• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জাহিদ আল্লাহ তায়ালাকে বিশ্বনিয়ন্ত্রক হিসেবে বিশ্বাস করলেও অনন্ত জীবনের প্রতি সন্দেহ পোষণ করে। এ কথা জানতে পেরে মসজিদের ইমাম সাহেব বলেন, এরূপ বিশ্বাস ইসলামের বিপরীত। ইসলামের প্রতিটি মৌলিক বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস রাখলেই মুমিন হওয়া সম্ভব।

'ইমান' শব্দের অর্থ কী?

'ইমান' শব্দের অর্থ বিশ্বাস বা আস্থা স্থাপন করা, স্বীকৃতি দেওয়া, নির্ভর করা, মেনে নেওয়া প্রভৃতি।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

"ইমাম সাহেবের মতামত যথার্থ"- বিশ্লেষণ করো।

ইমাম সাহেবের বক্তব্যে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের গুরুত্ব প্রকাশিত হওয়ায় তার মতামত যথার্থ।

একজন মুমিন ইসলামের মৌলিক বিষয়ের ওপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করার পাশাপাশি মৌখিক স্বীকৃতি প্রদান করবে এবং এগুলোর শিক্ষা ও তাৎপর্য কাজে বাস্তবায়ন করবে। এ তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ে একজন মানুষ প্রকৃত মুমিন হয়ে ওঠে। ইমাম সাহেব এ বিষয়ের প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন।

ইমাম সাহেব মনে করেন, ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর যে কোনোটি অবিশ্বাস বা অস্বীকার করা ইসলামের বিপরীত। তার মনোভাব সঠিক। কারণ একজন মুসলিম ইমানের সাতটি বিষয়ে ইমান আনার মাধ্যমে ইসলামে প্রবেশ করে। এগুলো হলো- এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস, নবি-রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাস, আসমানি কিতাবের প্রতি বিশ্বাস, তকদিরের (ভাগ্যের ভালো-মন্দ) ওপর বিশ্বাস, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের ওপর বিশ্বাস এবং আখিরাত বা পরকালের প্রতি বিশ্বাস। এর কোনোটি অবিশ্বাস করাই কুফর। উদ্দীপকের জাহিদ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলেও আখিরাত বা অনন্তকালের চিরস্থায়ী জীবন পরকালের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করছে। ইসলামের মৌলিক বিষয়ের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করায় তা ইসলাম পরিপন্থি। আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপন করা ইমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, একজন মুমিনকে অবশ্যই ইমানের অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপন করে ভালো কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। কেউ যদি এর ব্যতিক্রম করে, তবে সে মুমিন নয়। সুতরাং ইসলামের দৃষ্টিতে ইমাম সাহেবের বক্তব্য যথার্থ।

#

তকদিরে বিশ্বাস ইমানের অংশ- বুঝিয়ে লেখো।

ইমানের মৌলিক সাতটি বিষয়ের একটি হওয়ায় তকদিরে বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ।

তকদির শব্দের অর্থ নির্ধারিত পরিমাণ, ভাগ্য বা নিয়তি। মানুষের ভাগ্যের একমাত্র নির্ধারক মহান আল্লাহ। ভালো-মন্দ সবকিছু তাঁর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়। মানুষ তার কর্মগুণে সাফল্য লাভ করতে পারে। তবে তা মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া সম্ভব নয়। মানুষের জীবনের সাফল্য, ব্যর্থতা বিপদ-মুসিবত সবকিছুর নিয়ন্ত্রক আল্লাহ তায়ালা। তকদিরে বিশ্বাস ছাড়া মুমিন হওয়া সম্ভব নয়। তাই তকদিরে বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য।

#

জাহিদের মনোভাবে কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

আখিরাত বা পরকালীন জীবনের প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশিত হওয়ায় জাহিদের মনোভাবে কুফর ফুটে উঠেছে।

কুফর ইমানের ঠিক বিপরীত। ইসলামের মৌলিক সাতটি বিষয়ের যেকোনো একটির প্রতি অবিশ্বাস বা সন্দেহ পোষণ করাই কুফর। এ সাতটি বিষয় হলো- এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস, নবি-রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাস, আসমানি কিতাবের প্রতি বিশ্বাস, তকদিরের (ভাগ্যের ভালো-মন্দ) ওপর বিশ্বাস, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের (পুনরায় জীবিত হওয়া) ওপর বিশ্বাস এবং আখিরাত বা পরকালের প্রতি বিশ্বাস। জাহিদ পরকাল বা চিরস্থায়ী জীবনের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করেছে।

আখিরাত হলো মৃত্যুর পরের জীবন। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মানুষের এ জীবনের শুরু হয়। এর কোনো শেষ নেই। অনন্তকাল ধরে এ জীবন চলতে থাকবে। দুনিয়াতে যারা ভালো কাজ করবে, আখিরাতে তারা চিরস্থায়ী সুখের আবাস জান্নাত লাভ করবে। আর যারা ইহকালীন জীবনে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো জীবন পরিচালনা করবে, তারা অনন্তকাল জাহান্নামের আগুনে শাস্তি ভোগ করবে। যারা এ অনন্ত ও চিরস্থায়ী জীবনের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করবে, তারা কাফির। সুতরাং বলা যায়, জাহিদের মনোভাব কুফরের অন্তর্ভুক্ত।