• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনাব নাবিল একটি শিক্ষা সেমিনারে বলেন, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, শাসক-শাসিত কেউই মৃত্যুকে এড়াতে পারে না। জনাব। নাছির বলেন, জন্ম-মৃত্যু একটি প্রাকৃতিক বিষয়। মৃত্যুর পর শাস্তি বা শান্তি একটি কাল্পনিক বিষয়। জনাব নাফিস বলেন, 'কিয়ামতের দিন এক বিশাল ময়দানে সকলকে সমবেত করা হবে। সেদিন মহান আল্লাহ ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করবেন। যার পুণ্যের পাল্লা ভারী, হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যার পাপের পাল্লা ভারী হবে, সে জাহান্নামি হবে।

জনাব নাছিরের মতামতটি ব্যাখ্যা করো।

জনাব নাছিরের মনোভাবে ইমানের মৌলিক বিষয় আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি অবিশ্বাসের চিত্র ফুটে ওঠায় তার ধারণা কুফরের অন্তর্ভুক্ত।

কুফর হলো ইমানের বিপরীত। একজন মুসলিমকে ইমানের কতগুলো মৌলিক বিষয়ে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করতে হয়। এরূপ বিষয় মোট সাতটি। যার মধ্যে অন্যতম হলো আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। এ বিষয়গুলোর যে কোনো একটির প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করা কুফরির অন্তর্ভুক্ত, যা জনাব নাছিরের মনোভাবে দেখা যায়।

জনাব নাছিরের মতে, জন্ম-মৃত্যু একটি প্রাকৃতিক বিষয় এবং মৃত্যুর পর শাস্তি বা শান্তি একটি কাল্পনিক বিষয়। এ মনোভাবের মাধ্যমে তিনি মূলত আল্লাহ ও পরকালের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করেছেন, যা কুফরির অন্তর্ভুক্ত। কারণ প্রকৃতির জন্ম-মৃত্যু ঘটনার কোনো ক্ষমতা নেই; বরং প্রকৃতিও মহান আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহর নির্দেশ ব্যতীত কেউ জন্মগ্রহণ করে না, কারও মৃত্যুও হয় না। আল্লাহ তায়ালা সকল জীবের মৃত্যু নির্ধারণ করে রেখেছেন। তিনি বলেন, 'প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।' (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫) মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায় না; বরং মৃত্যুর পর আরও একটি জীবন রয়েছে, যাকে বলা হয় আখিরাত। পরকালে মানুষের দুনিয়ার সকল কাজ-কর্মের হিসাব দিতে হবে। দুনিয়াতে ভালো কাজ করলে মানুষ জান্নাত লাভ করবে। আর অসৎ কাজ করলে মানুষের স্থান হবে জাহান্নামে। কিন্তু উদ্দীপকের জনাব নাছির মৃত্যুর পর শাস্তি বা শান্তির ধারণাকে কাল্পনিক বলায় তার এ ধারণা স্পষ্টভাবে কুফরির শামিল।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()