- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আরমান মনে করে, কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানুষের হিদায়াতের জন্য নবিদের আগমনের ধারা অব্যাহত আছে। অপরদিকে সাজিদ বলে, মানুষকে পরকালে এমন একটি পথ পাড়ি দিতে হবে, যা হবে অন্ধকারাচ্ছন্ন। রফিক বলে, এটি আমল অনুযায়ী আলোকিত হবে।'
বারযাখ কী?
মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত সময়কে বারযাখ বলে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
শাফাআত বলতে কী বোঝায়?
শাফাআত বলতে কল্যাণ ও ক্ষমার জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে নবি-রাসুল ও নেক বান্দাদের সুপারিশ করাকে বোঝায়।
কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ মানুষের পাপ-পুণ্যের হিসাব নেবেন। তারপর আমল অনুযায়ী প্রত্যেকের জান্নাত-জাহান্নাম নির্ধারণ করবেন এবং পাপীদের জাহান্নাম ও পুণ্যবানদের জান্নাতে যাওয়ার নির্দেশ দেবেন। এ সময় নবি-রাসুল ও নেক বান্দারা অনেকের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। একেই শাফাআত বলা হয়।
আরমানের মনোভাবে কোন বিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
আরমান খতমে নবুয়তের বিষয়টি অবিশ্বাস করে।
খতমে নবুয়তের অর্থ হলো নবুয়তের সমাপ্তি। নবুয়তের ধারার সর্বশেষ নবি হলেন হযরত মুহাম্মদ (স.)। তাঁর মাধ্যমেই নবুয়তের ধারার সমাপ্তি ঘটেছে। আরমানের মধ্যে এ বিশ্বাস অনুপস্থিত। আরমান মনে করে, কিয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীতে মানুষের আগমন চলতে থাকবে। তাদের হিদায়েতের জন্য আল্লাহ তায়ালা নবি-রাসুলের আগমন ঘটাবেন। অথচ কুরআন ও হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি, হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে নবি-রাসুলগণের আগমনের ধারা বন্ধ হয়ে গেছে। হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন সারাবিশ্বের নবি। কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ পৃথিবীতে আসবেন তাদের জন্য মহানবি (স.)-এর পথ নির্দেশনাই যথেষ্ট। তাদের সবার নবিই মুহাম্মদ (স.)। আল্লাহ বলেন, '(হে নবি) আপনি বলুন, হে মানবমণ্ডলী আমি তোমাদের সকলের জন্যই আল্লাহর রাসুল হিসেবে প্রেরিত।' (সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৫৮) মহানবি (স.) বলেছেন, 'আমিই শেষ নবি, আমার পরে কোনো নবি নেই।' (সহিহ মুসলিম) মহানবি (স.) সম্পর্কে এ বিশ্বাস স্থাপন করাই হলো খতমে নবুয়তে বিশ্বাস। আর আরমানের ধারণায় এ বিশ্বাস অনুপস্থিত।
সাজিদের নির্দেশিত বিষয়টি চিহ্নিত করে রফিকের মন্তব্যের যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
সাজিদের আলোচিত বিষয়টি হলো সিরাত। আমন অনুযায়ী এটি আলোকিত হবে- রফিকের এ মন্তব্যটি যথার্থ।
সিরাত শব্দের অর্থ পথ, রাস্তা, সেতু ইত্যাদি। হাশরের ময়দান হতে জান্নাত পর্যন্ত জাহান্নামের উপর দিয়ে চলমান উড়াল সেতুই সিরাত। এটি একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন পুল। চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম ও তরবারি অপেক্ষা ধারালো সিরাত মুমিন ব্যক্তি অতি সহজেই পাড়ি দিতে পারবে। উদ্দীপকে এটি প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের সাজিদ বলে, মানুষকে পরকালে এমন একটি পথ পাড়ি দিতে হবে, যা অন্ধকারাচ্ছন্ন। এ বর্ণনা সিরাতকে নির্দেশ করে। এ সিরাত নেককার মুমিন বান্দার জন্য আলোকিত হবে বলে রফিক যে মন্তব্য করেছে সেটি যথার্থ। কারণ সিরাত যেমন অন্ধকারাচ্ছন্ন রাস্তা, তেমন সূক্ষ্ম ও ধারালো। পরকালে এটি পাড়ি দিয়েই সকলকে জান্নাতে প্রবেশ করতে হবে। আল্লাহ বলেন, 'তোমাদের প্রত্যেকেই তা অতিক্রম করবে এটা তোমার প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত।' (সূরা মারইয়াম, আয়াত ৭১) মুমিন ও নেক আমলকারী ব্যক্তির জন্য আলোর ব্যবস্থা থাকবে। ফলে তারা কেউ বিদ্যুৎগতিতে, কেউ ঝড়ের গতিতে, কেউ ঘোড়ার গতিতে সিরাত পার হবে। অন্যদিকে যারা ইমানদার নয় এবং পাপী, তাদের জন্য সিরাত অত্যন্ত ভয়াবহ স্থান। তাদের জন্য সিরাত হবে অন্ধকার, অতি সূক্ষ্ম এবং ধারালো। তারা কিছুতেই তা অতিক্রম করতে পারবে না। বরং করুণভাবে জাহান্নামে পতিত হবে।
পরিশেষে বলা যায়, সহজে সিরাত পার হওয়ার জন্য সকল অন্যায় ও পাপ বর্জন করে আল্লাহ ও রাসুলের আদেশ-নিষেধ অনুযারী সকলের জীবন পরিচালনা করা উচিত।

