- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
নাদিরা সুলতানা একজন আদর্শ, শিক্ষক। আল্লাহর কাছে। জবাবদিহিতার ভয়ে ক্লাসে ফাঁকি দিয়ে তিনি তার প্রাইভেটে কিংবা কোচিং-এ কৌশল করে শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করেন না। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কলুষমুক্ত, পবিত্র ও সুন্দর। পক্ষান্তরে তার বড় ভাই আল্লাহদ্রোহী। দাম্ভিকতা, পাপাচার, মিথ্যাচার, অনৈতিক ও' অশালীন কার্যকলাপের দোষে লোকসমাজে তিনি ঘৃণিত।
উদ্দীপকের বড় ভাইয়ের নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে নবুয়ত ও রিসালাতের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকের বড় ভাইয়ের নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে নবুয়ত ও রিসালাতের ভূমিকা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের নাদিরা সুলতানার বড় ভাই একজন আল্লাহদ্রোহী ব্যক্তি। দাম্ভিকতা, পাপাচার, মিথ্যাচার, অনৈতিক ও অশালীন কার্যকলাপের দোষে লোকসমাজে তিনি ঘৃণিত। তার এরূপ অনৈতিক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে তাকে নবুয়ত ও রিসালাতের অনুসরণ করতে হবে। নবুয়ত ও রিসালাতের মাধ্যমেই কেবল তার মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশ লাভ করবে।
নবুয়ত ও রিসালাতের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব, পরিচয় ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান দান করা। মানুষকে সত্য ও সুন্দরের দিকে পরিচালনা করা। ইহা সর্বোপরি ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ ও সফলতার দিক নির্দেশনা প্রদান করে। নবুয়ত ও রিসালাতের চেতনা মানুষের মধ্যকার সমস্ত খারাপ অভ্যাস, অশ্লীলতা ও মন্দকর্মের চর্চা দূর করে দেয়। মানুষ সৎ ও সুন্দর জীবনযাপনে উৎসাহিত হয়। এভাবে নবুয়ত ও রিসালাতের শিক্ষায় মানুষ নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত হয়। কারণ নবি-রাসুলগণ ছিলেন নিষ্পাপ। সর্বাবস্থায় নীতি ও নৈতিকতার আদর্শ রক্ষা করাই ছিল তাদের অন্যতম দায়িত্ব। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।' (সূরা আল আহযাব, আয়াত ২১)
উদ্দীপকে বর্ণিত বড় ভাইয়ের চরিত্র অত্যন্ত জঘন্য। সে আল্লাহদ্রোহী। সে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে লিপ্ত। তাই নবুয়ত ও রিসালাতের মাধ্যমে সে আল্লাহকে চিনতে পারবে এবং সকল অপকর্ম পরিত্যাগ করে নিজের মধ্যে নৈতিকতার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হবে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
বারযাখ অর্থ কী?
বারযাখ অর্থ কবরের জীবন।
খতমে নবুয়ত বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
খতমে নবুয়ত বলতে নবুয়তের সমাপ্তিকে বোঝায়।
মানবজাতির হেদায়েতের জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে বহু নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। এ ক্রমধারা শুরু হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে এবং শেষ হয়েছে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে। অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ নবি ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে নবুয়ত ও রিসালাতের দায়িত্ব বন্ধ হয়েছে। নবুয়ত তথা নবি-রাসুল আগমনের এ ক্রমধারাটির পরিসমাপ্তিকেই খতমে নবুয়ত বলা হয়।
নাদিরা সুলতানার জীবনে কীসের প্রভাব বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
নাদিরা সুলতানার কর্মনিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের পেছনে আখিরাতে বিশ্বাস কাজ করেছে।
আখিরাত হলো পরকাল। আখিরাতের জীরন চিরস্থায়ী সেখানে মানুষকে দুনিয়ার জীবনের সকল কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে। কবর, যাশর, মিযান, সিরাত, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি আখিরাত জীবনের এক একটি পর্যায়। দুনিয়াতে ভালো কাজ করলে মানুষ জান্নাত লাভ করবে। আর অসৎ কাজ করলে মানুষের স্থান হবে ভীষণ আজাবের স্থান জাহান্নাম। এ কারণে আখিরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি কোনো খারাপ কাজ করতে পারে না।
নাদিরা সুলতানা একজন আদর্শ শিক্ষক। তিনি ক্লাস ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট বা কোচিং-এ আকর্ষণ করেন না। তিনি বিশ্বাস করেন পার্থিব জীবনের কর্মফল পরকালে ভোগ করতে হবে। আর এ বিশ্বাসই কবিরা সুলতানাকে সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত করে কর্মনিষ্ঠ ও দায়িত্ববান হতে বাধ্য করেছে। পরকালে বিশ্বাসী ব্যক্তি প্রতিটি কাজ করার পূর্বে ভাবতে থাকেন যে, এই কাজের জন্য তাকে মহান আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে। সে যদি দুনিয়াতে ভালো কাজ করে তবে পরকালে উত্তম প্রতিদান হিসেবে জান্নাত লাভ করবে। আর যদি অসৎ কাজ করে তবে তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত। এ বিশ্বাসই মানুষকে সকল অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। নাদিরা সুলতানাও আখিরাতে বিশ্বাসের কারণে কর্মনিষ্ঠ ও দায়িত্ববান হয়েছেন।

