• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

সুরাইয়া পৈত্রিক সম্পত্তি বণ্টনের সময় ভাই শাকিলের অর্ধেক অংশ পায়। এতে তার স্বামী শাহীন নানা নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকে। এক পর্যায়ে কুরআনের এ বিধানটির জন্য কুরআন ও মহানবি (স.)-কে নিয়ে ঠাট্টা উপহাস করতে থাকে। অপরদিকে শাহীনের বড় ভাই নিঃসন্তান হওয়ায় মাজারে গিয়ে সিজদায় পড়ে সন্তান চায়।

শিরক কাকে বলে?

মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে শিরক বলে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

শিরক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ কেন?

মহান আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করায় শিরক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

শিরকের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সত্তা, অস্তিত্ব, গুণাবলি ও ক্ষমতার সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করা হয়য়, যা আল্লাহর সাথে জুলুম করার শামিল। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম' (সূরা লুকমান, আয়াত ১৩) মহান আল্লাহই আমাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালক। আমরা তাঁর নিয়ামত ভোগ করি। এরপরও কেউ যদি তাঁর সাথে কোনো মানুষ বা অন্য কোনো কিছুকে অংশীদার করে তবে তা আল্লাহ কিছুতেই ক্ষমা করবেন না।

#

শাহীনের আচরণ কীসের পর্যায়ে পড়ে? ব্যাখ্যা করো।

শাহীনের আচরণ কুফরের পর্যায়ে পড়ে।

কুফর শব্দের অর্থ অবিশ্বাস করা, অবাধ্য হওয়া। আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটির প্রতি অবিশ্বাস করাকে কুফর বলে। মানুষ নানাভাবে কুফরি করতে পারে। যেমন-মৌলিক ইবাদত অস্বীকার করা, কাফিরদের অনুকরণ করা, ইসলামের কোনো বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করা ইত্যাদি। শাহীনের আচরণে এরূপ একটি বিষয় প্রকাশ পেয়েছে।

উদ্দীপকে শাহীনের স্ত্রী সম্পদ বণ্টনের সময় তার ভাইয়ের অর্ধেক অংশ পায় বলে শাহীন কুরআনের এ বিধানটির জন্য কুরআন ও মহানবি (স.)-কে নিয়ে ঠাট্টা করে। তার এ কাজটি কুফরের পর্যায়ভুক্ত। কেননা উত্তরাধিকার নীতিমালা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এ বিধান নিয়ে যে ঠাট্টা করবে সে কাফির হিসেবেই গণ্য হবে। কাফিরদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, "যারা কুফরি করবে এবং আমার নিদর্শনগুলো অস্বীকার করবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী।" (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৩৯) তাই এমন আচরণের জন্য শাহীনকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।

#

শাহীনের ভাইয়ের কাজটির ধরন ও কুফল বর্ণনা করো।

শাহীনের ভাইয়ের কাজে শিরক প্রকাশ পেয়েছে, যার কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ।

শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা। একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তার সমতুল্য মনে কন্যাকে শিরক বলা হয়। মানুষ নানাভাবে শিরকে লিপ্ত হতে পারে। যেমন- ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র মনে করা, আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সিজদাহ দেওয়া ইত্যাদি। শাহীনের ভাইয়ের কাজে এরূপ জঘন্য গুনাহের ইঙ্গিত রয়েছে।

উদ্দীপকের শাহীনের ডাই নিঃসন্তান হওয়ায় মাজারে গিয়ে সিজদাহ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুকে সিজদাহ করার কারণে সে সবচেয়ে বড় জুলুম করেছে। এ ধরনের মানুষের প্রতি আল্লাহ তায়ালা খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি অপার ক্ষমাশীল ও অসীম দয়াময় হওয়া সত্ত্বেও শিরকের অপরাধ ক্ষমা করেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এতদ্ব্যতীত যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।' (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৮) বস্তুত আল্লাহ তায়ালার দয়া, ক্ষমা ও রহমত ব্যতীত দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। 'পরকালে মুশবিকদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল-কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে- 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য অবশ্যই জান্নাত হারাম করে দেবেন। এবং তার আবাস জাহান্নাম।' (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৭২)

উপরের আলোচনার নিরিখে বলা যায়, শিরক' একটি অমার্জনীয় অপরাধ। শাহীনের ভাই এ অপরাধে লিপ্ত হওয়ার কারণে দুনিয়া ও আখিরাতে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে।

শিরক কাকে বলে? | ইসলাম শিক্ষা (নবম-দশম শ্রেণি) | Uddoyon