- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
নবীনপুর শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে থাকার ফলে এলাকাবাসী সব ক্ষেত্রে অনগ্রসর ছিল। উক্ত এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী ও সম্পদশালী এক ব্যক্তির উদ্যোগে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ধীরে ধীরে এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো প্রজ্জ্বলিত হয়। কয়েক বছরের ব্যবধানে উক্ত এলাকার মানুষ সমাজ সচেতন হয়ে ওঠে। এলাকার শিক্ষিত নারী রায়হানা নারীশিক্ষার বিষয়ে এলাকাবাসীকে সচেতন করে তোলেন।
"রায়হানার মতো শিক্ষিত নারীর জন্যই এদেশে নারী শিক্ষার পথ সুগম হয়"- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
'রায়হানার মতো শিক্ষিত নারীর জন্যই এদেশে নারী শিক্ষার পন্থ সুগম হয়'- প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রায়হানা নারীশিক্ষার বিষয়ে এলাকাবাসীকে সচেতন করে তোলেন। মধ্যযুগে সামাজিক অনুশাসন ও বিধিনিষেধের দাপটে বাঙালি নারী সমাজ ব্যাপকভাবে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু এদেশে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ইংরেজরা তাদের শাসন পাকাপোর করার লক্ষ্যে এ দেশীয়দের মধ্য থেকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত একটি অনুগত শ্রেণি তৈরিতে মনোযোগ দেয়। তাই ইংরেজরা এদেশে বেশকিছু আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। ইংরেজদের পাশাপাশি প্রভাবশালী ও সম্পদশালী ব্যক্তিরাও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে ধীরে ধীরে এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো প্রজ্বলিত করেন। ফলে এলাকার মানুষের মাঝে শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। নারী সমাজ তখনও সচেতন হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু এ সময় কতিপয় শিক্ষিত নারীর প্রচেষ্টায় নারীদের মাঝে আস্তে আয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
তাদের প্রচেষ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের জন্য বিভিন্ন স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে বালিকা বিদ্যালয় গড়ে ওঠে। নারীরা বুঝতে পারে, নিজেদের তথা সমাজের সার্বিক উন্নতির জন্যই তাদের শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাই নারীরা শিক্ষা গ্রহণ করার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে আমরা বলতে পারি, রায়হানার মতো শিক্ষিত নারীর জন্যই এদেশে নারী শিক্ষার পথ সুগম হয়।

