• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনাব 'ক' একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তিনি অফিসের কাজকর্ম করতে গিয়ে লোকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেন। তার স্ত্রী সাবিহা তাকে এ সমস্ত টাকা নিতে নিষেধ করলে তিনি বলেন, এ টাকা বৈধ। কারণ আমি দ্রুত তাদের কাজ করে দেই। সাবিহার কোনো সন্তান না থাকায় সে মিরপুর মাজারে গিয়ে পির বাবার কাছে সন্তান চাইল। তার স্বামী বলল, 'পির বাবার সন্তান দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তুমিতো আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারতে। আমাদের সবকিছু তাঁর হাতে।'

নবি-রাসুল প্রেরণের কারণ ব্যাখ্যা করো।

নবি-রাসুল প্রেরণের কারণ হলো তাঁদের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহ তায়ালার পরিচয় জানানো এবং মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা।

আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাঁর জাত-সিফাত, ক্ষমতা, নিয়ামত ইত্যাদি বিষয়ের কথা মানুষের কাছে প্রকাশ করেছেন। এছাড়া মানুষকে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত ও ধর্মীয় নানা বিধি-বিধান শিক্ষা দেওয়া এবং মানুষকে সত্য, সুন্দর জীবনের দিকে আহ্বান করাও নবি-রাসুল প্রেরণের কারণ ছিল।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

ইমানের সর্বপ্রথম বিষয় কোনটি?

ইমানের সর্বপ্রথম বিষয় আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস।

#

জনাব 'ক' এর ধারণাটি কীসের শামিল? ব্যাখ্যা করো।

জনাব 'ক' এর ধারণাটি কুফরের শামিল।

কুফর শব্দের অর্থ হলো অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, ঢেকে রাখা, গোপন করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অবাধ্য হওয়া ইত্যাদি। কুফর হলো ইমানের বিপরীত। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোতে বিশ্বাসের নাম ইমান। আর এসব বিষয়ে অবিশ্বাস করা হলো কুফর। জনাব 'ক' এর ধারণাতেও এর বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়।

জনাব 'ক' অফিসের কাজকর্ম করতে গিয়ে লোকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেন এবং এ টাকা নেয়াকে তিনি বৈধ মনে করেন। কারণ তার ধারণা টাকার বিনিময়ে তিনি তাদের দ্রুত কাজ করে দেন। তার এ মানসিকতা কুফরের নামান্তর। কেননা আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটির প্রতি অবিশ্বাস করাকে কুফর বলা হয়। যেমন- হারামকে হালাল মনে করা। আমরা জানি, স্বাভাবিক প্রাপ্যের পরও অসদুপায়ে অতিরিক্ত সম্পদ বা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা ঘুষের অন্তর্ভুক্ত। আর ঘুষ ইসলামে সম্পূর্ণরূপে হারাম। জনাব 'ক' এর সততার সাথে অফিসের কাজ করা ছিল তার দায়িত্ব। এজন্য তিনি নির্ধারিত বেতনও পেয়ে থাকেন। তাই দ্রুত কাজ করার বিনিময়ে লোকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা ঘুষের পর্যায়ভুক্ত। সুতরাং বলা যায়, জনাব 'ক' ঘুষের মতো একটি হারাম বিষয়কে হালাল মনে করে কুফরি করেছেন।

#

সাবিহার কর্মটি চিহ্নিতপূর্বক তার-স্বামীর মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

সাবিহার কর্মটি শিরকের অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে তার স্বামীর মন্তব্যটি যথার্থ।

শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। সাবিহার কাজে এ বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

সাবিহার কোনো সন্তান না থাকায় সে মাজারে গিয়ে পিয় বাবার কাছে সন্তান চায়। তার এ কাজটি জঘন্য পাপ কাজ, যা শিরককে ধারণ করে। কারণ কোনো কিছু চাওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে অংশীদার করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। সাবিহা পির বাবার কাছে সন্তান প্রার্থনা করে তাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করেছেন। এ বিষয়ে সাবিহার স্বামী তাকে বলেন, পির বাবার সন্তান দেয়ার ক্ষমতা নেই। তুমিতো আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারতে। আমাদের সবকিছু তাঁর হাতে। তার এ বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে সঠিক। কেননা যাবতীয় কিছু দেয়ার একমাত্র মালিক আল্লাহ তায়ালা। তাই যা কিছু চাওয়ার মহান আল্লাহ তায়ালার কাছেই চাইতে হবে। আল্লাহ তায়ালা নিজেই বলেছেন, 'কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।' (সূরা আশ-শুরা, আয়াত ১১) অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যদি সেথায় (আসমান ও ডামিনে) আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ থাকত তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।" (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ২২) মহান আল্লাহ অসীম ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর ক্ষমতার কারও সাথে তুলনীয় নয়। সন্তান দেওয়া একমাত্র আল্লাহর পক্ষেই সম্ভব। কোনো পির বাবার পক্ষে সম্ভব নয়।

উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয়, সাবিহার কাজটি এক ধরনের শিরক। আর ইসলামি শরিয়তে এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।