- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আলাল ও জালাল দুই ভাই। আলাল পার্থিব লোভ-লালসা ও স্বার্থ রক্ষায় এতটাই লিপ্ত যে, মানুষের ক্ষতি করতে পিছপা হয় না। সমাজের মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বেড়ায়। এমনকি তার কথা ও কাজে কোনো মিল নেই। অন্যদিকে জালালের ধারণ পৃথিবীতে যখন মানবতার চরম বিপর্যয় ঘটবে তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের হেদায়েতের জন্য নবি-রাসুল প্রেরণ করবেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত এ ধার অব্যাহত থাকবে।
জালালের এরূপ ধারণার পরিণতি কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
জালালের ধারণা খতমে নবুয়তে 'বিশ্বাসের পরিপন্থি হওয়ায় এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে দীনের, পূর্ণতা ঘোষিত হয়েছে এবং নবুয়তের ধারার সমাপ্তি ঘটেছে। তিনি নবি-রাসুলগণের ধারায় সর্বশেষ আগমন করেছেন। আল্লাহ তায়ালা নিজে তাঁকে 'খাতামুন নাবিয়্যিন' তথা সর্বশেষ নবি বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু জালালের ধারণায় এর বিপরীত ভাব প্রকাশিত হয়েছে।
জালালের ধারণা পৃথিবীতে যখন মানবতার চরম বিপর্যয় ঘটবে তখন আল্লাহ হেদায়েতের জন্য নবি-রাসুল পাঠাবেন। কিন্তু তার এ ধারণা সঠিক নয়। কারণ হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে খাতামুন নাবিয়্যিন হিসেবে বিশ্বাস করা ইমানের অন্যতম অঙ্গ। মহানবি (স.) নিজেই ঘোষণা করেছেন, 'আমিই শেষ নবি, আমার পরে আর কোনো নবি নেই।' (সহিহ মুসলিম) কুরআন-হাদিস অনুযায়ী একজন কাফিরের সর্বশেষ ঠিকানা হলো জাহান্নাম। আর খতমে নবুয়তে বিশ্বাস না করাও এক ধরনের কুফরি।
আল্লাহ বলেন, 'যারা কুফরি করবে এবং আমার নিদর্শনকে অস্বীকার করবে, তারা-ই জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।' (সূরা আল বাকারা, আয়াত ৩৯) কুরআন-হাদিসের আলোকে জালালের পরিণতিও হবে একজন কাফিরের মতোই। অর্থাৎ ধারণা পরিবর্তন না করলে তাকেও চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকতে হবে।

