• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনাব রিয়াসাত আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করেন। মাঝে-মধ্যে সালাত ও সাওম পালন করেন। তবে তিনি মনে করেন, মানুষের কর্মফল তার কর্মের ওপর নির্ভরশীল। যে যেমন কাজ করবে সে তেমন ফল পাবে। তার বন্ধু-জনাব আসগর নিজ কর্মস্থলে কর্মব্যস্ত একজন মানুষ। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করেন। তিনি মনে করেন, এতে দোষের কিছু নেই।

জনাব আসগরের বিশ্বাস চিহ্নিতপূর্বক এর ক্ষতিকর দিকগুলো পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

জনাব আসগরের বিশ্বাস কুফরকে নির্দেশ করে, যা মানবজীবনে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।

কুফর শব্দের অর্থ হলো অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, ঢেকে রাখা, গোপন করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অবাধ্য হওয়া ইত্যাদি। কুফর হলো ইমানের বিপরীত দিক। জনাব আসগরের মধ্যে এ দিকটি বিদ্যমান।

জনাব আসগর নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করেন। তিনি মনে করেন এতে দোষের কিছু নাই। তার এ মানসিকতা কুফরের নামান্তর। কারণ আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটিরও প্রতি অবিশ্বাস করাকে কুফর বলা হয়। যেমন- হারামকে হালাল মনে করা। আমরা জানি নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ হারাম। জনাব আসগর একে হালাল হিসেবে গ্রহণ করে কুফরি করেছে। এ ধরনের কাজ মানুষের মধ্যে অবাধ্যতা ও অকৃতজ্ঞতার জন্ম দেয়। কাফির ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করার কারণে নির্দ্বিধায় তাঁর বিধি-নিষেধও অমান্য করতে পারে। কাফির ব্যক্তি পরকালে অবিশ্বাস করার কারণে সব ধরনের পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়ে। ফলে সমাজে পাপকাজ বৃদ্ধি পায়। সমাজ অনৈতিকতায় ডুবে যায়। এতে মহান আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যারা কুফরি করবে এবং আমার নিদর্শনগুলো অস্বীকার করবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।' (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৩৯)

উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, জনাব আসগরের বিশ্বাস কুফরির পর্যায়ভুক্ত। আর এটি মানুষের জীবনে মন্দ প্রভাব ফেলে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

শিরক কাকে বলে?

মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়।

#

ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য মুনাফিকরা ক্ষতিকর কেন?

মুসলমানদের সাথে মিশে ইসলামের শত্রুদের সাহায্য করার কারণে মুনাফিকরা ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য ক্ষতিকর।

মুনাফিকরা দু'মুখী নীতিবিশিষ্ট। তারা মুসলমানদের সাথেও মিশে আবার কাফিরদের সাথেও মিশে। কাফির-মুশরিকদের সাথে মিশে মুসলমানদের গোপন তথ্য ও দুর্বলতার কথা শত্রুদের জানিয়ে দেয়। তারা ইসলাম ও মুসলমানদের সাথে থেকেও আল্লাহ তায়ালার অবাধ্য হয়। এ কারণে মুনাফিকরা ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য ক্ষতিকর।

#

জনাব রিয়াসাতের ধারণা ইসলামের কোন বিশ্বাসের পরিপন্থি? ব্যাখ্যা করো।

জনাব রিয়াসাতের ধারণা তকদিরে বিশ্বাসের পরিপন্থি।

তকদির অর্থ হলো নির্ধারিত পরিমাণ, ভাগ্য বা নিয়তি। আল্লাহ তায়ালা মানুষের জীবনের ভালোমন্দ নির্ধারণ করেন এমন বিশ্বাসের নাম হলো তকদিরের বিশ্বাস। এটি ইমানের ৭টি বিষয়ের একটি। রিয়াসাতের মধ্যে এ বিশ্বাস অনুপস্থিত।

রিয়াসাত মনে করেন, মানুষের কর্মফল তার কর্মের ওপর নির্ভরশীল। যে যেমন-কাজ করবে সে তেমন ফল পাবে। তার এ বিশ্বাস সঠিক নয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা মানুষের তকদিরের নিয়ন্ত্রক। তিনিই তকদিরের ভালোমন্দ নির্ধারণকারী। মানুষ যা চায় তাই সে করতে পারে না। বরং মানুষ শুধু তার কাজের জন্য চেষ্টা-সাধনা করবে। এরপর ফলাফলের জন্য আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করবে। যদি চেষ্টা করার পরও কোনো কিছু না পায় তবে হতাশ হবে না। আর যদি পেয়ে যায় তবুও খুশিতে আত্মহারা হবে না। বরং ধৈর্য ধারণ করবে ও শোকর আদায় করবে। মোটকথা, তকদিরের ভালোমন্দ নির্ধারণ করা আল্লাহ ছাড়া আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এমন বিশ্বাসই হলো তকদিরে বিশ্বাস। জনাব রিয়াসাতের ধারণা এ বিশ্বাসকে লালন করে না।