- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সুরাইয়া পৈত্রিক সম্পত্তি বণ্টনের সময় ভাই শাকিলের অর্ধেক অংশ পায়। এতে তার স্বামী শাহীন নানা নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকে। এক পর্যায়ে কুরআনের এ বিধানটির জন্য কুরআন ও মহানবি (স.)-কে নিয়ে ঠাট্টা উপহাস করতে থাকে। অপরদিকে শাহীনের বড় ভাই নিঃসন্তান হওয়ায় মাজারে গিয়ে সিজদায় পড়ে সন্তান চায়।
শাহীনের ভাইয়ের কাজটির ধরন ও কুফল বর্ণনা করো।
শাহীনের ভাইয়ের কাজে শিরক প্রকাশ পেয়েছে, যার কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ।
শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা। একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তার সমতুল্য মনে কন্যাকে শিরক বলা হয়। মানুষ নানাভাবে শিরকে লিপ্ত হতে পারে। যেমন- ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র মনে করা, আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সিজদাহ দেওয়া ইত্যাদি। শাহীনের ভাইয়ের কাজে এরূপ জঘন্য গুনাহের ইঙ্গিত রয়েছে।
উদ্দীপকের শাহীনের ডাই নিঃসন্তান হওয়ায় মাজারে গিয়ে সিজদাহ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুকে সিজদাহ করার কারণে সে সবচেয়ে বড় জুলুম করেছে। এ ধরনের মানুষের প্রতি আল্লাহ তায়ালা খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি অপার ক্ষমাশীল ও অসীম দয়াময় হওয়া সত্ত্বেও শিরকের অপরাধ ক্ষমা করেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এতদ্ব্যতীত যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।' (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৮) বস্তুত আল্লাহ তায়ালার দয়া, ক্ষমা ও রহমত ব্যতীত দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। 'পরকালে মুশবিকদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল-কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে- 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য অবশ্যই জান্নাত হারাম করে দেবেন। এবং তার আবাস জাহান্নাম।' (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৭২)
উপরের আলোচনার নিরিখে বলা যায়, শিরক' একটি অমার্জনীয় অপরাধ। শাহীনের ভাই এ অপরাধে লিপ্ত হওয়ার কারণে দুনিয়া ও আখিরাতে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে।

