• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • ঔপনিবেশিক যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য
ঔপনিবেশিক যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

লুনা বাবার সাথে ঢাকার কয়েকটি স্থান দেখতে যায়। প্রথমে সে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের একটি ভবন পরিদর্শন করে মুগ্ধ হয়। সেখানে পূর্বের শাসকদের ব্যবহৃত খাট-পালঙ্ক, সোফা দেখতে পায়। এরপর তারা সদরঘাট এলাকার একটি পার্কে যায়। পার্কটির সম্পর্কে বাবা বললেন, "এই পার্কটি ১৮৫৭ সালের ঐতিহাসিক। লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী"।

লুনার প্রথম দেখা স্থানের প্রত্ন নিদর্শন বর্ণনা কর।

উদ্দীপকে লুনার প্রথম দেখা স্থানটি হলো আহসান মঞ্জিল।

ঢাকার প্রাচীন স্থাপত্যকীর্তির বিখ্যাত নিদর্শন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ঢাকার নওয়াবদের তৈরি প্রাসাদ আহসান মঞ্জিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জালালপুর পরগনার জমিদার শেখ ইনায়েত উল্লাহ আহসান মঞ্জিলের বর্তমান স্থান রংমহল নামে একটি প্রমোদভবন তৈরি করেন। পরবর্তীতে খাজা আবদুল গণি ভবনটি ক্রয় করেন। তার পুত্র আহসানউল্লাহর নামানুসারে এই ভবনের নামকরণ করা হয় আহসান মঞ্জিল নামে। আহসান মঞ্জিলের প্রত্ননিদর্শনে বেশ সমৃদ্ধ। এখানকার যাদুঘরের ২৩টি গ্যালারিতে অসংখ্য নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়। নওয়াবদের ব্যবহৃত আসবাবপত্র, অস্ত্র ও বর্ম হাসপাতালে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি নাচের ঘর, লাইব্রেরি, খাবার ঘর, বিভিন্ন জীবজন্তুর শিং হাতির দাঁতের তৈরি বিরুনী বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যচিত্র প্রভৃতি এখানে বিদ্যমান। শুধু স্থাপত্য নিদর্শন বা প্রত্ন নিদর্শনের দিক থেকেই নয়, এই ভবন রাজনৈতিক অনেক অধ্যায়েরও সাক্ষী।

তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকের লুনার দেখা প্রথম স্থানটি আহসান মঞ্জিলই ছিল।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

অফিস বাড়ি হিসেবে তৈরি ঢাকার সবচেয়ে সুন্দরতম ভবন কোনটি?

অফিস বাড়ি হিসেবে তৈরি ঢাকার সবচেয়ে সুন্দরতম ভবন হলো কার্জন হল।

#

জাদুঘর কী? ব্যাখ্যা কর।

জাদুঘর বলতে বোঝায় এমন একটি ভবন বা প্রতিষ্ঠান যেখানে পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের সংগ্রহ সংরক্ষিত থাকে। বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত। এ জাদুঘরের গ্যালারিতে সারা দেশে প্রত্ননিদর্শনের সঙ্গে প্রদর্শন করা হয়েছে বাংলার নবাব, জমিদার ও ইংরেজ শাসনকালের বেশকিছু প্রত্নসম্পদ। এছাড়াও আমাদের দেশে অনেক আঞ্চলিক জাদুঘরও রয়েছে।

#

লুনার বাবার বক্তব্যটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

লুনার বাবার বক্তব্যটি ঐতিহাসিক বিচারে সত্য বলে বিবেচিত হয়। কেননা এ স্থানের সাথেই ১৮৫৭ সালের প্রথম ভারতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। ঢাকার পুরনো স্থাপত্যকর্মের মধ্যে সদরঘাট এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত বাহাদুর শাহ পার্কটি অন্যতম। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার নওয়াব আব্দুল গণি এ পার্ক তৈরি করে ব্রিটেনের রানির ভিক্টোরিয়ার নামে এর নাম দেন ভিক্টোরিয়া পার্ক। তার আগে এ জায়গাটির নাম ছিল আন্টাঘর ময়দান। এ আন্টাঘর ময়দানের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৮৫৭ সালের প্রথম ভারতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর এদেশীয় সৈন্যরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করে। ইংরেজরা একে বলে সিপাহি বিদ্রোহ। যুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যরা জিততে পারেননি। বিদ্রোহী সৈন্যদের যারা ঢাকায় ইংরেজদের হাতে বন্দি হন তাঁদের ইংরেজরা এই আন্টাঘর ময়দানে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে ফাঁস্ি দেয়। এ ঘটনার ঠিক একশো বছর পর ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতার জন্য জীবনদানকারী সৈনিকদের স্মৃতিতে এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয় এবং নামকরণ হয়, বাহাদুর শাহ পার্ক। এ ঐতিহাসিক লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী এই বাহাদুর শাহ পার্কটি। আর এ কথাটিই বলেছিলেন উদ্দীপকে উল্লিখিত লুনার বাবা।