- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব নাবিল একটি শিক্ষা সেমিনারে বলেন, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, শাসক-শাসিত কেউই মৃত্যুকে এড়াতে পারে না। জনাব। নাছির বলেন, জন্ম-মৃত্যু একটি প্রাকৃতিক বিষয়। মৃত্যুর পর শাস্তি বা শান্তি একটি কাল্পনিক বিষয়। জনাব নাফিস বলেন, 'কিয়ামতের দিন এক বিশাল ময়দানে সকলকে সমবেত করা হবে। সেদিন মহান আল্লাহ ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করবেন। যার পুণ্যের পাল্লা ভারী, হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যার পাপের পাল্লা ভারী হবে, সে জাহান্নামি হবে।
নিফাক জঘন্য অপরাধ কেন?
নিফারের মাধ্যমে দ্বিমুখীভাব প্রকাশ পাওয়ায় এটি জঘন্য অপরাধ।
নিফাক কথাটি মূলত প্রতারণা বা ধোঁকাবাজির নামান্তর। এতে অন্তরে একরকম ভাব রেখে বাইরে এর বিপরীত অবস্থা প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন রেখে মুখে ইসলাম স্বীকার করার নাম নিফাক। যারা এ ধরনের কাজ করে তারাই মুনাফিক। এটি জঘন্য অপরাধ পরকালীন জীবনে মুনাফিকদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। মহান আল্লাহ বলেছেন, 'নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে"। (সূরা নিসা, আয়াত ১৪৫) তাই এটি বর্জনীয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
ইয়াওমুল বা'আছ কী?
ইয়াওমুল বা'আছ হলো পুনরুত্থান দিবস।
সহায়ক তথ্য
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে মৃত্যুর পর আবার জীবিত করবেন। সে সময় সকল মানুষ হাশরের ময়দানে একত্রিত হবে। আল্লাহ তায়ালা সেদিন বিচারক হিসেবে মানুষের সকল কাজের হিসাব নেবেন। এই দিনটিকে পুনরুত্থান দিবস বলা হয়।
জনাব নাছিরের মতামতটি ব্যাখ্যা করো।
জনাব নাছিরের মনোভাবে ইমানের মৌলিক বিষয় আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি অবিশ্বাসের চিত্র ফুটে ওঠায় তার ধারণা কুফরের অন্তর্ভুক্ত।
কুফর হলো ইমানের বিপরীত। একজন মুসলিমকে ইমানের কতগুলো মৌলিক বিষয়ে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করতে হয়। এরূপ বিষয় মোট সাতটি। যার মধ্যে অন্যতম হলো আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। এ বিষয়গুলোর যে কোনো একটির প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করা কুফরির অন্তর্ভুক্ত, যা জনাব নাছিরের মনোভাবে দেখা যায়।
জনাব নাছিরের মতে, জন্ম-মৃত্যু একটি প্রাকৃতিক বিষয় এবং মৃত্যুর পর শাস্তি বা শান্তি একটি কাল্পনিক বিষয়। এ মনোভাবের মাধ্যমে তিনি মূলত আল্লাহ ও পরকালের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করেছেন, যা কুফরির অন্তর্ভুক্ত। কারণ প্রকৃতির জন্ম-মৃত্যু ঘটনার কোনো ক্ষমতা নেই; বরং প্রকৃতিও মহান আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহর নির্দেশ ব্যতীত কেউ জন্মগ্রহণ করে না, কারও মৃত্যুও হয় না। আল্লাহ তায়ালা সকল জীবের মৃত্যু নির্ধারণ করে রেখেছেন। তিনি বলেন, 'প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।' (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫) মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায় না; বরং মৃত্যুর পর আরও একটি জীবন রয়েছে, যাকে বলা হয় আখিরাত। পরকালে মানুষের দুনিয়ার সকল কাজ-কর্মের হিসাব দিতে হবে। দুনিয়াতে ভালো কাজ করলে মানুষ জান্নাত লাভ করবে। আর অসৎ কাজ করলে মানুষের স্থান হবে জাহান্নামে। কিন্তু উদ্দীপকের জনাব নাছির মৃত্যুর পর শাস্তি বা শান্তির ধারণাকে কাল্পনিক বলায় তার এ ধারণা স্পষ্টভাবে কুফরির শামিল।
জনাব নাফিসের বক্তব্যে আখিরাতের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা উল্লেখ করে তার বক্তব্যটি কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
জনাব নাফিসের বক্তব্যে আখিরাতের অন্যতম স্তর হাশরের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
হাশর হলো মহাসমাবেশ। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে সব মানুষ ও প্রাণীকুল মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হবে। সবাই সেদিন একজন আহ্বানকারী ফেরেশতার ডাকে হাশরের ময়দানে সমবেত হবে। এ ময়দান হবে বিশাল ও সুবিন্যস্ত। পৃথিবীর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সব মানুষই সেদিন এ মাঠে একত্র হবে। মানুষের এ মহাসমাবেশকেই হাশর বলা হয়। জনাব নাফিসের বক্তব্যে এ বিষয়টিরই সাদৃশ্য রয়েছে।
জনাব নাফিসের মতে, কিয়ামতের দিন এক বিশাল ময়দানে সকলকে সমবেত করা হবে। সেদিন মহান আল্লাহ ন্যায় বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করবেন। যার পুণ্যের পাল্লা ভারী হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যার পাপের পাল্লা ভারি হবে, সে হবে জাহান্নামি। তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি হাশরের ময়দানের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। কেননা হাশরের ময়দানেই মানুষের সব কাজকর্মের হিসাব নেওয়া হবে। হাশরের ময়দানে মানুষের আমলনামা দেওয়া হবে। যারা পুণ্যবান তারা ডান হাতে আমলনামা লাভ করবেন। আর পাপীরা বাম হাতে আমলনামা পাবে। হাশরের ময়দান ভীষণ কষ্টের স্থান। সেদিন সূর্য মাথার একেবারে নিকটে থাকবে। মানুষ প্রচণ্ড তাপে ঘামতে থাকবে। সেদিন আল্লাহ তায়ালার আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। এ সময় পুণ্যবানগণ নানাবিধ সুবিধাজনক স্থান লার্ভ করবে। পক্ষান্তরে পাপীরা হাশরের ময়দানেই কঠোর শাস্তি ভোগ করবে।.
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, হাশরের ময়দান হবে হিসাব-নিকাশের স্থান। যেখানে আল্লাহ তায়ালা আমাদের পাপ-পুণ্যের হিসাব নিবেন এবং সে অনুযায়ী পুরস্কার কিংবা শাস্তি প্রদান করবেন। তাই আমাদের সকলের উচিত হাশরের চিন্তা মাথায় রেখে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.)-এর নির্দেশিত পন্থায় জীবন পরিচালনা।

