• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনাব নাবিল একটি শিক্ষা সেমিনারে বলেন, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, শাসক-শাসিত কেউই মৃত্যুকে এড়াতে পারে না। জনাব। নাছির বলেন, জন্ম-মৃত্যু একটি প্রাকৃতিক বিষয়। মৃত্যুর পর শাস্তি বা শান্তি একটি কাল্পনিক বিষয়। জনাব নাফিস বলেন, 'কিয়ামতের দিন এক বিশাল ময়দানে সকলকে সমবেত করা হবে। সেদিন মহান আল্লাহ ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করবেন। যার পুণ্যের পাল্লা ভারী, হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যার পাপের পাল্লা ভারী হবে, সে জাহান্নামি হবে।

জনাব নাফিসের বক্তব্যে আখিরাতের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা উল্লেখ করে তার বক্তব্যটি কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

জনাব নাফিসের বক্তব্যে আখিরাতের অন্যতম স্তর হাশরের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

হাশর হলো মহাসমাবেশ। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে সব মানুষ ও প্রাণীকুল মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হবে। সবাই সেদিন একজন আহ্বানকারী ফেরেশতার ডাকে হাশরের ময়দানে সমবেত হবে। এ ময়দান হবে বিশাল ও সুবিন্যস্ত। পৃথিবীর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সব মানুষই সেদিন এ মাঠে একত্র হবে। মানুষের এ মহাসমাবেশকেই হাশর বলা হয়। জনাব নাফিসের বক্তব্যে এ বিষয়টিরই সাদৃশ্য রয়েছে।

জনাব নাফিসের মতে, কিয়ামতের দিন এক বিশাল ময়দানে সকলকে সমবেত করা হবে। সেদিন মহান আল্লাহ ন্যায় বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করবেন। যার পুণ্যের পাল্লা ভারী হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যার পাপের পাল্লা ভারি হবে, সে হবে জাহান্নামি। তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি হাশরের ময়দানের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। কেননা হাশরের ময়দানেই মানুষের সব কাজকর্মের হিসাব নেওয়া হবে। হাশরের ময়দানে মানুষের আমলনামা দেওয়া হবে। যারা পুণ্যবান তারা ডান হাতে আমলনামা লাভ করবেন। আর পাপীরা বাম হাতে আমলনামা পাবে। হাশরের ময়দান ভীষণ কষ্টের স্থান। সেদিন সূর্য মাথার একেবারে নিকটে থাকবে। মানুষ প্রচণ্ড তাপে ঘামতে থাকবে। সেদিন আল্লাহ তায়ালার আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। এ সময় পুণ্যবানগণ নানাবিধ সুবিধাজনক স্থান লার্ভ করবে। পক্ষান্তরে পাপীরা হাশরের ময়দানেই কঠোর শাস্তি ভোগ করবে।.

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, হাশরের ময়দান হবে হিসাব-নিকাশের স্থান। যেখানে আল্লাহ তায়ালা আমাদের পাপ-পুণ্যের হিসাব নিবেন এবং সে অনুযায়ী পুরস্কার কিংবা শাস্তি প্রদান করবেন। তাই আমাদের সকলের উচিত হাশরের চিন্তা মাথায় রেখে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.)-এর নির্দেশিত পন্থায় জীবন পরিচালনা।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()