- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- কাবুলের শেষ প্রহরে (ভ্রমণ-কাহিনি)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বর্ণনামূলক প্রশ্ন ০৩
চতুর্দিকের বরফের চেয়েও আবদুর রহমানের পাগড়ি ও হৃদয়কে লেখকের অধিক শুভ্রতর কেন মনে হচ্ছে? 'কাবুলের শেষ প্রহরে' গল্পের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ কর।
একজন মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন, স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী, বিনম্র ও নিঃস্বার্থ মানুষ হিসেবে আবদুর রহমানের পাগড়ি ও হৃদয়কে লেখকের কাছে বরফের চেয়েও শুভ্রতর মনে হয়েছে।
'কাবুলের শেষ প্রহরে' সৈয়দ মুজতবা আলীর একটি বিখ্যাত। ভ্রমণকাহিনি। এটি আফগানিস্তানের কাবুল শহরে অবস্থানকালে তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার অংশবিশেষ। আফগান সরকারের শিক্ষা বিভাগে কাজ করার সময় লেখক কাবুলে অবস্থান করছিলেন। তখন তাঁর গৃহপরিচারক হিসেবে আবদুর রহমান নামের একজনকে নিযুক্ত করা হয়। আবদুর রহমান ছিল শান্ত, সহজ-সরল, বিনম্র ও দায়িত্বশীল মানুষ। তার দায়িত্বজ্ঞান ছিল প্রবল। তার সঙ্গে লেখকের ভালো একটি মানবিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রভু-ড়ত্যের বাইরে গিয়ে সবাই যে মানুষ, প্রত্যেকেরই প্রত্যেককে ভালো রাখার যে দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে, তা লেখক ও আবদুর রহমানের সম্পর্কে দেখা যায়। আবদুর রহমান তার সরলতা, নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধ দ্বারা লেখকের মনে স্থান পায়। কেননা, গৃহকর্ম ছাড়াও লেখকের সার্বিক দেখভালের প্রতিও ছিল তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। কাবুলে যখন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তখনও আবদুর রহমান লেখককে একা ফেলে চলে যায়নি। চরম খাদ্য সংকটেও লেখক ও আবদুর রহমান অল্প খাবার ভাগ করে খেতেন। নিরাপত্তার স্বার্থে লেখক দেশে ফেরার টিকিট পেলে আবদুর রহমানের মনে শূন্যতার সৃষ্টি হয়। তার চোখে জল আসে। বিমানবন্দরেও দেখা যায় আবদুর রহমান বিমানকে ভয় পায়। তাই সে বারবার বলতে থাকে- "তোমাকে খোদার হাতে সোপর্দ করলাম।" অর্থাৎ লেখকের যাতে কল্যাণ হয় তাই সে বারবার খোদাতালার কাছে তাঁকে সঁপে দিতে থাকে।
একজন হতদরিদ্র ভৃত্য যার কাজ কেবলই দায়িত্ব পালন করা, সেখানে দেখা যায়- আবদুর রহমান কেবলই দায়িত্বই পালন করেনি, বরং উদার, মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সে লেখককে সব কাজে সাহায্যের পাশাপাশি স্বচ্ছ হৃদয়ের দ্বারা লেখকের মনেও জায়গা করে নিয়েছে।
আফগানিস্তানে প্রথম পরিচয়ের সেই আফগান আবদুর রহমান শেষ দিনের বিদায় বেলায়ও লেখকের পাশে পাশে ছিল। বহুদিন ধরে সাবান না থাকায় তার পাগড়িটি ময়লা হয়ে গেছে অর্থাৎ আবদুর রহমান হতদরিদ্র। কিন্তু মনের দিক থেকে আবদুর রহমান অতীব স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী। উদারতা, ভালোবাসা, মানবিক দৃষ্টিকোণ ও দায়িত্বশীলতায় আবদুর রহমানের হৃদয় লেখকের কাছে তাই চতুর্দিকের সাদা বরফের চেয়েও শুভ্রতম মনে হয়েছে।

