• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • কাবুলের শেষ প্রহরে (ভ্রমণ-কাহিনি)
কাবুলের শেষ প্রহরে (ভ্রমণ-কাহিনি)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ০১

একজন বিদেশি গৃহপরিচারকের সাথে লেখকের মানবিক সম্পর্কের যে চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে তা তোমার নিজের ভাষায় উপস্থাপন কর।

একজন বিদেশি গৃহপরিচারকের সাথেও যে মানবিক সম্পর্ক, একটি সুষ্ঠু, শ্রদ্ধাশীল ও আন্তরিক সম্পর্ক হতে পারে তাই প্রকাশ পেয়েছে 'কাবুলের শেষ প্রহরে' নামক গল্পটিতে। প্রভু-ভৃত্য সম্পর্কের বাইরেও যে মানুষের প্রতি মানুষের একটি মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক হতে পারে তাই এখানে প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রভু-ভৃত্য সম্পর্কটি চিরকালই সাধারণত হুকুম দেওয়া ও হুকুম পালনের হয়ে থাকে। সেখানে পারস্পরিক অধিকার ও মর্যাদার দিকটি একপাক্ষিক হয়। অথচ গৃহপরিচারককেও একজন মানুষ হিসেবে সম্মান দেওয়া, তার ব্যক্তিগত সময়, স্থান ও অনুভূতিগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব গড়ে তোলা মানুষের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। সৈয়দ মুজতবা আলী 'কাবুলের শেষ প্রহরে' নামক গল্পটিতে এমনই এক ঘটনার সন্নিবেশ করেছেন, যেখানে লেখক ও একজন আফগান গৃহপরিচারকের মধ্যে এক অটুট হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। আবদুর রহমান নামক এই গৃহপরিচারক লেখকের প্রতি গভীর স্নেহ-ভালোবাসার স্বাক্ষর রেখেছে। লেখক তার প্রতি গভীর সহানুভূতি, সম্মান ও মানবিক ছিলেন বলেই আবদুর রহমান লেখককে এতটা আপন ভেবে নিয়েছে। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে দেশত্যাগের প্রয়োজন হলে আবদুর রহমান বেদনায় অশ্রুসিক্ত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে লেখক কথা বলতে চাইলেও আবদুর রহমান কথা বলতে পারে না। লেখকও বেদনাহত হন। আবদুর রহমানের সাথে তাঁর এই হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের ফলে তাকে লেখকের আত্মজন মনে হয়। চলে যাওয়ার সময় লেখকের মনে হচ্ছিল তাঁর সত্তাকে যেন কেউ দ্বিখন্ডিত করে ফেলেছে। আবার বিমানে ওঠার সময় আবদুর রহমান লেখকের মঙ্গলের জন্য বারবার তাঁকে খোদাতায়ালার কাছে সোপর্দ করছিল। ফলে আবদুর রহমান লেখকের মনে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নেয়। আফগানিস্তানে লেখকের প্রথম দিন থেকে বিদায়ের মুহূর্ত পর্যন্ত সে লেখকের পাশে পাশে ছিল। ফলে আবদুর রহমান হয়ে ওঠে লেখকের পরম বান্ধব, প্রবাস বন্ধু। আবদুর রহমানের সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা আর উদার মানবিক মূল্যবোধের জন্য তার পাগড়িকে শুভ্রতর এবং হৃদয়কে লেখক সাদা বরফের চেয়েও শুভ্রতম মনে হয়। এভাবেই একজন গৃহপরিচারকের সাথে লেখকের একটি মানবিক সম্পর্কের বন্ধন গড়ে ওঠে।

একটি সুন্দর, পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধাপূর্ণ মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমেই একজন গৃহপরিচারকের সাথে একটি শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়, যা একে অন্যের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে সহাবস্থান করতে সহায়তা করে। 'কাবুলের শেষ প্রহরে' গল্পটিতে এরই বিশেষ চিত্রের প্রতিফলন ঘটতে দেখা যায়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

"আমাকে সে তাঁরই হাতে সঁপে দিয়েছে।"- কথাটি কে কাকে উদ্দেশ্য করে বলেছে? কেন বলেছে? ব্যাখ্যা কর।

"আমাকে সে তাঁরই হাতে সঁপে দিয়েছে"- একথাটি গল্পের লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর গৃহপরিচারক আবদুর রহমান সম্পর্কে বলেছে। লেখকের মঙ্গলার্থে আবদুর রহমান বারবার তাঁকে খোদাতায়ালার হাতে সোপর্দ করছে দেখে লেখক উক্ত কথাটি বলেন।

'কাবুলের শেষ প্রহরে' একটি ভ্রমণকাহিনিমূলক রচনা। লেখকের আফগানিস্তানে কাবুল শহরে অবস্থানকালীন একটি ঘটনার ওপর গল্পটি রচিত। কাবুলে লেখকের একজন আফগান গৃহপরিচারক ছিল যার নাম আবদুর রহমান। লেখকের দেখভালের প্রতি তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছিল। তাদের মধ্যে প্রভু-ভূত্যের সম্পর্কের চেয়ে বরং মানবিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বেশি প্রকট ছিল। ফলে দেশের অরাজক পরিস্থিতিতে লেখককে যখন দেশত্যাগের জন্য বের হতে হয়, তখন বিদায়কালে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আবদুর রহমান বিমান জিনিসটিকে বড্ড ভয় পায়। তাই সে লেখকের যাতে কোনো বিপদ না হয় তাই বলতে থাকে- "ব খুদা সম্পূর্দমৎ" অর্থাৎ "তোমাকে খোদার হাতে সোপর্দ করলাম।" বিমান উড়ে চলে যাওয়ার সময়ও লেখক উপর থেকে দেখতে পান আবদুর রহমান একই কথা বারবার বলেই যাচ্ছে।

মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধা, স্নেহ-ভালোবাসার জায়গা থেকেই আবদুর রহমান লেখকের জন্য খোদাতালার কাছে তাঁর মঙ্গল কামনা করে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।