- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব আব্দুস সালাম ফল ও সবুজ শাক-সবজিতে ফরমালিনের ব্যবহার ও এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। অন্যদিকে ড. রমিজ উদ্দিন দেশের ভূমিরূপ, রাস্তাঘাট ও নদ- নদী চিহ্নিত একটি মানচিত্র ও এর নানামুখী ব্যবহারের উপায় সম্বলিত নির্দেশনা তৈরি করেন। তাদের উভয়ের গবেষণার মূল্যায়ন করতে গিয়ে জনাব শায়খ আবুল হাসেম বলেন, এ ধরনের গবেষণা দ্বাদশ শতাব্দীর মুসলিম বিজ্ঞানীদের গবেষণার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
'বায়তুল হিকমা প্রতিষ্ঠা বিজ্ঞানচর্চায় একটি মাইলফলক' ব্যাখ্যা করো।
আব্বাসিয় শাসনামলে 'বায়তুল হিকমা' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলিমদের বিজ্ঞানচর্চায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হয়।
‘বায়তুল হিকমা' হলো একটি বিজ্ঞানাগার বা গবেষণাগার। আব্বাসিয় খলিফা আল-মামুন ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদ (বর্তমানে ইরাকের রাজধানী) নগরীতে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এটি মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, ভূগোল ও চিকিৎসাবিদ্যাসহ আধুনিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠানটির অবদান অনস্বীকার্য। এসব অবদানের কারণেই বায়তুল হিকমার প্রতিষ্ঠাকে বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
দারুল আরকাম কী?
'দারুল আরকাম' হলো ইসলামের প্রথম পাঠশালা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ড. রমিজ উদ্দিনের গবেষণার সাথে মুসলিম জ্ঞান-বিজ্ঞানের কোন বিষয়ের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের ড. রমিজ উদ্দিনের গবেষণার সাথে মুসলিম জ্ঞান- বিজ্ঞানের অন্যতম শাখা ভূগোলশাস্ত্রের মিল রয়েছে।
মুসলিম মনীষীদের ভূগোলবিষয়ক জ্ঞানের উৎস ছিল পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও আল-কুরআন। মুসলিম ভূগোলবিদদের মধ্যে মুসা আল খাওয়ারেজমি পৃথিবীকে সাতটি ভূখণ্ডে বিভক্ত করেন। ইবনে খুরদাদ আরবের প্রধান বাণিজ্যপথ এবং চীন, জাপান ও কোরিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান বর্ণনা করেন। মুসলিম মনীষী আল-ইয়াকুবী তার 'কিতাবুল বুলদান' গ্রন্থে আরব থেকে উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত এলাকার নগরসমূহের বস্তুনিষ্ঠ বিবরণ তুলে ধরেন। আল মুকাদ্দাসী ছিলেন শ্রেষ্ঠতম ভূগোলবিদ। সমুদ্রতত্ত্বের ওপর 'আকবার আল-জামারি' নামে তার একটি তথ্যবহুল বই রয়েছে। এছাড়া আল-বিরুনী নদীর ভূসংস্থান, ভূতত্ত্ব, জোয়ারভাটা, ভূমি পরিমাপমূলক কাজ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ড. রমিজ উদ্দিন দেশের ভূমিরূপ, রাস্তাঘাট ও নদ- নদী চিহ্নিত একটি মানচিত্র প্রস্তুত ও এর নানামুখী ব্যবহারের উপায় সম্বলিত নির্দেশনা তৈরি করেন। এগুলো মূলত ভূগোল বিষয়ক কর্মকাণ্ড। তাই বলা যায়, ড. রমিজ উদ্দিনের গবেষণার সাথে মুসলিম জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভূগোলশাস্ত্রের মিল রয়েছে।
জনাব আব্দুস সালামের গবেষণার সাথে মুসলিম বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ানের গবেষণার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকের জনাব আবদুস সালামের গবেষণার সাথে মুসলিম বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ানের রাসায়নিক গবেষণার তুলনা করা যায় ৷ মুসলিম মনীষী জাবির ইবনে হাইয়ান হলেন রসায়নশাস্ত্রের জনক। তার বড় কৃতিত্ব হলো তিনি রাসায়নিক সূত্র ও পদ্ধতির ব্যাবহারিক রূপ দেন। তিনি ধাতুর মানগত উন্নতি সাধন করেন। স্টিল ও লোহা তৈরি, মারকাসাইট থেকে স্থায়ী লেখার কালি, চামড়া ও কাপড় রং করা, লোহা সংরক্ষণের জন্য বার্নিস ব্যবহার করার পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড থেকে কাচ তৈরি করা, এসিডের ঘনত্বের জন্য অম্লরস এবং চোলাই করার পদ্ধতির সফল প্রয়োগ করেন। সাইট্রিক এসিড, সিলভার নাইট্রেড, কিউরিক ক্লোরাইড, এন্টিমনি, আর্সেনিক প্রভৃতি ব্যবহারের বিষয়েও তার বিশেষ জ্ঞান ছিল। তিনি লবণ তৈরির একটি সফল ব্যাবহারিক পদ্ধতিরও উদ্ভাবন করেন ।
উদ্দীপকের জনাব আব্দুস সালাম ফল ও সবুজ শাক-সবজিতে ফরমালিনের ব্যবহার ও এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন । এগুলো মূলত রাসায়নিক গবেষণার সাথে সম্পর্কিত। উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, জাবির ইবনে হাইয়ান যেমন বিভিন্ন রাসায়নিক গবেষণা করেছেন ঠিক তেমনি উদ্দীপকের জনাব আব্দুস সালামও রাসায়নিক গবেষণা বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেছেন।

