• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের সরকারব্যবস্থা
বাংলাদেশের সরকারব্যবস্থা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

অভিশংসন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

'অভিশংসন' হলো সাংবিধানিক পদ থেকে কোনো ব্যক্তিকে অপসারণ করার একটি পদ্ধতি। সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত কোনো ব্যক্তির সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর কোনো অভিযোগে তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের জন্য অভিশংসন পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। যেমন- রাষ্ট্রপতি সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত হলে অভিশংসনের মাধ্যমে তাকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অপসারণ করা যায়। এজন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

শাসনবিভাগ কাকে বলে?

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে গঠিত বিভাগকে শাসনবিভাগ বলে।

#

ছক-১ কাকে নির্দেশ করে? তার ক্ষমতা ও কাজ ব্যাখ্যা করো।

ছক ১-এ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে নির্দেশ করা হয়েছে। তিনি সাংবিধানিক কিছু ক্ষমতা ভোগ ও দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

ছক ১-এ বলা হয়েছে, শাসনবিভাগের সর্বোচ্চ ব্যক্তি, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত, বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর। এ বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে নির্দেশ করে। কারণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হলেন শাসনবিভাগের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। তিনি জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। আর রাষ্ট্রপতি হতে হলে তাঁর বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে। শাসনবিভাগের সর্বোচ্চ ব্যক্তি হিসেবে রাষ্ট্রপতির বেশকিছু সাংবিধানিক ক্ষমতা ও দায়িত্ব রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারের শাসনসংক্রান্ত সকল কাজ তাঁর নামে পরিচালিত হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়োগ করেন। রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, তিন বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ দেন। তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সংসদ ভেঙে দিতে পারেন। রাষ্ট্রপতির সম্মতি ছাড়া কোনো অর্থ বিল সংসদে উত্থাপন করা যায় না। তিনি কোনো আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন। দেশের প্রয়োজনে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। এছাড়া তিনি জাতীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় চুক্তি, দলিল তাঁর নির্দেশেই সম্পাদিত হয়।

#

২নং ছকের বহুবিধ কাজের মাধ্যমেই সরকারের সফলতা বা বিফলতা নির্ভর করে- বিশ্লেষণ করো।

২নং ছকের বহুবিধ কাজের মাধ্যমেই অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর কাজের মাধ্যমেই সরকারের সফলতা বা বিফলতা নির্ভর করে- কথাটি যথার্থ।

ছক ২-এ উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ নেতা, কার্যকাল ৫ বছর, তাঁর সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুপ্তি সম্পাদিত হয় না। এ বিষয়গুলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে নির্দেশ করে। কারণ প্রধানমন্ত্রী হলেন জাতীয় সংসদের নেতা। তার সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি করা যায় না। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের কেন্দ্রবিন্দু এবং সরকারপ্রধান। তাঁকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের শাসনকাজ পরিচালিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা দেশের প্রকৃত শাসক।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থের রক্ষক। তাঁর নির্দেশে দেশ, জাতি ও সরকার পরিচালিত হয়। তিনি রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার মধ্যমণি। তিনি মন্ত্রীদের কাজ তদারক করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের মধ্যে সমন্বয় করেন। সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রীগণ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও অনুমোদন নিয়ে কাজ করেন। তিনি যেকোনো মন্ত্রীকে তার পদ থেকে অপসারণ করতে পারেন। পররাষ্ট্র বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। মোটকথা, তাকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিসভা গঠিত, পরিচালিত ও বিলুপ্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কর্মদক্ষতার উপর সরকারের সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ভর করে। জাতীয় সংসদের আস্থা হারালে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়।

উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকাই মুখ্য। এ কারণে তাঁর কাজের ওপর সরকারের সফলতা ও ব্যর্থতা দুটোই নির্ভর করে।