• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

আ. রহিম এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তার মাকে বলল, আমি জগৎখ্যাত মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মধ্যে যিনি শল্য চিকিৎসার দিশারি হিসেবে আজ আমাদের মাঝে স্বরণীয় হয়ে আছেন এবং ইউনানি শাস্ত্রে যার অসাধারণ অবদান রয়েছে তার আদর্শ অনুকরণে একজন চিকিৎসাবিদ হতে চাই। তাই আমি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে ইচ্ছুক ।

আ. রহিম কাকে অনুসরণ করে চিকিৎসাবিদ হতে চায়? তার অবদান উল্লেখ কর।

আ. রহিম আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনাকে অনুসরণ করে চিকিৎসাবিদ হতে চায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে তিনি অসামান্য অবদান রেখে বিখ্যাত হয়ে আছেন ।

ইবনে সিনা ছিলেন অন্যতম ওষুধ বিশেষজ্ঞ। তিনি ওষুধ তৈরি, সংরক্ষণ ও প্রয়োগের আধুনিক পদ্ধতির উদ্ভাবক। এ জন্যে ইউরোপীয় চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা তাকে 'Master of Medicine' উপাধিতে ভূষিত করেন। ইবনে সিনা চিকিৎসাক্ষেত্রে আদিম পদ্ধতির স্থলে আধুনিক পদ্ধতি চালু করেন। সেজন্যে তাকে আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্র, চিকিৎসা প্রণালি ও শল্য চিকিৎসার দিশারি মনে করা হয়। তিনি গ্রিসের চিকিৎসাবিজ্ঞানী হিপোক্রিটাস ও গ্যালেনের রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ চিকিৎসাশাস্ত্রের পূর্ণতা বিধান করেন । এছাড়া তিনিই প্রথম ব্যাপক গবেষণার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, যক্ষ্মা একটি সংক্রামক ব্যাধি, যা মাটি ও পানির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। যক্ষ্মা বিষয়ে তার গবেষণা ছিল অত্যন্ত আধুনিক ।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ওপরই ইবনে সিনা বেশকিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হচ্ছে 'কানুন ফিততিৰ’। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অপরিসীম অবদানের জন্য বিশ্বের ইতিহাসে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন ।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

সর্বপ্রথম পৃথিবীর গোলাকার মানচিত্র তৈরি করেন কে?

সর্বপ্রথম পৃথিবীর গোলাকার মানচিত্র তৈরি করেন আল মাসউদি।

#

বায়তুল হিকমা বলতে কী বোঝায়?

'বায়তুল হিকমা' মূলত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ।

জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও শিক্ষা বিস্তারের জন্য আব্বাসি খলিফা আল মামুন ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে বায়তুল হিকমা নির্মাণ করেন। এটি গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ বিভাগ এ তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। এটি ছিল মূলত একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় অসামান্য অবদান রেখে এ প্রতিষ্ঠানটি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে।

#

আ. রহিমের মেডিকেলে ভর্তির উদ্দেশ্যটি সত্যিই প্রশংসনীয়— পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মূল্যায়ন কর ।

আ. রহিমের মেডিকেলে ভর্তির উদ্দেশ্যটি সত্যিই প্রশংসনীয়। ইসলাম একটি বুদ্ধিভিত্তিক জীবনদর্শন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অনুশীলন ও চর্চা এ ধর্মে পুণ্যের কাজ বলে গণ্য। এটি কুরআন ও হাদিস থেকে উদ্ভূত একটি বিষয়। মুসলিম মনীষীগণ ইসলামি শরিয়তের আলোকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অনুপ্রেরণা লাভ করেন।

ইসলামি শরিয়তের প্রধান উৎস কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে উৎসারিত জ্ঞানের আলোকে মুসলিম মনীষীগণ চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যাপক অবদান রাখেন। চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্যাপক বুৎপত্তি অর্জন করে, মানবসেবার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছেন। আর তাদের অসামান্য অবদানের কারণেই বর্তমান মুসলিম শিক্ষার্থীরা চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছে, যেমনটি আ. রহিমের ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায় ।

আ. রহিমের মেডিকেলে পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে মানবসেবা করতে পারেন। তার এ কাজের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক লোক উপকৃত হতে পারে। তাই তার মেডিকেলে পড়া একদিকে যেমন শরিয়তসম্মত, তেমনি মানুষের জন্য মঙ্গলজনক।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, আ. রহিমের মেডিকেল ভর্তির উদ্দেশ্যটি সত্যিই খুব প্রশংসনীয় ।