• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

দুজন ফেসবুক বন্ধু নানা প্রসঙ্গে আলাপচারিতায় প্রথম জন বলল, ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছি। কর্মের দ্বারা নিজের তকদির নিজেই তৈরি করেছি। পক্ষান্তরে, অন্যজন ফেসবুকেই কুরআন মজিদ ও মহানবি (স.)-কে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও উপহাস করেন। অথচ তারা উভয়ই নিজেদেরকে ইমানদার ও খাঁটি মুসলমান বলে দাবি করেন।

'সিলমুন' শব্দের অর্থ কী?

'সিলমুন' শব্দের অর্থ শান্তি।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

কোন বিশ্বাস মানুষকে সৎকর্মশীল করে তোলে? ব্যাখ্যা করো।

আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে সৎকাজে উদ্বুদ্ধ করে।

আখিরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি জানে যে, পরকালে তাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, দুনিয়ার সকল কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে। এদিন সৎকাজের জন্য পুরস্কার এবং অসৎকাজের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে। এ বিশ্বাসই মানুষকে সৎকাজে উদ্বুদ্ধ করে।

#

প্রথম জনের ধারণা কীসের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।

প্রথম জনের ধারণা কুফরির অন্তর্ভুক্ত।

কুফর ইমানের বিপরীত। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো অস্বীকার করা কুফরের অন্তর্ভুক্ত। একজন মুসলিমকে ইমানের মৌলিক বিষয় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হয়। এগুলো কুরআন ও হাদিস দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। এ বিষয়গুলোতে বিশ্বাস ছাড়া কেউ মুমিন হতে পারে না। এরূপ বিষয় মোট সাতটি। এর মধ্যে তকদির উল্লেখযোগ্য একটি, যার ওপর প্রথমজন অবিশ্বাস স্থাপন করেছেন।

তকদির অর্থ নির্ধারিত পরিমাণ ভাগ্য বা নিয়তি। আল্লাহ তায়ালা মানুষের তকদিরের নিয়ন্ত্রক। তিনিই তকদিরের ভালো-মন্দ নির্ধারণকারী। মানুষ যা চায় তা-ই করতে পারে না। বরং মানুষ শুধু তার কাজের জন্য চেষ্টা ও সাধনা করবে। অতঃপর ফলাফলের জন্য আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করবে। প্রথম জনের তকদিরের প্রতি বিশ্বাস নেই। তিনি মনে করেন, তার ব্যবসা-বাণিজ্যের সাফল্যের মূলে রয়েছে তার কর্ম। কিন্তু তার এ ধারণা ঠিক নয়। কারণ মহান আল্লাহ মানুষের ভালো-মন্দ নির্ধারণকারী। তাই তার এ ধারণা কুফরির অন্তর্ভুক্ত।

#

দ্বিতীয় জনের কর্মকাণ্ডের পরিণতি ও কুফল ইসলামের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

দ্বিতীয় জনের কর্মকাণ্ডের পরিণতি ও কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ।

একজন মানুষকে প্রকৃত মুমিন হতে হলে অবশ্যই সাতটি বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। এ সাতটি বিষয়ের কোনো একটিকে অবজ্ঞা করলে অথবা কোনো একটির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে সে মুমিন হতে পারবে না, কাফির হিসেবে পরিগণিত হবে। কাফিরদের শাস্তি হিসেবে মহান আল্লাহ চিরস্থায়ী জাহান্নামের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে দুনিয়ার জীবনে কাফিররা ব্যর্থ এবং চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে জীবনযাপন করে।

দ্বিতীয় জন কুরআন ও মহানবি (স.)-কে নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করে কুফরি করেছে। আর মানবজীবনে কুফরের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কুফরির ফলে পাপাচার বৃদ্ধি হয়, হতাশা সৃষ্টি পায়, অনৈতিকতার প্রসার ঘটে এবং আল্লাহ তায়ালা অসন্তুষ্ট হন। কুফরির ফলে শুধু দুনিয়াতেই নয় বরং আখিরাতেও মানুষকে শোচনীয় পরিণতি বরণ করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যারা কুফরি করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।' (সূরা বাকারা, আয়াত ৩৯)

পরিশেষে বলা যায়, কুফর একটি মারাত্মক অপরাধ। তাই কাফিররা জাহান্নামে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে। আসিফ সাহেব কুফরি করায় তাকেও এ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।