• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • ঔপনিবেশিক যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য
ঔপনিবেশিক যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

সাগর ও কামাল দুই বন্ধু। তারা তাদের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রত্নতাত্ত্বিক জায়গা ও জাদুঘর দেখার জন্য ভ্রমণ করে। সম্প্রতি সাগর ঢাকার একটি জাদুঘর পরিদর্শন করে উপনিবেশিক আমলের জমিদার ও শাসকদের বিভিন্ন জিনিসপত্র দেখে। কামাল ঢাকার বাইরে একটি ঐতিহাসিক জায়গায় যায় যা প্রাচীনকালে ব্যবসায় বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত ছিল। সেখানকার ভবনগুলোর ভগ্ন অবস্থা দেখে সে ব্যথিত হয়। কামাল মনে করে, "এই ভবনগুলো আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে জড়িত। তাই এগুলো সংরক্ষণ করা আমাদের উচিত।"

তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন জাদুঘরটি সাগর পরিদর্শন করে? ব্যাখ্যা কর।

আমার পাঠ্যবইয়ের ঢাকাস্থ জাতীয় জাদুঘরটি সাগর পরিদর্শন করে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত সাগর ঢাকার যে জাদুঘরটি পরিদর্শন করে সেখানে ঔপনিবেশিক আমলের জমিদার ও শাসকদের বিভিন্ন জিনিসপত্র সংরক্ষিত ছিল। অনুরূপভাবে, ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরেও বাংলার নবাব, জমিদার ও ইংরেজ শাসনকালের বেশকিছু প্রত্নসম্পদ সংরক্ষিত আছে। এসব প্রত্নসম্পদের মধ্যে দিনাজপুরের মহারাজার বাবহার করা দ্রব্য ও হাতির দাঁতের কারুকাজ করা শিল্পদ্রব্য রয়েছে। আরও আছে বলধার জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর পোশাক, হাতির দাঁতের নানা কারুকাজ করা দ্রব্য ও ঢাক-তলোয়ার প্রভৃতি। ইংরেজ শাসনামলের বিভিন্ন অস্ত্র, ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এই জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। জাদুঘরের এসব নিদর্শনসমূহ আমাদেরকে অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। তাই বলা যায়, ঢাকায় সাগরের পরিদর্শনকৃত জাদুঘরটি ছিল জাতীয় জাদুঘর। এ জাদুঘরে জমিদার ও ইংরেজ শাসনামলের প্রত্ননিদর্শন ছাড়াও বাংলাদেশের লোকজ কৃষ্টি, সংস্কৃতি নানা উপাদানও সংরক্ষিত আছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

প্রত্নতত্ত্ব কী?

প্রত্নতত্ত্ব হলো অতীত যুগের মানুষের ব্যবহার্য দ্রব্যসামগ্রীর ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সে যুগের সংস্কৃতি সম্পর্কে অধ্যয়ন।

#

ঐতিহাসিক স্থানগুলো আমাদের ভ্রমণ করা উচিত কেন?

ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণের মাধ্যমে আমরা অতীতকালের মানুষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস, সংস্কার, বুচি বা দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারি। এর ফলে আমাদের অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানলাভ হয়। এজন্য ঐতিহাসিক স্থানগুলো আমাদের ভ্রমণ করা উচিত।

#

কামাল যে জায়গাটি পরিদর্শন করেছে তা চিহ্নিত করে তার উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

কামাল যে জায়গাটি পরিদর্শন করেছে তা হলো পানাম নগর। উদ্দীপকে কামাল ঢাকার বাইরের যে ঐতিহাসিক জায়গায় যায় তা প্রাচীনকালের ব্যবসায় বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত ছিল। সেখানকার ভবনগুলোর ভগ্ন অবস্থা দেখে সে ব্যথিত হয়। এজন্য কামাল মনে করে এ ভবনগুলো যেহেতু আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত, তাই এগুলো সংরক্ষণ করা, আমাদের উচিত।

উনিশ শতকে ধনী ব্যবসায়ীদের অনেকে বসবাসের জন্য সোনারগাঁওয়ের পানাম এলাকাটি বেছে নেন। পানাম নগর একসময় বাংলার বিখ্যাত মসলিন শাড়ি উৎপাদন ও ব্যবসায় কেন্দ্র ছিল। পানাম নগরের মূল সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে ৫১টি ইমারত আডও টিকে আছে। তবে প্রায় সবগুলো ইমারতই ভগ্ন অবস্থায় আছে এবং কয়েকটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। এসব ইমারতসহ প্রত্ননিদর্শনগুলো আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে জড়িত। তাই যদি এগুলো সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যায় তাহলে আমরা আমাদের অতীত পরিচয়ই, হারিয়ে ফেলব। আর তাই এই প্রত্ননিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করা আমাদের উচিত। অতএব উদ্দীপকের কামালের উক্তিটি যথার্থ।