• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ফাতিমা বিশ্বাস করে আল্লাহই মানুষের চূড়ান্ত ভালো-মন্দ নির্ধারণকারী। মানুষ শুধু তার কাজের জন্য চেষ্টা ও সাধনা করবে; ফলাফল আল্লাহর হাতে। অর্থাৎ মানুষ যা চায় তাই করতে পারে না বরং আল্লাহর ইচ্ছাই বাস্তবায়িত হয়। মাওলানা স্যার তাঁর নাতি আলিফকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'ধর্মের কোন দুইটা বিষয়ের সম্পর্ক শিকড়ের সাথে গাছের কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখার সম্পর্কের সাথে তুলনীয়?' আলিফ বলল, 'তাওহিদের সাথে আকিদার সম্পর্ক।' নানু বললেন, না।

ফাতিমার মধ্যে ইমানের যে বিশ্বাসটি প্রকাশ পেয়েছ তা লিখে ওই বিশ্বাস অনুসারে সুখ ও দুঃখের সময় ফাতিমার করণীয় বিশ্লেষণ করো।

ফাতিমার মধ্যে ইমানের অন্যতম বিষয় তকদিরে বিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে। আর এ বিশ্বাস অনুযায়ী ফাতিমার সুখের সময় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দুঃখের সময় একমাত্র তাঁরই ওপর ভরসা করা উচিত।

একজন মুসলিমকে ইমানের কতগুলো মৌলিক বিষয়ে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হয়। এগুলো কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে অকাট্যভাবে প্রমাণিত। এগুলোর মধ্যে একটি হলো তকদিরে বিশ্বাস। ফাতিমার মধ্যে এ বিষয়টির উপস্থিতি রয়েছে।

ফাতিমা বিশ্বাস করে, আল্লাহই মানুষের চূড়ান্ত ভালো-মন্দ নির্ধারণকারী। মানুষ শুধু তার কাজের জন্য চেষ্টা ও সাধনা করবে, ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা রাখবে। এমন ধারণাই হলো তকদিরে বিশ্বাস। কারণ তকদির অর্থ হলো নির্ধারিত পরিমাণ, ভাগ্য বা নিয়তি। আল্লাহ তায়ালা তকদিরের ভালো-মন্দ নির্ধারণকারী।

মানুষ যা চায় তাই করতে পারে না; বরং সব ক্ষেত্রে আল্লাহর ইচ্ছাই বাস্তবায়িত হয়। তাই মানুষ যে কোনো কাজে কঠোর পরিশ্রম করবে। তারপর সে কাজে সফলতার জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করবে। যদি চেষ্টা করার পরেও কোনো কিছু না পাওয়া যায় তবে হতাশ হওয়া যাবে না। সে কাজ থেকে ফিরে আসা যাবে না। বরং আল্লাহর ইচ্ছাকে খুশিমনে মেনে নিয়ে আবারও চেষ্টা-সাধনা করতে হবে। ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আল্লাহ বলেছেন, 'নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা দ্বারা এবং কিছু ধনপ্রাণ এবং ফলের (ফসলের) লোকসান দ্বারা পরীক্ষা করব। আর তুমি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দাও।' (সূরা বাকারা, আয়াত ১৫৫) আর যদি কাঙ্ক্ষিত বিষয় হাতের মুঠোয় এসে যায় তার জন্য খুশিতে আত্মহারা হয়ে অন্যায় কাজে লিপ্ত হওয়া যাবে না। বরং প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর শোকর করতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, ফাতিমার মধ্যে তকদিরে বিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে। আর এ বিশ্বাস অনুসারে সে সুখের সময় আত্মহারা না হয়ে মহান রবের শোকর বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দুঃখের সময় হতাশ না হয়ে সবর করবে। অর্থাৎ সব সময় তাকে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

ইমান কাকে বলে?

ইসলামের মূল বিষয়গুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাকে ইমান বলে।

#

আসমানি কিতাবে বিশ্বাস অপরিহার্য কেন?

ইমানের সাতটি মৌলিক বিষয়ের একটি হওয়ায় আসমানি কিতাবে বিশ্বাস করা অপরিহার্য।

আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বাণীসমষ্টি আসমানি কিতাব নামে পরিচিত। মানবজাতির কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহ এসব কিতাব নাজিল করেছেন। আসমানি কিতাবসমূহে বিশ্বাস স্থাপন না করলে প্রকৃত মুমিন হওয়া যায় না। কারণ আসমানি কিতাবগুলোর মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহ তায়ালা, নবি-রাসুল, ফেরেশতা, পরকাল ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পেরেছে। সুতরাং ইমানের পরিপূর্ণতার জন্য আসমানি কিতাবে বিশ্বাস রাখতে হবে।

#

মাওলানা স্যার কোন সম্পর্কের কথা জানতে চাচ্ছিলেন? সম্পর্কটির সঠিকতা প্রমাণ করো।

মাওলানা স্যার ইমান ও ইসলামের সম্পর্কের কথা জানতে চাচ্ছিলেন।

ইমান হলো বিশ্বাস। আর ইসলাম হলো আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ'। এ দুটি বিষয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। একটি অপরটির ওপর পরিপূর্ণ নির্ভরশীল। নাতির কাছে মাওলানা স্যারের জিজ্ঞাসায় ইমান ও ইসলামের এ গভীর সম্পর্কের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

মাওলানা স্যার ধর্মের যে দুটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন সে দুটি বিষয়ের সম্পর্ক শিকড়ের সাথে গাছের কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখার সম্পর্কের মতো। ইমান ও ইসলামের সম্পর্কও এরূপ। ইমান হলো গাছের শিকড় আর ইসলাম হলো তার শাখা-প্রশাখা। মূল না থাকলে শাখা-প্রশাখা হয় না। আর শাখা-প্রশাখা না থাকলে মূল বা শিকড় মূল্যহীন। এরূপ ইমান ও ইসলাম একটি অন্যটি ছাড়া পূর্ণাঙ্গ হয় না। আর ইমান ও ইসলামের এ সম্পর্ক একটি যৌক্তিক ও সঠিক সম্পর্ক। কারণ ইমান মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, অনুরাগ ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের বাসনা সৃষ্টি করে। আর তাতে ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে সজীব ও সতেজ হয়ে পরিপূর্ণ সৌন্দর্যে বিকশিত হ্যায় ইসলাম। ইসলাম হলো ইমানের বহিঃপ্রকাশ। ইমান হলো অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন- আল্লাহ, রাসুল ইত্যাদি সম্পর্কে বিশ্বাস; আর ইসলাম বাহ্যিক আচার-আচরণ ও কার্যাবলির সাথে সম্পৃক্ত। যেমন- সালাত, যাকাত, হজ ইত্যাদি। দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার জন্য দুটি বিষয়ই জীবনে বাস্তবায়ন করা আবশ্যক। সুতরাং বলা যায়, মাওলানা স্যার ইমান ও ইসলামের সম্পর্কের কথা জানতে চাচ্ছিলেন। আর এ সম্পর্ক সম্পূর্ণ সঠিক ও যৌক্তিক।