• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • ঔপনিবেশিক যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য
ঔপনিবেশিক যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনাব 'প' বার্ষিক শিক্ষা সফরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করে। এর মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশের। প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে জড়িত একটি উদ্যানও রয়েছে। এছাড়া জাতীয় জাদুঘরের বিভিন্ন প্রত্নসম্পদ তাদেরকে বেশ মুগ্ধ করেছে।

লোকশিল্প জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?

লোকশিল্প জাদুঘর সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

দিঘাপতিয়ার বাড়িটি বিখ্যাত কেন?- ব্যাখ্যা কর।

চমৎকার স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের বিচারে দিঘাপতিয়ার জমিদার বাড়িটি বিখ্যাত। রাজা দয়ারাম রায় এটি নির্মাণ কাজ শুরু করেন এবং প্রমদানাথ রায় এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন। দেশবিভাগের পর রাজারা ভারত চলে গেলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আব্দুল মোনায়েম খান এটিকে দিঘাপতিয়ার গভর্নরের বাসভবন হিসেবে উদ্বোধন করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এটিকে উত্তরা গণভবন নামে ঘোষণা করা। অনন্য স্থাপত্যকর্ম ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক দিয়ে এ ভবনটি বিখ্যাত।

#

উদ্দীপকে বর্ণিত উদ্যানটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে বর্ণিত উদ্যানটি হলো ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক। এ উদ্যানটির রয়েছে ঐতিহাসিক এক প্রেক্ষাপট। উনিশ শতকের মাঝামাঝি ঢাকায় নওয়াব আব্দুল গণি সদরঘাট এলাকায় একটি পার্ক তৈরি করেন। ব্রিটেনের রানি ভিক্টোরিয়ার নামে তিনি পার্কটির নামকরণ করেন ভিক্টোরিয়া পার্ক। এর পূর্বে এ জায়গাটির নাম ছিল আন্টাঘর ময়দান। আন্টাঘর ময়দান নামের সাথে জড়িয়ে রয়েছে ১৮৫৭ সালের প্রথম ভারতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর এদেশীয় সৈন্যরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করেন। ইংরেজরা একে বলে সিপাহি বিদ্রোহ। যুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যরা পরাজিত হয়। বিদ্রোহী সৈন্যরা যারা ঢাকায় ইংরেজদের হাতে বন্দি হন তাদের এ আন্টাঘর ময়দানে গাছের সাথে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেওয়া হয়। এ ঘটনার শত বছর পর ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতার জন্য জীবনদানকারী সৈনিকদের স্মৃতিতে এখানে নির্মিত হয় একটি স্মৃতিস্তম্ভ। ভারতবর্ষের শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের নামে পার্কটির নাম হয় বাহাদুর শাহ পার্ক।

#

"উদ্দীপকে বর্ণিত স্থাপনা ছাড়াও বাংলাদেশে আরও প্রত্নসম্পদ 'রয়েছে।" তুমি কি একমত? মতামত দাও।

হ্যাঁ, উদ্দীপকে বর্ণিত বাহাদুর শাহ পার্ক ছাড়াও বাংলাদেশে আরও প্রত্নসম্পদ রয়েছে- উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রত্নসম্পদে পরিপূর্ণ। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে চমৎকার সব স্থাপত্যশৈলী রয়েছে। আঠারো-উনিশ শতকে ঢাকা শহরে তৈরি হয় বেশ কয়েকটি গির্জা। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো হলো আর্মেনিয়ান গির্জা। এটি তৈরি হয় আরমানিটোলায় ১৭৮১ সালে। ঢাকার প্রাটীন স্থাপত্যকীর্তির আরেকটি বিখ্যাত নিদর্শন হলো বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ঢাকার নওয়াবদের প্রাসাদ আহসান মঞ্জিল।
এছাড়া জমিদার ও বণিকদের তৈরি পুরনো ঢাকার রূপলাল হাউজ এবং রোজ গার্ডেনও চমৎকার স্থাপত্যকর্মের নিদর্শন। অফিস বাড়ি হিসেবে ঢাকার যেসব ভবন তৈরি হয়েছিল তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে কার্জন হল। ইংরেজ আমলে তৈরি এ ভবনটি বহুকাল ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের অংশ ছিল। উদ্দীপকের জনাব 'প' শিক্ষাসফরে গিয়ে এসব প্রত্ননিদর্শন দেখতে যান। এছাড়াও ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জে রয়েছে সুলতানি আমলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত সোনারগাঁও। পানাম নগর ও লোকশিল্প জাদুঘরের জন্য এটি বিখ্যাত। মসলিন কাপড়ের জন্য বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে এটি প্রসিদ্ধ ছিল। এছাড়াও রয়েছে ময়মনসিংহের শশীলজ যা মুক্তাগাছার জমিদাররা তৈরি করেছিলেন। রংপুরের তাজহাট, নাটোরের দিঘাপতিয়ার জমিদার প্রাসাদ চমৎকার স্থাপত্যকর্মের জন্য সকলের। দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সকল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনই আমাদের ইতিহাসের সাক্ষী বহন করছে।

পরিশেষে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সঠিক হয়েছে।