই করেছে। অথচ ইমানের সাতটি মূল বিষয়ের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয় হলো, আল্লাহ তায়ালার প্রতি বিশ্বাস। এ বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালাকে সমস্ত প্রশংসা ও ইবাদতের একমাত্র মালিক মনে করতে হবে। তাঁর জন্যই সব ইবাদত করতে হবে। কারণ তাঁর সাথে তুলনীয় কেউ নেই। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 'কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।' (সূরা আশ শুরা, আয়াত ১১) কেউ এর ব্যতিক্রম করলে শিরকের গুনাহ হবে। কারণ শিরক চার ধরনের হতে পারে। এর একটি হলো- ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ ছাড়া কারও নামে পশু জবাই করা, আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদাহ করা।
উপরের আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয়, মারুফের বাবা ইমানের সর্বপ্রথম শর্ত না মেনে শিরকের গুনাহ করছেন, আর এ ধরনের মানুষ কখনো মুমিন হতে পারে না।

