• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • ঔপনিবেশিক যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য
ঔপনিবেশিক যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

আকরাম সাহেব থাকেন লালবাগ মসজিদের পাশে। ব্যবসায়ের কাজে একদিন তাকে যেতে হয় সূত্রাপুরে। সেখানে সিতারা বেগম মসজিদের গঠন কৌশলের সাথে লালবাগ মসজিদের মিল লক্ষ করেন। কাজ শেষে রিকশায় করে আসার সময় ঔপনিবেশিক যুগে তৈরি এরকম দেখতে অনেক মসজিদ খেয়াল করেন। বকশি বাজারের কাছে এসে শিয়া মুসলিমদের ইমাম বাড়া ভালো করে দেখার জন্য তিনি রিকশা ছেড়ে দেন।

আকরাম সাহেবের নিকট ইমামবাড়া দর্শনীয় স্থাপত্য হলেও শিয়া মুসলমানদের নিকট এটি ধর্মীয় গাম্ভীর্যের প্রতীক- যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।

ঢাকার বকশিবাজারের নিকট অবস্থিত ইমামবাড়া এখন একদিকে যেমন দর্শনীয় স্থাপত্য হিসেবে পরিচিত তেমনি অপরদিকে শিয়া মুসলমানদের নিকট এর ধর্মীয় মর্যাদা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্দীপকে উল্লিখিত আকরাম সাহেব যখন ঔপনিবেশিক যুগে তৈরি ইমামবাড়ার সামনে এসে পৌছেন তখন এর গঠন. সৌন্দর্য তাকে আকৃষ্ট করে স্থাপত্যটি ভালো করে দেখার জন্য। অর্থাৎ দর্শনীয় স্থাপত্য হিসেবে এখানে আকরাম সাহেবের মতো অনেক লোকেরই আগমন ঘটে থাকে। তবে শিয়া মুসলমানদের নিকট ইমামবাড়া মুঘল যুগ থেকেই অধিক মর্যাদাপূর্ণ স্থান। মুঘল যুগে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেও ১৮৯৭ সালে এক প্রচন্ড ভূমিকম্পে এ ভবনটি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে ঔপনিবেশিক আমলে ঢাকার নবাব আহসান উল্লাহ ইমামবাড়াকে সম্পূর্ণ নতুন করে তৈরি করে দেন। তখন থেকে এটি ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিতি পায়। কিন্তু শিয়া মুসলমানদের নিকট এ ইমামবাড়া মুঘল আমলে যেমন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মর্যাদাপূর্ণ ছিল এখনও তা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, আকরাম সাহেবের নিকট ইমামবাড়া দর্শনীয় স্থাপত্য হলেও শিয়া মুসলমানদের নিকট এটি ধর্মীয় গাম্ভীর্যের প্রতীক।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

উত্তরা গণভবন কোথায় অবস্থিত?

নাটোরের দিঘাপতিয়ায় 'উত্তরা গণভবন' অবস্থিত।

#

ধর্মীয় স্থাপত্য বলতে কী বোঝায়-ব্যাখ্যা কর।

ধর্মীয় কার্য সম্পাদনের জন্য যে স্থাপত্য নির্মাণ বা তৈরি করা হয় তাকে ধর্মীয় স্থাপত্য বলে। ঔপনিবেশিক যুগে ঢাকা শহরের বেশ কয়েকটি ধর্মীয় ইমারত নির্মাণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে মসজিদ, মন্দির ও গির্জা। মসজিদ ও গির্জা এ যুগে নির্মিত হলেও 'ঢাকা শহরের উল্লেখযোগ্য মন্দিরগুলো ঔপনিবেশিক যুগের আগেই নির্মিত হয়েছিল। ঔপনিবেশিক যুগে এর কোনোটি নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে।

#

আকরাম সাহেবের দেখা মসজিদগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঢাকা শহরের ঔপনিবেশিক যুগে তৈরি মসজিদগুলোর বর্ণনা দাও।

আকরাম সাহেবের দেখা মসজিদগুলো ঔপনিবেশিক যুগে তৈরি হওয়ায় সেগুলো ঢাকা শহরের অন্যান্য ঔপনিবেশিক আমলের মসজিদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঔপনিবেশিক যুগে ঢাকা শহরে অনেক মসজিদ নির্মিত হয়েছে। মুঘল যুগে তৈরি মসজিদের নির্মাণরীতিতেই এসব মসজিদ গড়া হতো। এর মধ্যে কিছুটা ইউরোপের ইমারত নির্মাণের ধরন যুক্ত হয়েছে। যেমন-ছাদের নিচে লোহা বা কাঠের বিম ব্যবহার করা হয়েছে। বারান্দা, জানালা প্রভৃতি স্থানে লোহার গ্রিল, রেলিং ইত্যাদি যুক্ত হয়েছে। ব্যাপকভাবে মোজাইকের ব্যবহার করা হয়েছে। উনিশ শতকের নির্মিত মসজিদগুলোর বর্তমানে পুরনো ঢাকার নির্মিত মসজিদগুলো হচ্ছে- লালবাগের (হরনাথ ঘোষ রোড) মসজিদ, লক্ষ্মীবাজার শাহী মসজিদ, সূত্রাপুরের কলুটোলা জামে মসজিদ, বেচারাম দেউড়ি মসজিদ, কায়েতটুলি মসজিদ, সূত্রাপুরের সিংটোলার সিতারা বেগম মসজিদ। লক্ষ্মীবাজারে ১৮২৫ সালে তৈরি একটি মসজিদের আদি নাম ছিল মিয়া সাহেব ময়দান মসজিদ, পরে এর নামকরণ করা হয় 'চিনি টিকরি মসজিদ'। চিনামাটির ভাঙা টুকরো দিয়ে মোজাইক করা হয়েছিল বলে মানুষের মুখে মুখে তা চিনি টিকরি মসজিদ পরিচিতি লাভ করে।