• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনতা কো অপারেটিভ লি. একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। উক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা পর্যবেক্ষণ করে বছর শেষে কিছু। লোককে পদোন্নতি দেওয়া হয়। আবার কিছু লোককে চাকরিচ্যুত করা হয়।

প্রতিষ্ঠানের উক্ত নীতি সৎকর্মে অনুপ্রাণিত করে- উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন করো।

প্রতিষ্ঠানের উক্ত নীতি তথা আখিরাতে পুরস্কার কিংবা শাস্তি প্রদানের নীতি মানুষকে সৎকর্মে অনুপ্রাণিত করে।

আখিরাত হলো পরকাল। মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। এটি মানুষের অনন্ত ও চিরস্থায়ী জীবন। পক্ষান্তরে দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। মূলত দুনিয়ার জীবন যলো আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণের ক্ষেত্র। আর এ বিষয়টি যখন কেউ বুঝতে পারে যে, আখিরাতের চিরস্থায়ী জীবনের জন্য দুনিয়ার যাবতীয় কাজের হিসাব প্রদান করতে হবে, তখনই মানুষ নিষ্ঠাবান হতে বাধ্য হয়।
উদ্দীপকের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা পর্যবেক্ষণ করে বছর শেষে কিছু লোককে পদোন্নতি দেওয়া হয় আবার কিছু লোককে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ ঘটনা পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে পাপ থেকে বিরত রেখে পুণ্য কাজ করতে উৎসাহিত করে। কারণ আখিরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি জানে যে, পরকালে তাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, দুনিয়ার সব কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে। পাপ-পুণ্যের হিসাব না দিয়ে সেদিন কেউই রেহাই পাবে না। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।' (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৮৬) দুনিয়াতে যারা ভালো কাজ করবে, প্রকালে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। আর যারা মন্দ কাজ করবে, তাদের জন্য রয়েছে চিরশান্তির স্থান জাহান্নাম।

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, আখিরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি স্বীকার করে নেয় যে, তাকে তার সব কাজের জন্য আল্লাহর দরবারে হিসাব দিতে হবে। সেখানে সৎকর্মের প্রতিদানস্বরূপ জান্নাত এবং অসৎকর্মের জন্য জাহান্নামে যেতে হবে। তাই জাহান্নামের ভয় ও জান্নাত লাভের আশায় মানুষ সৎকর্মে অনুপ্রাণিত হয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

কয় শ্রেণির লোক আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন?

সাত শ্রেণির লোক আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন।

#

পুলসিরাতের স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।

আখিরাতের একটি ধাপ হলো সিরাত বা পুলসিরাত।

সিরাতের শাব্দিক অর্থ হলো পথ, রাস্তা, পুল, সেতু ইত্যাদি। এটি হাশরের মাঠ থেকে জান্নাত পর্যন্ত বিস্তৃতি হবে। সিরাতের কিছু বৈশিষ্ট্য হলো- ১. সিরাত জাহান্নামের ওপর স্থাপিত একটি অন্ধকার সেতু; ২. নেক আমলকারীদের জন্য সিরাত প্রশস্ত ও আলোকিত হবে; ৩. পাপীদের জন্য সিরাত হবে চুলের চেয়েও চিকন এবং তরবারির চেয়েও ধারালো।

#

উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে?

উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের জান্নাত-জাহান্নামের সাদৃশ্য রয়েছে।

জান্নাত হলো একটি আরামদায়ক স্থান। যেটি আল্লাহ তায়ালা পরকালীন জীবনে পুণ্যবানদের জন্য পুরস্কারস্বরূপ প্রদান করবেন। অপরপক্ষে জাহান্নাম হলো কঠোর শাস্তির স্থান। যেখানে পরকালীন জীবনে পাপীদের নিক্ষেপ করা হবে। উদ্দীপকের ঘটনাটিও জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে ইঙ্গিত প্রদান করে।

উদ্দীপকের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা পর্যবেক্ষণ করে বছর শেষে কিছু লোককে পদোন্নতি দেওয়া হয়। আবার কিছু লোককে চাকরিচ্যুত করা হয়। এভাবে কর্মফল হিসেবে পুরস্কার কিংবা শাস্তি প্রদানের ঘটনা জান্নাত-জাহান্নামের ধারণাকে সুস্পষ্ট করে। কারণ আল্লাহর ঘোষণা অনুসারে দুনিয়াতে যে ভালো কাজ করবে, আখিরাতে সে পুরস্কার পাবে। তার স্থান হবে জান্নাত। আর খারাপ কাজ করলে শাস্তি ভোগ করতে হবে। তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। জাহান্নামের আগুন অত্যন্ত উত্তপ্ত। রাসুল (স.) বলেছেন, 'তোমাদের এ পৃথিবীর আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ মাত্র'। (সহিহ বুখারি) জাহান্নামের শাস্তির ` ভয় মানুষকে বড় বড় অন্যায় এবং অনৈতিক কাজের পাশাপাশি ছোট ছোট পাগ ও অসৎ কাজ থেকেও বিরত রাখে। মানুষ জান্নাত লাভের আশায় নেক আমল করে। ভালো কাজ করতে উৎসাহী হয়। তাই বলা যায়, কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতি কিংবা চাকরিচ্যুত করার ঘটনাটি আমাদেরকে জান্নাত-জাহান্নামের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।