- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব 'X' একদিন বন্ধু-বান্ধবদের সাথে বসে টিভিতে বিশাল হাতির পাল দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে বললেন, নিশ্চয়ই এদের লালন-পালন একক স্রষ্টার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য ফেরেশতাদের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে জনাব 'Y' তার ছোট ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বললেন, তুমি যদি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করো, তাহলে তোমাকে একটি দামি ঘড়ি কিনে দেব। সে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে বড় ভাইয়ের কাছে ঘড়ি দাবি করলে তিনি বললেন, এমন কোনো কথা তো তোমার সাথে ছিল না।
জনাব 'Y' এর কর্মকাণ্ড চিহ্নিতপূর্বক তার পরিণতি বিশ্লেষণ করো।
জনাব 'Y' এর কর্মকাণ্ডে মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হওয়ায় তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন করে মুখে ইসলামকে স্বীকার করার নাম হলো নিফাক। যে এরূপ কাজ করে তাকে বলা হয় মুনাফিক। তবে রাসুল (স.) মুনাফিকের তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলোর মধ্যে ওয়াদা ভঙ্গ করা একটি, যেটি জনাব 'Y' এর মধ্যে লক্ষ করা যায়।
জনাব 'Y' তার ছোট ভাইকে পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের বিনিময়ে একটি দামি ঘড়ি, কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ছোট ভাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে তার নিকট ঘড়ি দাবি করলে তিনি তার প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করেন। এভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষা না করা মুনাফিকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। কারণ রাসুল (স.) বলেছেন, 'মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি। যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে, আর যখন কোনো কিছু তার কাছে আমানত রাখা হয় তার খিয়ানত করে।' (সহিহ বুখারি) আর এ ধরনের কাজের জন্য জনাব 'Y' দুনিয়া ও আখিরাতের উভয় স্থানে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। কেননা মুনাফিকদের মানুষ সন্দেহ ও ঘৃণার চোখে দেখে। ফলে তারা সমাজের মানুষের কাছে অপমানিত ও লাখ্যিত হয়ে জীবন কাটায়। পরকালীন জীবনে তাদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে।' (সূরা আল-নিসা, আয়াত ২৪৫)
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, জনাব 'Y' ওয়াদা ভঙ্গ করে মুনাফিকি করেছেন। এ জন্য তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবেন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
রিসালাত কাকে বলে?
মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালাত বলা হয়।
হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে কেন 'খাতামুন নাবিয়্যিন' বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে নবুয়তের ধারার সমাপ্তি ঘটেছে। এ কারণে তাঁকে খাতামুন নাবিয়্যিন বলা হয়।
খাতামুন অর্থ শেষ, সমাপ্তি। আর নবুয়ত হলো নবিগণের দায়িত্ব। খতমে নবুয়তের অর্থ নবুয়তের সমাপ্তি। যার মাধ্যমে নবুয়তের ধারার সমাপ্তি ঘটে তিনি হলেন খাতামুন নাবিয়্যিন বা সর্বশেষ নবি। হযরত মুহাম্মদ (স.) নবি-রাসুলগণের ধারায় সর্বশেষ আগমন করেছেন। তাঁর মাধ্যমে নবুয়তের ধারার পরিসমাপ্তি ঘটেছে। এ কারণেই তাঁকে খাতামুন নাবিয়্যিন বলা হয়।
জনাব 'X' এর বক্তব্যে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
জনাব 'X' এর বক্তব্যে শিরক প্রকাশ পেয়েছে।
শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। জনাব 'X' এর বক্তব্যে এ বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।
জনাব 'X' টিভিতে বিশাল হাতির পাল দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে বলেন, নিশ্চয়ই এদের লালন-পালন একক স্রষ্টার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য ফেরেশতাদের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। তার এরূপ ধারণা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। কারণ সৃষ্টিজগতের পরিচালনায় কাউকে আল্লাহর অংশীদার বানানো সুস্পষ্টভাবে শিরক। মহান আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি এ মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রক্ষাকর্তা। এ বিশ্বজগৎ পরিচালনায় তাঁর কারও সহযোগিতার প্রয়োজন হয় না। তিনি মহা পরাক্রমশালী। তাই একটি হাতির পাল লালন-পালনে ফেরেশতাদের সহযোগিতার প্রয়োজন মনে করা শিরকের প্রকাশ। কারণ ফেরেশতাগণই মহান আল্লাহর সৃষ্টি। তাঁরা সর্বদা তাঁর ইবাদত পালনে মশগুল থাকেন। আল্লাহ তায়ালা নিজেই বলেছেন, 'কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।' (সূরা আশ-শুরা, আয়াত ১১) তাই বলা যায়, জনাব 'X' 'ফেরেশতাদের আল্লাহর অংশীদার বিবেচনা করে শিরক করেছেন।

