• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মতিন সাহেব বিদেশ থেকে ১০টি ভিসা নিয়ে এসে গ্রামে প্রচার করেন, তার কাছে ২০টি ভিসা এসেছে। এ খবর পেয়ে আজিজসহ অনেক বেকার ছেলে মতিন সাহেবকে বললেন, তারা বিদেশ যেতে ইচ্ছুক। তখন মতিন সাহেব আজিজকে বললেন, তুমি ২০ জন লোক যোগাড় করে আমার কাছে টাকা জমা দাও। পর্যায়ক্রমে লোক পাঠানোর কথা বলে ১০ জনকে বিমান বন্দরে নিয়ে তাদের সাথে মতিন সাহেবও বিদেশে চলে যান। বিষয়টি গ্রামে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ফলে এ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মসজিদের ইমাম সাহেব বলেন, মানুষের মধ্যে যদি পরকালীন জবাবদিহিতার ভয় কাজ করে, তাহলে এমন ঘটনার অবতারণা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

মতিন সাহেবের কর্মকাণ্ডে কোন বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

মতিন সাহেবের কাজে নিফাক প্রতিফলিত হয়েছে।

নিফাক শব্দের আভিধানিক অর্থ ভণ্ডামি, কপটতা, দ্বিমুখীভাব, দোকাবাজি, প্রতারণা ইত্যাদি। ব্যবহারিক অর্থে নিফাক হলো অন্তরে একরকম ভাব রেখে বাইরে এর বিপরীত অবস্থা প্রকাশ করা। মতিন সাহেবের মধ্যে এ বিষয়টি লক্ষণীয়।
মতিন সাহেব বিদেশে পাঠানোর জন্য ২০ জনের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে। অথচ তার কাছে ১০টি ভিসা ছিল। দশ জনকে বিমানবন্দরে নিয়ে সেও তাদের সাথে বিদেশে চলে যায়। অর্থাৎ বাকি দশ জনকে সে ধোঁকা দেয়। তাদের সাথে মিথ্যার আশ্রয় নেয়ে আর এ বিষয়টিই নিফাক। কেননা শরিয়তের পরিভাষায় অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন করে মুখে ইসলামকে স্বীকার করার নাম হলো নিফাক। মোটকথা অন্তরে বিরোধিতা গোপন রেখে বাইরে আনুগত্য প্রদর্শন করাই হলো নিফাক। মিথ্যা বলা, প্রতারণা করা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে বলেন, 'আর আল্লাহ সাক্ষর দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা নিঃসন্দেহে মিথ্যাবাদী।' (সূরা আল-মুনাফিকুন, আয়াত ১)। সুতরাং বোঝা যায়, মতিন সাহেনের কাজটি নিফাকের অন্তর্ভুক্ত।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

শাফাআত কাকে বলে?

কল্যাণ ও ক্ষমার জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে নবি-রাসুল ও নেক বান্দাদের সুপারিশ করাকে শাফাআত বলে।

#

আখিরাতে বিশ্বাস জরুরি কেন?

ইমানের মৌলিক বিষয় হওয়ায় আখিরাতে বিশ্বাস অপরিহার্য।

মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। আখিরাতে মানুষকে তার দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। এরূপ বিশ্বাস মানুষকে পাপকাজ থেকে বিরত রাখে এবং পুণ্যকাজে উৎসাহ জোগায়। এছাড়া আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া কেউ প্রকৃত ইমানদার হতে পারে না। এসব কারণে একজন মুসলিমের জন্য আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য।

#

ইমাম সাহেবের মন্তব্যে যে বিষয়ের বিশ্বাস ফুটে উঠেছে তা চিহ্নিত করে নৈতিক জীবন গঠনে এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

ইমাম সাহেবের বক্তব্যে আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস ফুটে উঠেছে। এ বিশ্বাস মানুষের জীবন গঠনের মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলা হয়। আখিরাত অনন্তকালের জীবন এটি মানুষের চিরস্থায়ী, আবাস। ইমাম সাহেবের মধ্যে এ জীবনের প্রতি বিশ্বাস লক্ষণীয়।

ইমাম সাহেবের মতে, মানুষের মধ্যে যদি পরকালীন জবাবদিহিতার ভয় কাজ করে তাহলে উদ্দীপকের ঘটনার মতো অনৈতিক ঘটনার অবতারণা হয় না। আমরা জানি, আখিরাতে মানুষের দুনিয়ার কাজকর্মের হিসাব নেওয়া হবে। এরপর ভালো কাজের পুরস্কারস্বরূপ জান্নাত এবং মন্দ কাজের জন্য আল্লামের শাস্তি দেওয়া হবে। মানুষের বিদ্যমান এ বিশ্বাসই আখিরাতের বিশ্বাসের আওতাভুক্ত। আর এ বিশ্বাস মানুষকে জীবন পরিচালনায় নীতি ও আদর্শের অনুসরণ করতে বাধ্য করে। মহান আল্লাহ বলেন, 'কেউ অনু পরিমাণ সৎকর্ম করলেও তা সে দেখতে পাবে। আর কেউ অনু পরিমাণ অসৎ কর্ম করলে তাও সে দেখবে।' (সূরা আল যিলযাল, আয়াত ৭-৮) যার পুণ্যের পরিমাণ বেশি হবে সে জান্নাতে যাবে। আর পাপীদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। পরকালের প্রতি এ ধরনের বিশ্বাস মানুষকে নেক আমল করতে এবং মন্দ কাজ পরিত্যাগে উৎসাহিত করে। পরকালীন জবাবদিহিতার ভয়ে মানুষ পার্থিব লোভ-লালসা, অনৈতিক কাজ করতে সাহস পায় না। এভাবে তার জীবন হয়ে ওঠে সৎকর্মশীল ও উন্নত নৈতিকতায় পরিপূর্ণ।

উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, ইমাম সাহেবের কথায় আখিরাতে বিশ্বাস ফুটে উঠেছে। আর মানুষের জীবনকে সুন্দর ও আদর্শমণ্ডিত করতে এ বিশ্বাসের ভূমিকা অপরিসীম।