• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

সালাম ও কালাম দু'বন্ধু কক্সবাজারে বেড়াতে যায়। সমুদ্র সৈকতে অবস্থান করার সময় তাদের চোখের সামনে একজন পর্যটক মৃত্যুবরণ করে। এ দৃশ্য দেখে সালাম বলে, যারা দ্রষ্টাসহ কিছু বিষয়ের ওপর আস্থা রেখে মৃত্যুবরণ করে তারা জান্নাতি। একথা শোনার পর কালাম বলে, আমরা যে দীনের বিধি-বিধান পালন করি তা সেকেলে হয়েছে। আমাদের গ্রামের 'ক' নামক পির বাবাই শেষ জামানার দীনের পথপ্রদর্শক। তিনিই সুপারিশ করে আমাদেরকে জান্নাতে নেবেন।

'দুনিয়া হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র'- ব্যাখ্যা করো।

'দুনিয়া হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র'- উক্তিটি যথার্থ।

মৃত্যুর পরবর্তী জীবন হলো আখিরাত। এটি চিরস্থায়ী। পক্ষান্তরে দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। দুনিয়ার জীবন হলো আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণের ক্ষেত্র। মানুষ শস্যক্ষেত্রে যেরূপ চাষাবাদ করে, বীজ বপন করে, পরিচর্যা করে, ঠিক সেরূপই ফল লাভ করে। যদি কোনো ব্যক্তি তার শস্যক্ষেত্রের পরিচর্যা না করে তবে সে ভালো ফসল পাবে না। তদুপ দুনিয়ার কাজকর্মের প্রতিদান আখিরাতে দেওয়া হবে। দুনিয়াতে ভালো কাজ করলে আখিরাতে মানুষ পুরস্কৃত হবে। আর মন্দ কাজ করলে শাস্তি ভোগ করবে। এ জন্যই দুনিয়াকে আখিরাতের শস্যক্ষেত্র বলা হয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

জান্নাত কী?

পরকালীন জীবনে পুণ্যবানদের জন্য পুরস্কারস্বরূপ যে আরামদায়ক স্থান তৈরি করে রাখা হয়েছে তাই জান্নাত।

#

সালামের কথায় আকাইদের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

সালামের কথায় আকাইদের অন্যতম বিষয় ইমানের দিকটি ফুটে উঠেছে।

ইমান অর্থ বিশ্বাস। একজন মুসলিমের ইমানের কতগুলো মৌলিক বিষয়ে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হয়। এগুলো আল-কুরআন ও হাদিস দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। এ বিষয়গুলোতে বিশ্বাস ছাড়া কেউ মুমিন বা মুসলিম হতে পারে না। এরূপ বিষয় মোট ৭টি। সালামের বক্তব্যেও ইমানের এ বিষয়গুলোর ইঙ্গিত রয়েছে।

সালাম সমুদ্র সৈকতে একজন পর্যটকের মৃত্যুর দৃশ্য অবলোকন করে। এ দৃশ্য দেখে সে বলে, যারা দ্রষ্টাসহ কিছু বিষয়ের ওপর আস্থা রেখে মৃত্যুবরণ করে তারা জান্নাতি। এ বক্তব্যের মাধ্যমে সালাম ইমানের মৌলিক সাতটি বিষয়কেই নির্দেশ করেছে। ইমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয় হলো আল্লাহ তায়ালার প্রতি বিশ্বাস। আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ বা মাবুদ নেই। তিনি সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। এছাড়া ফেরেশতাগণ, আসমানি কিতাবসমূহ, নবি-রাসুলগণ, আখিরাত, তাকদির ও মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। এর যে কোনো একটির প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করা কুফরির শামিল। তাই বলা যায়, সালাম ইমানের এ মৌলিক বিষয়গুলোর কথাই বলেছেন। যেগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে মুমিন বা মুসলমান হওয়া যায় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাত লাভ করা সম্ভব হয়।

#

কালামের কর্মকান্ডের পরিণতি বিশ্লেষণ করো।

কালামের কর্মকাণ্ডে খতমে নবুয়তে অবিশ্বাস প্রকাশিত হওয়ায় তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

খতমে নবুয়তে বিশ্বাস করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য। এর অর্থ হলো হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে শেষ নবি হিসেবে মেনে নেওয়া। কারণ তাঁর মাধ্যমে দীনের পূর্ণতা ঘোষিত এবং নবুয়তের ধারা সমাপ্ত হয়েছে। আল্লাহ-তায়ালা স্বয়ং তাঁকে 'খাতামুন নাবিয়্যিন' তথা সর্বশেষ নবি বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু উদ্দীপকের কালামের কর্মকান্ড এর বিপরীত।

কালামের ধারণা আমরা যে ইসলামের বিধি-বিধান পালন করি তা সেকেলে হয়েছে। সে মনে করে গ্রামের 'ক' নামক পির বাবাই শেষ জামানার দীনের পথপ্রদর্শক। তিনিই সুপারিশ করে সবাইকে জান্নাতে নেবেন। তার এ ধারণা কুফরির অন্তর্ভুক্ত। কারণ হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে খাতামুন নাবিয়্যিন হিসেবে বিশ্বাস করা ইমানের অন্যতম অঙ্গ। মহানবি (স.) নিজেই ঘোষণা করেছেন, 'আমিই শেষ নবি, আমার পরে আর কোনো নবি নেই।' (সহিহ মুসলিম) শেষ বিচারের দিন কোনো পির নয় বরং একমাত্র সর্বশেষ নবি ও রাসুল (স.) আমাদের জন্য সুপারিশ করার অধিকার লাভ করবেন। যারা এ বিষয়টি অস্বীকার করবে তারাও কাফির। কুরআন-হাদিস অনুযায়ী একজন কাফিরের সর্বশেষ ঠিকানা হলো জাহান্নাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যারা কুফরি করবে এবং আমার নিদর্শনগুলো অস্বীকার করবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।" (সূরা আল বাকারা, আয়াত ৩৯)

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, খতমে নবুয়তে অবিশ্বাস করে কালাম কুফরি করেছে। তাই এ ধরনের মনোভাব পরিহার না করলে তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে।