- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আরমান তার বন্ধু রুহানকে নিয়ে খালার বাড়ি বেড়াতে যায়। যাবার পথে তাদের গাড়িটি অল্পের জন্য খাদে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ায় বাড়ি পৌছে আরমান ড্রাইভারকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলল, আপনি আমাদেরকে বাঁচিয়েছেন। একথা বলে তারা ড্রাইভারকে একটি নিষিদ্ধ পানীয় দিতে চাইলে তিনি বললেন, এটি পান করা হারাম। তখন রুহান বলল, অল্প অল্প পান করা যায়। এতে দোষের কিছু নেই। কোনো পাপও হবে না।
আখিরাতে বিশ্বাস করতে হবে কেন?
ইমানের মৌলিক বিষয় হওয়ায় আখিরাতে বিশ্বাস অপরিহার্য।
মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। আখিরাতে মানুষকে তার দুনিয়া জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাই আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে পাপকাজ থেকে বিরত রাখে এবং পুণ্যকাজে উৎসাহ জোগায়। এছাড়া আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া কেউ প্রকৃত ইমানদার হতে পারে না। এসব কারণে একজন মুসলিমের জন্য আখিরাতে বিশ্বাস
করা অপরিহার্য।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
নিফাক অর্থ কী?
নিফাক অর্থ কপটতা, দ্বিমুখীভাব।
আরমানের বক্তব্যে কোন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
আরমানের বস্তুব্যে শিরকের প্রকাশ পেয়েছে।
শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। এটি তাওহিদের বিপরীত যা জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত। উদ্দীপকের আরমানের কথা এ বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে।
আরমান বাঁচানোর মালিক হিসেবে ড্রাইভারকে মেনে নিয়েছে। অর্থাৎ সে আল্লাহর সাথে ড্রাইভারকে শরিক করেছে। আর মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। আল্লাহ বলেন, 'বলুন (হে নবি।) তিনি আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়।' (সূরা আল-ইখলাস, আয়াত ১) শিরক চার ধরনের হতে পারে। এর মধ্যে একটি হলো আল্লাহ তায়ালার গুণাবলিতে শিরক করা। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার পাশাপাশি অন্য কাউকে সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা, জীবন দান ও জীবন হরণের মালিক মনে করা। আরমান ড্রাইভারকে জীবন দানের মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এ পর্যায়ে শিরকের মতো জঘন্য পাপ করেছে।
রুহানের উক্তিটি চিহ্নিত করে এর পরিণতি বিশ্লেষণ করো।
রুহানের উক্তিতে কুফরি প্রকাশ পেয়েছে, যার পরিণতি খুব ভয়াবহ।
কৃষ্ণর শব্দের আভিধানিক অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, ঢেকে রাখা, গোপন করা, অবাধ্য হওয়া ইত্যাদি। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে অবিশ্বাস করাকে কুফর বলে। ব্লহানের মধ্যে এ বিষয়টি বর্তমান।
রুহান নিষিদ্ধ পানীয় সম্পর্কে ভুল মন্তব্য করে বলেছে, এগুলো অল্প আর পান করা যায়। এতে পাপ হয় না। রুহানের এমন ধারণা কুফরি। মানুষ নানাভাবে কুফরি করে থাকে। এর একটি হলো হারামকে হালাল মনে করা। যেমন-মদ, জুয়া, সুদ, ঘুষ ইত্যাদি হারাম বিষয় বা দ্রব্যকে হালাল বা জায়েজ মনে করা। আমরা জানি, যে কোনো ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য হারাম। কুফরি মানবজীবনে ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনে। এর ফলে মানুষের মধ্যে অবাধ্যতা ও অকৃতজ্ঞতার জন্ম হয়। মানুষ আখিরাত ভুলে দুনিয়াতে পাপকাজে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সমাজে পাপাচার বৃদ্ধি পায়। কাফির ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা, ইসলাম ও মুসলমানদের সাথে বিদ্রোহ ও বিরোধিতা করে। ফলে আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন। পরকালে কাফিরদের জন্য আল্লাহ কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আল্লাহ বলেন, 'যারা কুফরি করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরদিন থাকবে।' (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৯)
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, রুহানের কথায় কুফরি প্রকাশ পেয়েছে। এ কারণে দুনিয়া ও আখিরাতে তার পরিণতি হবে মারাত্মক।

