- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সুফিয়ান ও রায়হান দুই বন্ধু। কথা প্রসঙ্গে সুফিয়ান বলল, মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য আল্লাহপাক যুগে যুগে অনেক নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন সর্বশেষ নবি। তার পরে আর কোনো নবি আসবেন না। তা শুনে রায়হান বলল, বৈজ্ঞানিকরাও মানুষকে সঠিক পথ দেখায়। কাজেই তারাও নবিদের পর্যায়ভুক্ত। সূতরাং মুহাম্মদ (স.)-কে সর্বশেষ নবি মানা যায় না। তা শুনে স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাহেব বললেন, আল-কুরআনে আল্লাহ পাক ঘোষণা দিয়েছেন- 'মহানবি (স.) আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি।'
রায়হানের ধারণাটি ইসলামের কোন বিশ্বাসের পরিপন্থি? ব্যাখ্যা করো।
রায়হানের ধারণাটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতমে নবুয়তে বিশ্বাসের পরিপন্থি।
খতমে নবুয়তের প্রতি বিশ্বাস বলতে নবুয়তের পরিসমাপ্তির ওপর বিশ্বাস স্বাপন করাকে বোঝায়। মানবজাতির হেদায়েতের জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে বহু নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে এ ধারা শুরু হয়েছে এবং হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে পরিসমাপ্তি ঘটেছে। আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে নবুয়তের সিলমোহর বসিয়ে মানুষের হেদায়তের জন্য আর কোনো নবি বা রাসুল আসার প্রয়োজন নেই বলে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু রায়হানের ধারণায় এর বিপরীত বিশ্বাস পরিলক্ষিত হয়।
রায়হান মনে করে, বৈজ্ঞানিকরাও মানুষকে সঠিক পথ দেখায়। কাজেই তাঁরাও নবিদের পর্যায়ভুক্ত। সুতরাং হযরত মুহাম্মদ (স.) কে সর্বশেষ নবি মানা যায় না। কিন্তু তার এ মনোভাব ঠিক নয়। কারণ হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন শেষ নবি। তিনি খাতামুন নাবিয়্যিন। তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবি আসবেন না। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, 'রিসালত ও নবুয়তের ধারা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমার পর আর কোনো নবি আসবে না।' (জামি তিরমিযি)। একজন ইমানদার হিসেবে এ বিষয়টির ওপর বিশ্বাস সস্থাপন করা অপরিহার্য। সুতরাং বলা যায়, রায়হানের বক্তব্যে খতমে নবুয়তের প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশিত হয়েছে।

